Friday, April 3, 2026

‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’! সুকান্তর অভিযোগ পেয়েই মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ ৩ আইপিএস অফিসারকে তলব সংসদীয় কমিটির

Date:

Share post:

লোকসভা ভোট (Loksabha Election) যত এগিয়ে আসছে কেন্দ্রের মোদি সরকারের (Modi Govt) রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ছবি প্রকাশ্যে আসছে। এবার রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজির পাশাপাশি ৩ পদস্থ কর্তাকে দিল্লিতে ডেকে পাঠাল লোকসভার সংসদীয় স্বাধিকার রক্ষা কমিটি। সূত্রের খবর, বুধবার সন্দেশখালিতে (Sandeskhali) ‘নাটক’ করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)। পুলিশি নির্দেশ অগ্রাহ্য করেই অশান্তি পাকানোর লক্ষ্যে সন্দেশখালি পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করলে সুকান্ত এবং তাঁর দলবলকে আটকায় পুলিশ। এরপরই অসুস্থ হওয়ার নাটক করে হাসপাতালে ভর্তি হন সুকান্ত। এরপরই রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা সংসদীয় কমিটির কাছে মেল করে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব ভগবতী প্রসাদ গোপালিকা, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সহ রাজ্য পুলিশের পাঁচজন আইপিএস অফিসারকে তলব করল সংসদীয় কমিটি। ১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় তাঁদের হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মৌখিক বক্তব্য শোনা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে এদিন কেন্দ্রের গাজোয়ারি পদক্ষেপের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, সুকান্ত মজুমদার কোনও দলের প্রতিনিধি হয়ে নয়, তিনি পুলিশি বাধা সত্ত্বেও বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে বাধা দিয়েছে পুলিশ। সুকান্ত সাংসদ পদের জেরেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্ত আদৌ সংসদের স্বাধিকার রক্ষা কমিটির এই এক্তিয়ার আছে কী না তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বিরোধীদের প্রশ্ন, সত্যি যদি সাংসদের হেনস্থার জন্য এই তলব হয় সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিজেপি কেন, অন্য সাংসদদের লাগাতার হেনস্থা, আক্রমণ করা হলেও কেন কোনও পদক্ষেপ নেয়না সংসদীয় কমিটি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।

তবে শুধু রাজীব কুমার নন, তাঁর পাশাপাশি তলব করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শরৎ কুমার দ্বিবেদী, বসিরহাটের এসপি হুসেন মেহেদি রহমান এবং উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষকে তলব করেছে সংসদীয় কমিটি।

বুধবার সকাল থেকেই টাকি থেকে সন্দেশখালি যাওয়ার পথে ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও গাজোয়ারি দেখাতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন বিজেপুর রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ১৪৪ ধারা জারি থাকায় সেখানে তাঁদের যেতে দেওয়া হবে না বলে জানায় পুলিশ। এরপরই বিজেপি রাজ্য সভাপতি এবং বাকি কর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয় তাঁদের। তার মধ্যেই পুলিশের গাড়ির বনেটে উঠে যান সুকান্ত। এরপর ‘মহানাটক’ করে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। তারপরই পায়ের তলার মাটি হারিয়ে মিথ্যা পুলিশি হামলার অভিযোগ তলে স্পিকার ওম বিড়লাকে মেল করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। আর তাঁর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ ৩ আইপিএস অফিসারকে দিল্লিতে ডেকে পাঠাল সংসদের স্বাধিকার রক্ষা কমিটি।

 

 

 

 

Related articles

আজ পুরুলিয়া-বিষ্ণুপুর- খানাকুলে নির্বাচনী জনসভা অভিষেকের

বাংলার মাটি সম্প্রীতির কথা বলে। বিভেদকামী শক্তির এখানে কোনও জায়গা নেই। রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচনের প্রচারে বিভিন্ন জনসভা থেকে...

ব্যক্তিগত কাজে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ টলিউড পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়! 

বৃহস্পতিবার দুপুরের শেষ কথা হয়েছিল স্ত্রীর সঙ্গে, ব্যাংকের কাজে বেরিয়েছিলেন পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায় (Utsav Mukherjee)। তারপর থেকে কেটে...

ভোটার তালিকা নিয়ে সংশয় অব্যাহত, অষ্টম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ নির্বাচন কমিশনের

ভোটার তালিকা ঘিরে বিতর্ক এবং সংশয়ের আবহেই অষ্টম সাপ্লিমেন্টারি বা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। এই তালিকায়...

মালদা-কাণ্ডে NIA তদন্তের নির্দেশ, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর চিঠি কমিশনের

মালদহের কালিয়াচকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে জাতীয় তদন্ত...