মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন প্রশ্ন ফাঁস করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল এক পরীক্ষার্থী। এবছর মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র ফাঁস আটকাতে নতুন কিউ আর কোডের সাহায্য নিয়েছে পর্ষদ। সেই প্রযুক্তিতেই প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ধরা পড়ে গেল অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীরা। এই প্রশ্ন ফাঁস মালদহ থেকে করা হয়েছিল। সেই অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। শাস্তির মুখে পরীক্ষাকেন্দ্রের দ্বায়িত্বে থাকা শিক্ষকরাও।


শুক্রবার গোটা রাজ্যে শুরু হল মাধ্যমিক পরীক্ষা। প্রতিবছর প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত অভিযোগে জর্জরিত হতে হয় মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে। গোটা পরীক্ষা পদ্ধতি নির্বিঘ্নে হলেও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা বিব্রত করে পর্ষদকে। এবছর বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্য নেয় পর্ষদ। যাতে প্রশ্ন ফাঁস হলেও কে ফাঁস করেছে তাঁকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। সেই মতো রাজ্যের সব স্কুলে পরীক্ষার্থীদের এই প্রযুক্তি নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে সতর্ক করেও দেওয়া হয়। প্রশ্ন পত্রের প্রতিটি পাতায় বিশেষ কিউ আর কোড রাখা রয়েছে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর জন্য আলাদা ম্যাজিক নাম্বার বা কোড-এর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র মূলত মোবাইলে ছবি তুলে ফাঁস করা হয়। এবারের পরীক্ষায় ছবি তুললেও সেই ছবি প্রকাশ্যে এলেই সেই ম্যাজিক নাম্বার দেখে বোঝা যাবে কোন পরীক্ষার্থী সেই প্রশ্ন ফাঁস করেছে। শাস্তি হিসাবে বাতিল হবে তাদের পরীক্ষা।

পরিকল্পনামাফিক সেই ফাঁদেই প্রথম পরীক্ষার দিন ধরা পড়ল দুই পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শেষে দেখা যায় প্রশ্নপত্রের দ্বিতীয় পাতার ছবি ফাঁস হয়। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় জানান মালদহের লখিমপুরের বেত্রাবাদ হাইস্কুল ও ইংলিশবাজারের রায়গ্রাম হাইস্কুল থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। নঘড়িয়া হাইস্কুল ও চামারগ্রাম হাইস্কুলের ওই দুই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বাতিল হয়েছে তাঁদের রেজিস্ট্রেশন। মোবাইল ফোন নিয়ে কীভাবে পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকল তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে মোবাইলে কীভাবে তুলল ছবি পরীক্ষার্থী এবং তা ঘরের দ্বায়িত্বে থাকা শিক্ষকের নজর কীভাবে এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে তদন্তে পর্ষদ। এছাড়াও প্রথম দিনের পরীক্ষায় পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের দুটি স্কুল থেকেও পরীক্ষার্থীদের থেকে দুটি স্মার্ট ওয়াচ ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।










