রাতারাতি ফোর্বস ইন্ডিয়ার পোস্টার গার্ল। দুবাইতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের চলতি পরিবেশ পরিবর্তন আলোচনাসভা সিওপি টোয়েন্টি এইট-এ (COP28) সোমবার কী এমন করল মণিপুরের ১২ বছরের মেয়েটা যে তাবড় অভিনেতা অভিনেত্রী থেকে মুকেশ আম্বানির মতো ব্যবসায়ীকে পিছনে ফেলে সেই পাতায় জায়গা করে নিল?

সাত বছর বয়স থেকে পরিবেশ রক্ষার কাজ করেন লিসিপ্রিয়া কাঙ্গুজাম। রাষ্ট্রসঙ্ঘে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট দেশ তিমুর লেস্টের (Timor Leste) বিশেষ দূত তিনি। সোমবার অধিবেশন চলাকালীন লিসিপ্রিয়া একটি পোস্টার নিয়ে উঠে দাঁড়ান। যেখানে লেখা ছিল – বন্ধ করুন জীবাশ্ম জ্বালানি (fossil fuel)। আমাদের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎকে রক্ষা করুন। বিশ্বের সবথেকে বড় পরিবেশ আলোচনাসভাই তো এই আবেদনের শ্রেষ্ঠ জায়গা। কিন্তু পোস্টার তুলে ধরার পরই সমস্বরে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন একাধিক দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি। নিজের কথা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য শেষে গোটা সভাস্থল পোস্টার হাতে ছুটতে শুরু করেন তিনি। এরপরই তাঁকে প্রায় ৩০ মিনিট আটক করা হয়। শেষে সিওপি টোয়েন্টি এইট-এ প্রবেশাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।
নিজের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে লিসিপ্রিয়া দাবি করেন জীবাশ্ম জ্বালানিই পৃথিবীর দূষণের সবথেকে বড় কারণ। কোটি কোটি শিশু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার হয়ে অনাথ হয়ে পড়ছে। যুদ্ধের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় না করে সেই টাকায় পৃথিবীর ক্ষুধা মেটানো, শিক্ষার আলো দেখানো এবং পরিবেশ রক্ষার মতো পদক্ষেপ নিলে আমাদের পৃথিবী আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হতে পারত। আলোচনাসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ লিখবে।

কিন্তু পৃথিবীর পরিবেশ বাঁচানোর ছোট্ট মণিপুরী মেয়ের অদম্য জেদ আর লড়াই কার্যত বিফলে যায় সিওপি টোয়েন্টি এইট-এর মঞ্চে। আলোচনাসভার অ্যাম্বাসাডর মজিদ আল সুওয়াইদি লিসিপ্রিয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করলেও তার কোনও দামই প্রতিনিধিরা দেননি। কনফারেন্স শেষে জীবশ্ম জ্বালানি বন্ধের বিষয়ে কোনও সদর্থক সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়নি রাষ্ট্রসঙ্ঘে। তবে তাতেও দমে না গিয়ে পরিবেশের জন্য নিজের লড়াই জারি রাখবে বলে জানিয়ে রাখে লিসিপ্রিয়া কাঙ্গুজাম।









