Tuesday, February 3, 2026

মোদির ‘বিকশিত ভারতে’ গরিবের জন্য বরাদ্দ শুধুই ‘বিষ’! সংসদে সরব সুখেন্দু

Date:

Share post:

লোকসভা ভোটকে মাথায় রেখে ‘বিকশিত ভারতের’ ঢালাও প্রচার চালাচ্ছে মোদি সরকার। বাজেট অধিবেশন উপলক্ষ্যে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণে বারবার শোনা গিয়েছে, ‘অমৃত’ ও ‘বিকশিত ভারতের’ কথা। এই প্রসঙ্গ তুলেই সোমবার রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষনের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনে মোদি সরকারকে তথ্য তুলে ধরে আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক সুখেন্দু শেখর রায়। কটাক্ষ করে বললেন, “চারিদিকে এত অমৃতের মধ্যে থেকে জানতে ইচ্ছে করছে যারা অমৃত পান করছেন তারা তো সুখে আছেন কিন্তু যারা এই সরকারের আমলে বিষ পান করছেন তাঁদের কি অবস্থা।”

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক সুখেন্দু শেখর রায় এদিন রাজ্যসভায় বলেন, “মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণে বেশ কয়েকটি নতুন শব্দ শোনা গেল। যেমন, তিনি তার বক্তব্যে ছয় বার বিকশিত ভারত শব্দটি ব্যবহার করেছেন এবং ১০ বার অমৃত শব্দের ব্যবহার করেছেন।” এই প্রেক্ষিতেই রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে সুখেন্দুশেখর এর প্রশ্ন, “চারিদিকে এত অমৃতের মধ্যে থেকে জানতে ইচ্ছে করছে যারা অমৃত পান করছেন তারা তো সুখে আছেন কিন্তু যারা এই সরকারের আমলে বিষ পান করছেন তাঁদের কি অবস্থা।” এরপরই তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে দেশের যুবসমাজকে লক্ষ লক্ষ চাকরি দেওয়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ জানতে চান, “কত লক্ষ চাকরি দিয়েছে বিজেপি সরকার? তার সঠিক সংখ্যাটা কত?” শুধু তাই নয় তিনি বলেন, “নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুতি মতো যেখানে বছরে দু কোটি চাকরি অর্থাৎ গত ১০ বছরে কুড়ি কোটি চাকরি দেওয়ার কথা সেখানে শুধুমাত্র কয়েক লক্ষ চাকরির কথা কেনো বলা হচ্ছে। যেখানে দেশের ২৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে বলে কেন্দ্রের তরফে প্রচার করা হচ্ছে সেখানে কেন বলা হচ্ছে না এখনো কত শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার মধ্যে পড়ে রয়েছে”।

অক্সফাম রিপোর্ট তুলে ধরে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ প্রশ্ন করেন, “দেশের ১ শতাংশ ধনীব্যক্তি দেশের ৪০ শতাংশর বেশি সম্পত্তির অধিকারী।” তাঁর কটাক্ষ, “নরেন্দ্র মোদি বারবার নারী শক্তির জয়গান গেয়েছেন অথচ দেশের মহিলা শ্রমিকদের উপার্জন সব থেকে কম।” সুখেন্দু শেখর অভিযোগ করেন, “ব্যবসায়ীদের ট্যাক্সে ছাড় দিতে গিয়ে করের বোঝা চাপানো হয়েছে সাধারণ মধ্যবিত্তের ঘাড়ে। দেশের ধনীরা আরো ধনী হয়েছে গরিবরা হয়েছে আরো গরীব।” তাঁর এদিনের বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্যকে কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনা, কেন্দ্রীয় এজেন্সির ব্যবহার এবং ১ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে সেই বিষয়টিও। তিনি বলেন, “রাজ্যের ২১ লক্ষ শ্রমিক টাকা পায়নি যা দিচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।” মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন কমিটির সঙ্গে। সে প্রসঙ্গে সুখেন্দুশেখর রায়ের বক্তব্য, অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি একটা কমিটির চেয়ারম্যান। যে কমিটি ঠিক করবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তার আশঙ্কা এর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসনের দরজা খুলতে চলেছে। যেভাবে ১৪৬ জন সংসদকে সাসপেন্ড করে একের পর এক বিল পাস করিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার তার বিরুদ্ধেও এদিন রাজ্যসভায় সোচ্চার হন সুখেন্দুশেখর রায়।

spot_img

Related articles

শহরতলির যানজট রুখতে উদ্যোগী নবান্ন, শুরু হচ্ছে বিশেষ সমীক্ষা

কলকাতা লাগোয়া শহরতলি এবং জেলা শহরগুলিতে ক্রমবর্ধমাণ যানজটের জাঁতাকল থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য...

টাকার অঙ্ক অনেক কম, কারা সম্প্রচার করবে ISL? জানিয়ে দিল AIFF

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে আইএসএল(ISL)। সোমবার সকালেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন(AIFF) লিগের মিডিয়া রাইটস সংক্রান্ত টেকনিক্যাল...

শবেবরাতে বাজি নিয়ন্ত্রণে কড়া হাইকোর্ট: রাত ১০টার পর বাজি ফাটালেই আইনি পদক্ষেপ

উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে ফের কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট।...

গণতন্ত্র বিপন্ন! ওপার বাংলার ‘প্রহসন’ নিয়ে সরব হাসিনা-পুত্র সজীব

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রতিবাদের সুর চড়ালেন শেখ হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার বিকেলে...