Friday, June 12, 2026

রাস্তা ফেরত চেয়ে ‘সুর নরম’! ফের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি বিশ্বভারতীর উপাচার্যের

Date:

Share post:

সদ্য হেরিটেজ তকমা পেয়েছে শান্তিনিকেতন (Shantiniketan)। আর তারপরই শুরু হয়েছে নতুন তরজা। এক সপ্তাহের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) পরপর দুটি চিঠি দিলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। তবে মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দিতে কখনোই পিছপা হন না আরএসএস-র (RSS) পোস্টার বয় (Poster Boy) তথা বিশ্বভারতীর (Visva Bharati) উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী (Bidyut Chakraborty)। তবে আগেরবারের থেকে এবার অনেকটাই সুর নরম। রাজ্যু সরকারের পূর্ত বিভাগের রাস্তা বিশ্বভারতীকে ফেরত না দিতে অনুরোধ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্রমিকদের আপত্তি চিঠি পৌঁছনোর খবর পেয়ে উপাচার্য এবার অনুনয় বিনয় করে চিঠি পাঠালেন। শনিবার এই মর্মে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চিঠি পাঠিয়ে উপাচার্য বলেন, সর্বেক্ষণ বিভাগের নির্দেশ ক্রমে শান্তিনিকেতন শ্রীনিকেতন রোডের নিয়ন্ত্রণ বিশ্বভারতীর হাতে না দিলে অনিয়ন্ত্রিত ভারি যানচলাচলে উপাসনাগৃহ সহ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি, উপাসনাগৃহের কাছে টোটোর দাপটে মন্দিরের শান্তি বিনষ্ট হচ্ছে।

আর এমতাবস্থায় ওই রাস্তার নিয়ন্ত্রণ বিশ্বভারতী ফিরে না পেলে “ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ” তকমা হারাবে শান্তিনিকেতন। সেক্ষেত্রে শুধু বিশ্বভারতী নয়, বাংলা থেকে এই বিশ্ব গৌরব তকমা চলে যাবে। আর তখনই তথাকথিত রবীন্দ্রানুরাগীরা কুম্ভ্রীরাশ্রু ফেলে উপাচার্যকেই দায়ী করবেন। এই আশ্রমিকরা আত্মকেন্দ্রিক। তারাঁ বিষদাঁত বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি করবে যেমনভাবে তাঁরা এযাবৎ ক্ষতি করে চলেছে। তবে এর আগে মমতার কাছে উপাচার্য এই একই দাবি জানানোর পর আশ্রমিকদের একাংশ পাল্টা চিঠি দিয়ে বিরোধিতা করেন। তাঁরা দাবি করেন, ওই রাস্তা ফেরানোর প্রয়োজন নেই। শনিবার দেওয়া চিঠিতে উপাচার্য তাঁদের কটাক্ষ করে লেখেন, যাঁরা বর্তমানে রাস্তা হস্তান্তরের বিরোধিতা করছেন, কোনও ভবনের ক্ষতি হলে তাঁরাই আবার গোটা ঘটনার দায় বিশ্বভারতীর ঘাড়ে ঠেলে দেবে। পাশাপাশি উপাচার্য বিদ্যুতের আরও অভিযোগ, একমাত্র লিভিং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিশ্বভারতী এই বিরল সম্মান বাংলারও। তা অক্ষুন্ন রাখতে গেলে এই রাস্তা ফেরত পাওয়া জরুরি।

যদিও উপাচার্যের আগের একই চিঠির প্রেক্ষিতে আপত্তি জানান প্রবীণ আশ্রমিকরা। আশ্রমিক সুবীর বন্দ্যোযপাধ্যাগয় বলেন, চারিদিকে পাঁচিল তুলে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন উপাচার্য। আশ্রমিকদের উনি জঞ্জাল বলেন। হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পর একবার আশ্রমিকদের ডেকে কোন পরামর্শও নেন নি। উপাচার্যর সবাই শত্রু। আশ্রমিক শত্রু, বোলপুরের বাসিন্দা শত্রু, প্রশাসন শত্রু। এভাবে চললে কি করে চলবে? পাশাপাশি তাঁর আরও অভিযোগ, উপাচার্যের ভারী যান চলাচলের যুক্তি একেবারেই সঠিক নয়। অন্যদিকে, আশ্রমিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধর সুপ্রিয় ঠাকুর জানান, আমার মতে ওই রাস্তা রাজ্য সরকারের একেবারেই ফেরত দেওয়া উচিত নয়।

 

 

 

Related articles

সাইয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর, ডুরান্ড কমিটির সঙ্গে বৈঠকে ক্রীড়ামন্ত্রী

ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব নিয়েই দ্রুত কাজ শুরু করে দিলেন ইন্দ্রনীল খাঁ(Dr.Indranil Khan)। শুক্রবার দফায় দফায় বৈঠক সারলেন রাজ্যের...

ক্রীড়া চিকিৎসা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন: অনুষ্ঠিত হল ‘স্পোর্টসমেড ২০২৬’ আন্তর্জাতিক সেমিনার

শুক্রবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সেমিনার— 'স্পোর্টসমেড: ফ্রম পারফরম্যান্স টু প্রিভেনশন' (SportsMed: from Performance to Prevention:...

মুখ্যমন্ত্রীর নজরে BGBS-এর ৬৩৫ কোটি টাকার বরাত!

BGBS-এ এলাহী খরচ। একটি নির্দিষ্ট ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থাকেই বরাত। নতুন সরকারের আতসকাচের চলায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে...

গ্রেফতার হবেন ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী! কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

গ্রেফতার হতে পারেন- এই আশঙ্কায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen) এবং তাঁর স্ত্রী আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন...