শাহজাহানের সঙ্গে ছবি! বিজেপিতে গিয়েও কেন মুখ খোলেননি শুভেন্দু? বিস্ফোরক অভিষেক

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এখনও দেখা যাবে শেখ শাহজাহানের সঙ্গে তৎকালীন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Shubhendu Adhikari) ছবি। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেও কেন তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি বিরোধী দলনেতা। রবিবার, মহেশতলায় প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই সন্দেশখালি ইস্যুতে জিইয়ে রাখছে বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৮ তারিখ আসবেন রাজ্যে। তার আগে পর্যন্ত এই ইস্যুকে জিইয়ে রাখতে চায় বিজেপি। সংবাদ মাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল তোলেন অভিষেক।

বিরোধীদের অভিযোগ প্রসঙ্গেও তোপ দাগেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। প্রশ্ন তোলেন, কেন এতদিন এই নিয়ে সবর হননি শুভেন্দু? তীব্র কটাক্ষ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘ধরে নিচ্ছি তৃণমূলে ছিলেন তাই বলেননি। কুড়িতে আপনি বিজেপিতে জয়েন করেছেন। একুশে কেন বলেননি? বাইশ কেন বলেননি? তেইশে কেন বলেননি? কেন বলেননি?’’ তীব্র নিশানা করে অভিষেক বলেন, শাহজাহানকে শুভেন্দুর সঙ্গে একাধিকবার এক ফ্রেমে দেখা গিয়েছে। অভিষেক বলেছেন, ‘‘আপনি দেখুন না সংবাদমাধ্যমে, গণমাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ছবি পাবেন শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে শেখ শাহজাহানের।’’ মোক্ষম প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। বলেন, ‘‘তখন কেন বলেননি ? আমার প্রশ্ন। আমি জানতে চাই।’’

অভিষেকের অভিযোগ, বিরোধীরা সন্দেশখালি গিয়ে উস্কানি দিচ্ছে। পরিস্থিতি শান্ত হলে, তবেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব সেখানে যাবেন। অযথা রাজনীতি করতে যাওয়া প্রয়োজন নেই শাসকদলের। তোপ দেগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, ৮ তারিখ নরেন্দ্র মোদি আসছেন। তার আগে সন্দেশখালি ইস্যুকে জিইয়ে রাখতে দফায় দফায় সেখানে যাচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব। যাওয়ার হলে একসঙ্গে যেতে পারতেন। কেন একসঙ্গে যাচ্ছেন না সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীরা? অভিষেকে কথায়, দিল্লির নির্দেশেই সন্দেশখালিকে শান্ত হতে দিচ্ছে না বিজেপি। সেখান থেকে নির্দেশ আছে, মোদির সফরের আগে পর্যন্ত সন্দেশখালি ইস্যুকে জিইয়ে রাখতে হবে। বলেন, ‘‘এখন এক দিন শুভেন্দু একদিন সুকান্ত মজুমদার সন্দেশখালি যাচ্ছেন। কারণ দিল্লি থেকে নির্দেশ এসেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৮ তারিখ আসছেন, ইস্যু যেন বেঁচে থাকে। আমার প্রশ্ন এঁরা এতদিন কিছু বলেননি কেন?’’

একই সঙ্গে মিডিয়ার বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন অভিষেক। বলেন, দিল্লির কৃষক আন্দোলনের মৃত্যু হচ্ছে, মিডিয়া দেখাচ্ছে না। কেন্দ্রের বঞ্চনায় বাংলার মানুষের অসুবিধা দেখাচ্ছে না। কিন্তু সন্দেশখালি দেখিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমের উপরও বিজেপি চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ অভিষেকের।



Previous articleউস্কানি সন্দেশখালিতে, ‘গো ব্যাক’ পোস্টারে ফাঁস বহিরাগত চক্রান্ত
Next articleপ্র.য়াত পরিচালক কুমার সাহানি, শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর