রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর(Droupadi Murmu) আমন্ত্রণ পত্র থেকে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল তা এবার জায়গা করে নিল জি২০-র উদ্বোধনী মঞ্চেও। শনিবার জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী মঞ্চের পোডিয়ামে দেখা গেল দেশের নাম ‘ইন্ডিয়া’র(India) পরিবর্তে ইংরেজিতে লেখা হয়েছে ‘ভারত’(Bharat)। স্বাভাবিকভাবেই দেশের নাম বদলের যে জল্পনা উঁকি দিচ্ছিল এতদিন, তা এবার বিশ্বাসের জায়গা নিল। অন্যদিকে, এই উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi) বার্তা দিলেন, “অতিমারি পরবর্তী বিশ্বে ঘুণ ধরেছে বিশ্বাসে। ইউক্রেন(Ukrine) যুদ্ধ সেই আস্থাহীনতারই পরিণতি। আমাদের এই আবহ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।”


জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে আগত বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের কাছে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পাঠানো নৈশভোজের যে আমন্ত্রণপত্র ঘিরে বিতর্কের সূচনা, শনিবার রাতেই তার আয়োজন। এই আমন্ত্রণ পত্রে লেখা হয়েছিল ‘প্রেসিডেন্ট অফ ভারত’। সাধারণত ভারতের রাষ্ট্রপতি কাউকে কোনও চিঠি লিখলে তাতে চিরাচরিত ভাবে লেখা থাকে ‘প্রেসিডেন্ট অফ ইন্ডিয়া’ কথাটি। তবে সেই ধারায় প্রথম ব্যতিক্রম ঘটে এখানেই। স্বাভাবিকভাবে জল্পনা শুরু হয়, বিরোধীদের মহাজোট INDIA আতঙ্কেই এবার দেশের নাম বদলের পথে হাঁটছে মোদি সরকার। তবে চিঠিই শেষ নয়, দেশের নাম যে নিশ্চিতভাবে বদল ঘটছে কার্যত তা স্পষ্ট করে এবার জি২০-র উদ্বোধনী মঞ্চের পোডিয়ামে লেখা হল ভারত। এছাড়াও গত মঙ্গলবার মোদির ইন্দোনেশিয়া সফরের সূচি এক্স-এর হ্যান্ডলে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে মোদির পদ লেখা হয়, ‘প্রাইম মিনিস্টার অফ ভারত’।
এদিকে শনিবার নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের ভারত মণ্ডপম কনভেনশন সেন্টারে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বকে বার্তা দেন, আস্থাহীনতা, অবিশ্বাস কাটিয়ে পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনার। জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চেই ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধানের মতোই আফ্রিকান ইউনিয়নের সভাপতিকে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার জন্য সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “একুশ শতক বিশ্বকে নতুন দিশানির্দেশ দেওয়ার শতক। নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমাদের পুরনো সমস্যাগুলির সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। যখন আমরা কোভিডকে পরাজিত করতে পেরেছি তখন আমরা এই আস্থার ঘাটতির সঙ্কটের বিরুদ্ধেও জয়ী হতে পারব।” তিনি বলেন, “সবকা সাথ সবকা বিকাশ মন্ত্রেই আস্থাহীনতার সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হবে আমাদের।”














