দেশের শীর্ষ আদালতের রায়কে অমান্য করে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ বিল রাজ্যসভায় পাশ করিয়ে নিল মোদি সরকার। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে হাতিয়ার করে কার্যত বাহুবলেই পাশ করিয়ে নেওয়া হল বিলটি। এদিন রাজ্য সভায় এই বিল সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার বললেন, “এটি অবাধ ও সুষ্ঠু গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।”


গত ২ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলার রায়ে জানিয়েছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা অথবা দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের সংসদীয় নেতা এবং দেশের প্রধান বিচারপতি। তবে শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশকে উপেক্ষা করে মঙ্গলবার রাজ্যসভায় সরকারের তরফে পাশ করানো বিল আগামিদিনে সুষ্ঠু গণতন্ত্রের নির্বাচনকে কার্যত পরিহাসের পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেন্দ্রের গায়ের জোরে পাশ করানো এই বিলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী লোকসভার বিরোধী দলনেতা অথবা দ্বিতীয় বৃহত্তম দলের সংসদীয় নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় পূর্ণ মন্ত্রী। ফলে, একদিকে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যদিকে তাঁরই মনোনীত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্যের কমিটির নিয়োগ করা নির্বাচন কমিশনার কতটা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
I oppose Govt’s new bill in the Rajya Sabha to appoint Election Commissioners —as dangerous for free and fair democracy. https://t.co/SwX9dFQIMa pic.twitter.com/RHxBoLUOPM
— Jawhar Sircar (@jawharsircar) December 12, 2023
এদিন রাজ্যসভায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার বললেন, এই বিল অবাধ ও সুষ্ঠু গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। জহর সরকারের দাবি, এর ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং অন্যান্য নির্বাচনী আধিকারিকদের পদমর্যাদা একজন মন্ত্রী পরিষদের সচিবের পদমর্যাদার থেকেও নিচে নামানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিলটির ফলে ভোটের সময়ে হওয়া কারচুপিকে বৈধতা দেবে এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে জহর সরকার জানান, এইভাবে নির্বাচন কমিশনারের ওপর হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়, তাতে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশে কারচুপির এই বৈধকরণ বন্ধ করার আর্জি জানান জহর সরকার।













