Sunday, January 11, 2026

ঘরের ভেতর দম্পতির প*চা গ*লা দে*হ ,পাশে জীবিত চার বছরের শিশু! তাজ্জব পুলিশ

Date:

Share post:

তিনদিন ধরে বাড়ির বাইরে কেউ বের হননি।দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দিয়েছিলেন প্রতিবেশিরা। পুলিশ এসে তালা ভেঙে তাজ্জব। দেখেন, ঘরের ভিতরে পাশাপাশি পড়ে আছে স্বামী-স্ত্রীর পচা-গলা দেহ। আর তার পাশেই জীবিত অবস্থায় আছে মাত্র ৪ দিন বয়সী এক নবজাতক। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনে। মৃত দম্পতির নাম কাশিফ এবং আনম ।

জানা গিয়েছে, তাদের আদি বাড়ি
উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলার চাহলোলিতে। দেরাদুনের ওই বাড়িটিতে তাঁরা ভাড়া থাকতেন। স্বামী-স্ত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে নবজাতক শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এটি খুন না কোনও কারণে দম্পতি একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল আনম এবং কাশিফের দেহ। দেহগুলিতে পচন ধরতে শুরু করেছিল। আর ঘরের মেঝেতে জমাট বেঁধে ছিল প্রচুর রক্ত। এরপর পুলিশের চোখ গিয়েছিল ঘরের অন্য প্রান্তে। সেখানে নেতিয়ে পড়ে ছিল একটি ৪-৫ দিনের নবজাতক। পুলিশ প্রথমে মনে করেছিল, শিশুটিরও মৃত্যু হয়েছে। পরে দেখা যায় সে বেঁচে আছে ঠিকই, কিন্তু, বেশ কয়েকদিন অভুক্ত থাকায় মৃতপ্রায়। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য দুন হাসপাতালে পাঠায়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে।প্রাথমিক তদন্তের পর ফরেনসিক দল জানিয়েছে, আমন এবং কাশিম – কারও দেহেই কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। তাহলে ঘরে যে জমাট বাঁধা রক্ত পড়ে রয়েছে, তা কোথা থেকে এল? এই বিষয়টি পুলিশ এবং ফরেনসিক দলের কাছে এখনও রহস্য। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে এই রহস্যজনক জোড়া মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। তাতে এই রহস্যের জাল অনেকটাই কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই রহস্যের সমাধানে, কাশিফদের প্রতিবেশী এবং তার বাড়ির লোকজনদের সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মাস চারেক আগেই ওই বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন কাশিফ ও তার স্ত্রী আনম। বাড়িটির মালিক সোহেলকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
অন্যদিকে, কাশিফের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, আনমের আগেও একবার বিয়ে করেছিলেন তিনি। তাঁর প্রথম স্ত্রী নুসরত তাঁদের পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকেন। নুসরতের সঙ্গেও ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে পুলিশ।তিনি জানিয়েছেন, কাশিফ এবং আনমের বিয়ে হয়েছিল এক বছর আগে। তারপর থেকেই তিনি আলাদা থাকেন। কাশিফের সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়েছিল ১০ জুন রাত ১১টা নাগাদ। কাশিফ তাঁকে জানিয়েছিল, ১১ জুন তিনি চাহলোলির গ্রামে ফিরবেন। একজনের থেকে তিনি ৫ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন, সেই টাকা ফেরত দিতে যাবেন। তাই নুসরতকে ওই দিন গ্রামের বাড়িতে আসতে বলেছিল সে। কিন্তু, ১১ জুন কাশিফ গ্রামে ফেরেনি, তারপর থেকে নুসরতের ফোনও ধরেননি। এমনকি, তাদের দেরাদুনের বাড়িতেও গিয়েছিলেন তিনি। তালাবন্ধ দেখে ফিরে এসেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে এই জোড়া মৃত্যু রহস্য নিয়ে এখনও ধন্দে পুলিশ।

spot_img

Related articles

ফলতায় সেবাশ্রয়-২ শিবির পরিদর্শনে অভিষেক

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) উদ্যোগে ডায়মন্ড হারবারের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে একমাসেরও বেশি সময় ধরে সেবাশ্রয়-২ স্বাস্থ্যশিবিরে উন্নত...

শুধু বাংলা নয়, কমিশনের ‘উদ্ভাবনী’ SIR-ভোগান্তিতে গোয়া: শুনানির নোটিশ নৌসেনা প্রধানকে

শুরু থেকেই SIR প্রক্রিয়া নিয়ে ভোগান্তির আর শেষ নেই! সাধারণ ভোটারদের ভোগান্তির অভিযোগ নতুন নয়, তবে এবার সেই...

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলায় কড়া নজর কমিশনের! প্রথম রিপোর্টেই শুভেন্দু-চম্পাহাটি প্রসঙ্গ

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কেমন, তা নিয়ে প্রতি সপ্তাহে এবার সরাসরি রিপোর্ট নেবে নির্বাচন কমিশন। বছরের শুরুতেই...

নতুন বছরে পর্যটকদের বড় উপহার, ফের চালু দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের জঙ্গল সাফারি

নতুন বছরের শুরুতে পাহাড়প্রেমী পর্যটকদের জন্য খুশির খবর শোনাল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের...