Sunday, February 1, 2026

অধ্যক্ষের আনা ‘উপহার’ নিতে অস্বীকার! বিজেপি বিধায়কদের আচরণে চ.রম ক্ষু.ব্ধ তৃণমূল

Date:

Share post:

ফের একবার সংসদীয় সৌজন্যের চিরন্তন ঐতিহ্য ভূলুণ্ঠিত করল বিজেপি (BJP)। রাজ্য বিধানসভার (West Bengal Assembly) অন্দরে শাসক বিরোধী চাপানউতোর যতই তীব্র থেকে তীব্রতর হোক না কেন বাইরে পারস্পরিক সু-সুসম্পর্ক বজায় রাখা বিধানসভার চিরকালীন ঐতিহ্য। আর সেই ঐতিহ্যকেই এবার অবমাননার অভিযোগ উঠল গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার চলতি বিধানসভা অধিবেশনের (Assembly Session) শেষ দিনে বিরোধীদের লজ্জাজনক আচরণের স্বাক্ষী থাকল বিধানসভা। এবার সবকিছু ছাপিয়ে বিধানসভার অভিভাবক তথা স্পিকারকেই (Speaker) অপমান করলেন বিজেপি বিধায়করা।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিধানসভায় সব বিধায়কদের জন্য পেয়ারা নিয়ে এসেছিলেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিধানসভা এলাকা বারুইপুর থেকে ২৯৪ জন বিধায়কের জন্য পেয়ারা নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু তারপরও বিরোধীদের থেকে এতটুকু সম্মান তো তিনি পেলেনই না, উল্টে তাঁকে অসম্মান করা হল। এদিন স্পিকারের দেওয়া পেয়ারাও ‘বয়কট’ করে বিজেপি। সূত্রের খবর, এদিন যখন বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে তৃণমূল ও বিজেপি দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল হইহট্টগোল চলছে, তখনই স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সব বিধায়কের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা সবাই পেয়ারা নিয়ে যাবেন’। যদিও এরপরও স্পিকারের অনুরোধ, বলা ভালো উপহারকে অগ্রাহ্য করেই বিজেপি বিধায়করা ওয়াক আউট করেন।

এবছরই প্রথম নয়, প্রতিবছরই বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিধানসভা এলাকা বারুইপুর থেকে পেয়ারা বিধায়কদের জন্য নিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবারও সেরকম নিয়ে এসেছিলেন। তবে এদিন অধিবেশন থেকে বিজেপি ওয়াক আউট করে যাওয়ার পরও স্পিকার বিধানসভায় নিজের ঘরে ডেকেছিলেন বিজেপি পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক মনোজ টিগ্গাকে। তিনি বিজেপি বিধায়কদের জন্য পেয়ারা নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু তারপরও মনোজ টিগ্গা পেয়ারা প্রত্যাখ্যান করেন বলে খবর। কারণ হিসাবে বিজেপি বিধায়কদের বক্তব্য, শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করেছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় সংগীত অবমাননার অভিযোগ করা হচ্ছে। সেকারণেই তাঁরা পেয়ারা নেবেন না।

অধ্যক্ষ অবশ্য এদিন অধিবেশন শেষে প্রথামাফিক ধন্যবাদ জ্ঞাপক প্রস্তাবের শেষে জবাবী ভাষণে শাসক দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের বিধায়কদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিধানসভার বাইরে রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণের থেকে বিধানসভার ভিতর থেকে কাজকর্মে আরও বেশি করে অংশগ্রহণের জন্য তিনি বিরোধীদের পরামর্শ দেন। তবে বিজেপি বিধায়কদের এমন আচরণে তৃণমূল চরম নিন্দা করে জানায়, বাংলায় শাসক–বিরোধী আগেও ছিল। বিরোধিতা থাকলেও রাজনৈতিক সৌজন্য দেখা যেত। আজ বিজেপি তা কার্যত শেষ করে দিল।

 

 

 

spot_img

Related articles

রবিবার ছুটির দিনে বেনজির বাজেট! বঞ্চনার আবহে বাংলার প্রাপ্তি নিয়ে সংশয়

প্রথা ভেঙে এবার ছুটির দিন রবিবারেই সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এটি তাঁর নবম...

শুক্রের পরে শনিতে: রাজ্য পুলিশে ফের সংশোধন ও রদবদল

শুক্রবার রাজ্য পুলিশের ডিজি পদে এসেছেন পীযূষ পাণ্ডে। এরকমই রাজ্যের পুলিশের (West Bengal police) শীর্ষ পদে ব্যাপক রদবদল...

সোমে মাধ্যমিক, এখনও নেই অ্যাডমিট! ৮৬টি স্কুলকে চরম হুঁশিয়ারি পর্ষদের

হাতে সময় মাত্র কয়েক ঘণ্টা। সোমবার থেকেই শুরু হতে চলেছে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা ‘মাধ্যমিক’। অথচ দুশ্চিন্তার পাহাড়...

নারী সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ: মহিলাদের সুবিধার্থে বিশেষ পার্কিং জোন চালু করল অ্যাক্রোপলিস মল

কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় শপিং ডেস্টিনেশন ‘অ্যাক্রোপলিস মল’ মহিলা ক্রেতা ও চালকদের সুবিধার্থে একগুচ্ছ অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করল। মহিলাদের...