Monday, February 2, 2026

দুর্নীতি মামলা থেকে অভিজিৎ গাঙ্গুলির অপসারণ: সুপ্রিম রায়কে স্বাগত জানালেন অভিষেক

Date:

Share post:

নিয়োগ দুর্নীতির সবকটি মামলা থেকে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে(Abhijit Ganguly) সরানোর নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত(Supreme Court)। শুক্রবার সুপ্রিমকোর্টের এই নির্দেশকে স্বাগত জানালেন তৃণমূলের(TMC) সর্বভারতীয় সাধারন সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhisekh Banerjee)। এদিন উত্তরবঙ্গে দলীয় কর্মসূচি চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, “দেশের বিচার ব্যবস্থার উপর আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি জানান, “ভোটে লড়াই করতে না পেরে বিজেপি বিচারব্যবস্থার অল্প কয়েকজনকে কাজে লাগাচ্ছে। দু’ বছরে ২৬টি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” যদিও বিচারাধীন বিষয় নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না বলে এদিন জানান।

গত সোমবারই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চে অভিযোগ উঠেছিল, কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় শিক্ষক নিয়োগে নিয়োগের দুর্নীতির মামলা শোনার সময় সেই মামলা নিয়ে টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি জানান, বিচারপতিরা কোনও ভাবেই তাঁদের বিচারাধীন বিষয় নিয়ে টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে পারেন না। উনি যদি সাক্ষাৎকার দিয়ে থাকেন, তা হলে তিনি ওই মামলা শোনার অধিকার হারিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে নতুন কোনও বিচারপতিকে দায়িত্ব দিতে হবে। শুক্রবার সেই মর্মেই রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চ থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত সবকটি মামলা সরিয়ে দেওয়া হল। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে এই সংক্রান্ত নির্দেশ পাঠিয়েছে।

সুপ্রিম নির্দেশের পর এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই মামলায় আমি পিটিশনার ছিলাম। সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট সংক্রান্ত সমস্ত আদালতের মতকেই মর্যাদা দিয়ে চলি। অভিষেক এদিন বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বা অন্য বিষয়ে তৃণমূলের কোনও নেতা বা মন্ত্রী বা কর্মীর বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ থাকে তা হলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। এর সঙ্গেই তিনি যোগ করেন, “বিজেপি রাজনৈতিক ভাবে বাংলায় পেরে উঠছে না। তাই বিচার ব্যবস্থার আশ্রয় নিয়েছে। বিচারব্যবস্থার এক-দু’জনকে কাজে লাগিয়ে তারা বাইশ মাসে তেইশটা সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এ মাসে আরও তিনটে মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ২৪ মাসে ২৬ টি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, বেছে বেছে এক বা দুজন বিচারপতি এগুলো করছেন। এই মামলাগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গেলে, সর্বোচ্চ আদালত তা খারিজ করে দিচ্ছে। মানুষও দেখুক আসলে কী হচ্ছে।

spot_img

Related articles

অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশের জন্য শুরু হচ্ছে সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশন

রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশন মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে (West Bengal Assembly)। তিন দিনের এই সংক্ষিপ্ত অধিবেশনে আসন্ন...

উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ুয়াদের স্বস্তি, সেমেস্টারে বাড়ছে বিকল্প প্রশ্নের সংখ্যা 

উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যক্রমে আমূল পরিবর্তনের পর এবার পরীক্ষার্থীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর শোনাল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। আগামী...

এরকম মিথ্যাবাদী-উদ্ধত নির্বাচন কমিশন দেখিনি! জ্ঞানেশের বৈঠক বয়কট করে তীব্র আক্রমণ মমতার

"এরকম মিথ্যাবাদী কমিশন আমি কখনও দেখিনি। বহুদিন রাজনীতি করেছি, এরকম ঔদ্ধত্য আগে দেখিনি আমি।" সোমবার, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার...

মাধ্যমিক পরীক্ষার মাঝেই স্কুলে গ্যাস সিলিন্ডারে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ, প্রশংসনীয় পুলিশি পদক্ষেপ

পুলিশি তৎপরতায় মাধ্যমিক পরীক্ষার (Madhyamik Examination) প্রথম দিনেই বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল পরীক্ষার্থীরা। তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের নাককাটি...