Thursday, June 18, 2026

অষ্টম শ্রেণি থেকেই সেমেস্টার! কেন্দ্রের পথে না হেঁটে ‘নয়া’ শিক্ষানীতি চালু রাজ্যের

Date:

Share post:

এক পথে না হেঁটে, একই মানের কিন্তু একটু অন্য পথে হাটল বাংলা। ফলে জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy) সম্পূর্ণ না মানলেও জাতীয় শিক্ষানীতির ‘বেস্ট প্র্যাকটিসেস’ (Best Practices) নিয়ে, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে নতুন শিক্ষানীতি চালু করল রাজ্য। ১৬৩ পাতার রাজ্য শিক্ষানীতি বলবৎ হবে এ রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে। গ্যাজেট নোটিফিকেশন (Gazette Notification) করে শনিবার থেকেই রাজ্য শিক্ষানীতি বলবৎ শুরু করে দিচ্ছে শিক্ষা দফতর। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আগেই জানিয়েছিলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি থেকে ‘বেস্ট প্র্যাকটিসেস’ বেছে নিয়ে তৈরি হয়েছে এই রাজ্য শিক্ষানীতি।

তবে ১৭৮ পাতার এই শিক্ষানীতিতে অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির ছায়া থাকলেও বেশ কিছু মৌলিক বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এক পথে না হেঁটে, একই মানের অন্য পথে হাটল বাংলা। ফলে জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পূর্ণ না মানলেও জাতীয় শিক্ষানীতির ‘বেস্ট প্র্যাকটিসেস’ টুকু নিয়ে, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে নতুন শিক্ষানীতি চালু করল রাজ্য। ১৬৩ পাতার রাজ্য শিক্ষানীতি বলবৎ হবে এই রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে। নয়া শিক্ষানীতিতে স্কুল স্তরের শিক্ষায় অঙ্গনওয়াড়ি শিক্ষাকেন্দ্রে পড়াশোনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মাতৃভাষায় পড়াশোনার পাশাপাশি প্রথম শ্রেণি থেকে বাংলা ভাষা সম্পর্কে পড়ুয়াদের মধ্যে ধারণা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, নতুন রাজ্য শিক্ষানীতিতে অষ্টম শ্রেণি থেকে উঁচু শ্রেণিতে পরীক্ষার সেমেস্টার ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু রাজ্যের শিক্ষানীতিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকছেই। পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিকে এমসিকিউ ধাঁচে প্রশ্নপত্র হবে। সেখানে সেমেস্টার ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে শিক্ষানীতিতে। এছাড়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরির প্রথম পাঁচ বছর গ্রামাঞ্চলে কাজ করা বাধ্যতামূলক। তাঁদের জন্য নয়া পদোন্নতি নীতি চালু করার কথা বলা হয়েছে।

তবে স্নাতক স্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতিতে চার বছরের পাঠ্যক্রম চালু করার কথা বলা হয়েছে। রাজ্য সরকার সেই নীতি মেনেই চলতি বছর থেকে চার বছরের স্নাতক পাঠ্যক্রম চালু করেছে। এর কারণ হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এটা না করলে আমাদের ছেলেমেয়েরা সর্বভারতীয় স্তরে পিছিয়ে পড়ত। রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, তারা কেন্দ্রের চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষানীতি মানবে না। তাই তারা নিজেদের শিক্ষানীতি তৈরি করার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটির সুপারিশ মেনেই তৈরি হয়েছে রাজ্যের নয়া শিক্ষানীতি। আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজ্যের তৈরি শিক্ষানীতির উপর ভিত্তি করে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলে শিক্ষা দফতরের তরফে সাফ জানানো হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

Related articles

লড়াই এবার প্রকাশ্যে, ক্রীড়ামন্ত্রীকে অভিষেকের পাল্টা চিঠি সৌরভের

  বুধবার ইন্দ্রনীল খাঁ-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়(Sourav Ganguly)। বুধবার নব মহাকরণে ক্রীড়া দফতরে যান সৌরভ,...

আচমকা মমতার ২০ বছরের পিএসও বদল! বিস্ফোরক অভিযোগ ডেরেক ও’ব্রায়েনের

বুধবার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে তৈরি হল এক নজিরবিহীন ও চূড়ান্ত নাটকীয় পরিস্থিতি। খোদ তৃণমূল...

যোগ দিবসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক কেন? রেড রোড বন্ধ নিয়েও মামলা হাই কোর্টে

২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহল। ওই দিন কলকাতার রেড রোডে...

বিরোধী দলনেতা নিযুক্তি মামলা, ফের বিচারপতির প্রশ্নবাণে নাজেহাল স্পিকার

বুধবার শেষ হল তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করা নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে...