Wednesday, February 25, 2026

কেন্দ্রের লাগাতার বঞ্চনা সত্ত্বেও শহরাঞ্চলে আবাস যোজনা প্রকল্পে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় বাংলা

Date:

Share post:

লাগাতার বঞ্চনা। আবাস যোজনায় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েও কোনও অনিয়ম পাইনি কেন্দ্র। তা সত্ত্বেও আটকে রেখেছে গরিব মানুষের মাথা গোঁজার ঠাইয়ের টাকা। তারপরেও শহরাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্প রূপায়ণে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। কেন্দ্রীয় আবাসন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে অর্থাৎ জানুযারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে রাজ্যের শহরাঞ্চলে আবাস যোজনার ৮৪৪ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। যার মধ্যে রাজ্যের পুর এলাকায় ৫০০ কোটির বেশি টাকা উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি জমা করা হয়েছে।

আবাস যোজনা প্রকল্পে সারাদেশে শহরাঞ্চলে প্রথম স্থানে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ (Andra Pradesh) ও মধ্যপ্রদেশ (Madyapradesh)। বাংলার চেয়ে বহুগণ বড় বিজেপির ডবল ইঞ্জিনের উত্তরপ্রদেশও এই প্রকল্পে বাংলার সমান ৫০০ কোটি খরচ করতে পেরেছে। এই নিয়ে কেন্দ্রকে একহাত নিয়েছেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর কথায়, “গোটাটাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফল্য। ওঁনার দেখানো পথে হেঁটে স্বচ্ছতার সঙ্গে সকলের জন্য বাড়ি প্রকল্পে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশের মধ্যে আমরা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছি। কেন্দ্রীয় সরকার স্রেফ সস্তা রাজনীতির জন্য গ্রামীণ এলাকায় এই প্রকল্পের টাকা প্রায় এক বছর বন্ধ করে রেখেছে। একাধিক কেন্দ্রীয় টিম এসেও দুর্নীতির অভিযোগের সারবত্তা খুঁজে পায়নি। আমার স্থির বিশ্বাস, গ্রামাঞ্চলেও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ হয়েছে। মানুষের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখে যে পাপ মোদি সরকার করছে, তার উপযুক্ত জবাব জনগণ দেবে। পঞ্চায়েত আর লোকসভা দুটি নির্বাচনের যোগ্য জবাব পাবে বিজেপি আর নরেন্দ্র মোদির সরকার।“

আরও পড়ুন- পটাশপুরে বো.মা বাঁধতে গিয়ে বি.স্ফোরণ! পলাতক জ.খম নির্দল সমর্থক

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির জন্য খরচ জোগাতে হয় কেন্দ্র, রাজ্য ও উপভোক্তাকে। ৫ লাখের বেশি জনসংখ্যার পুর এলাকায় এই বাড়ি তৈরির জন্য উপভোক্তাকে ৩৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার দেয় দেড় লক্ষ টাকা। বাড়ি প্রতি ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা দিতে হয় রাজ্য সরকারকে। গত মে’মাস পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের পুর এলাকাগুলিতে মোট ৭৮ হাজার বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। যার মধ্যে ২১ হাজার বাড়ির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গকেই সেরার তালিকায় জায়গা দিতে বাধ্য হয় মোদি সরকার। তা সত্ত্বেও বঙ্গ বিজেপির নেতারাই দিল্লিতে গিয়ে বাংলার প্রাপ্য আটকে দেওয়ার জন্য দরবার করেন। তাঁদের উস্কানিতে বারবার কেন্দ্রীয় দল তদন্ত করতে এসে রাজ্যকে ক্লিনচিট দেয়। তার পরেও দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্য বাংলায়, যে বকেয়া পায় না। পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই আচারণ বলে অভিযোগ বাংলার শাসকদলের। একপরেও কী বাংলাকে তার ন্যায্য প্রাপ্য দেবে না কেন্দ্র- এখন এটাই প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলের।

 

spot_img

Related articles

সিইও দফতরে ধুন্ধুমার! বিজেপির ‘লুম্পেন’দের তাণ্ডবের অভিযোগে সরব তৃণমূল

মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। বিজেপির বিরুদ্ধে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে...

ডিজিপি পদে পদোন্নতি জাভেদ শামিমের, জোড়া দায়িত্বেই আস্থা নবান্নের

রাজ্য পুলিশের অন্দরে বড়সড় রদবদল। পদোন্নতি হল আইপিএস অফিসার জাভেদ শামিমের। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে জারি করা...

কপিল-সানিদের চিঠির পরই তৎপরতা, ইরমানের চিকিৎসায় অসন্তুষ্ট পরিবার

ইমরান খানের(Imran Khan) সুচিকিৎসার জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন বিশ্বক্রিকেটের ১৪ জন প্রাক্তন অধিনায়ক।...

ফেডারালিজমকে ক্ষতবিক্ষত করছে কেন্দ্র! সুকান্তকে প্রশ্ন বাণে বিদ্ধ করে কটাক্ষ ব্রাত্যর

সমগ্র শিক্ষা মিশনের কোটি কোটি টাকা আটকে রেখেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সেই এবার সেই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী...