Monday, February 9, 2026

স্কুলের ৫ তলা বারান্দা থেকে ফেলা হল পুতুল! কসবায় ছাত্রমৃ*ত্যুর পুনর্নির্মাণে ফরেন্সিক টিম

Date:

Share post:

কসবায় বেসরকারি স্কুলের দশম শ্রেণির পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় ৩০২ ধারায় খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্কুলের অধ্যক্ষ সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত। ১২০ (বি) ধারায় ষড়যন্ত্রের মামলাও দায়ের। দশম শ্রেণির ছাত্রের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় মৃতের বাবা স্কুলের বিরুদ্ধে কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। স্কুলের অধ্যক্ষ, সহ-অধ্যক্ষ ও ২ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। ষড়যন্ত্র করে তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, ৫ তলা থেকে পড়ে কীভাবে মৃত্যু পড়ুয়ার? কসবাকাণ্ডের পুনর্নির্মাণ করা হল। উপর থেকে পুতুল ফেলার পাশাপাশি বারান্দার রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে নিজের শরীর গলিয়ে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখলেন ফরেনসিক টিমের এক সদস্য। দড়ি দিয়ে মাপা হল দূরত্ব।

উপর থেকে পড়েই যে ওই পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কার্যত নিশ্চিত তদন্তকারীরা। কিন্তু কীভাবে সে পড়ে গেল ? সিসিটিভি ফুটেজে স্কুলের ৫ তলার বারান্দায় একাই হাঁটতে দেখা গিয়েছে ওই পড়ুয়াকে। সঙ্গে আর কেউ ছিল না। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ৫ তলার বারান্দা যে জায়গা থেকে ওই পড়ুয়া পড়ে যায়, সেই জায়গায় রেলিংয়ে একটি ফাঁক রয়েছে। সেই ফাঁক গলে কারও পক্ষে নিচে ঝাঁপ দেওয়া সম্ভব কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হয়।

যাদবপুরের পর কসবা। বেসরকারি স্কুলের পাঁচতলা থেকে পড়ে দশম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সোমবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় কসবা এলাকায়। পরিবারের অভিযোগ, সময় মতো প্রজেক্ট জমা করতে না পারায় ওই ছাত্রের উপর মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, মৃত ছাত্রের নাম শেখ শান। সোমবার তার প্রজেক্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। প্রজেক্টের খাতা সে নিয়ে যায়নি। যার জেরে ক্লাসের দুই শিক্ষিকা তাকে শাস্তি দেন বলে অভিযোগ। এরপর সে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। সোমবার দুপুরে ওই ছাত্রকে গুরুতর আহত অবস্থায় দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

এই ঘটনায় স্কুলের নিরাপত্তা নিয়েও।প্রশ্ন উঠছে। ছাত্রের বাবা অভিযোগ, সোমবার প্রজেক্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। দিতে পারেনি বলে, ওকে বকাবকি করেন শিক্ষকরা। কান ধরে দাঁড় করিয়েও রাখা হয়েছিল সবার সামনে। ও অপমানিত বোধ করেছিল। ওই ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ, কেন স্কুলের নিরাপত্তারক্ষীরা ছাত্রের গতিবিধির দিকে নজর রাখল না। মৃত ছাত্রের বাবার আরও চাঞ্চল্যকর দাবি, পাঁচতলা থেকে পড়ে তাঁর ছেলের মৃত্যু হলেও শরীরের কোনও হাড় ভাঙেনি। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

spot_img

Related articles

বেআইনি মদের কারবারে বাজেয়াপ্ত গাড়ি নিলামে বিপুল আয়, কোষাগার ভরছে আবগারি দফতরের 

বেআইনি মদের কারবারে ব্যবহৃত বাজেয়াপ্ত গাড়িগুলিকে দ্রুত নিলামে তুলে রাজ্যের আয় বাড়ানোর পথে হাঁটল আবগারি দফতর। সংশোধিত আবগারি...

ফের অতিরিক্ত কাজের চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা BLO-এর

ফের অতিরিক্ত চাপের কারনে আত্মহত্যা চেষ্টা বিএলও-এর। স্কুল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় নিশ্চিত মৃত্যুর থেকে বেঁচে গেছেন তিনি। আপাতত বনগাঁ...

চক্ষুদান ঘিরে বিতর্ক, নথি থাকা সত্ত্বেও গ্রেফতার স্কুলশিক্ষক

নদিয়ার(Nadia) কোতোয়ালি(Kotowali) থানা এলাকায় চক্ষুদানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মৃত মায়ের চোখ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে...

ফুটবল মাঠে সাফল্য অব্যাহত, কলকাতাকে বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন অ্যাডামাস

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে সর্বভারতীয় ইন্টার ইউনিভার্সিটি ফুটবল টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটি(Adamas University)। আজ আনন্দপুরের হেরিটেজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি...