বিজেপি আসলে পরিযায়ী। বিজেপি বাংলা-বিরোধী- উন্নয়ন বিরোধী। বিজেপি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মাথা বলে ভোটে প্রচার করে জিতে এসেছিলেন। এরপর বিধানসভা ভোটে পরাজয়। এক মাসের মধ্যে পরিষদীয় দল ভেঙে খান খান। আর সোমবার সংসদীয় দল ভেঙে যাওয়ার পর বিদ্রোহীরা বলল তারা এনডিএ-র জোটে থাকতে চায়।

যাদের বিরুদ্ধে তৃণমূল রাজনৈতিক লড়াই করেছিল ২০২৪-এর লোকসভা ভোট এবং ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে, দলভাঙার পর দলবদলুরা এখন তাদের জোটে শুধু যেতে চেয়েছে তাই নয়, তাদের সরকারের শরিক হতে চেয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে মানুষের কাছে ভোট চেয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা, এবং জিতেওছেন, তাঁরা কোন মুখে মানুষের কাছে গিয়ে বলবেন, আমরা ভুল করেছিলাম। এরাই ঠিক। অর্থাৎ বিজেপি ঠিক, আর আমাদের দল তৃণমূলই ভুল ছিল! মানুষ মেনে নেবেন? এটা গণতন্ত্রকে খুন করা নাকি মানুষের ভোটের কোনও মূল্য নেই!

এই দলবদলের রাজনীতি বাম আমলে কার্যত ছিল না। অন্য দলের নেতারা বাম দলে যোগ দিচ্ছে, এমন ঘটনা ৩৪ বছরে ঘটেছে, খুঁজতে দূরবীন লাগবে। ঘটলেও পদ দেওয়া হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর এই দলবদলের রাজনীত শুরু করে। প্রথমে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে। তারপর বিজেপি থেকে তৃণমূলে। এমনকি সিপিএম থেকে তৃণমূলে এসেছে, আকছার ঘটেছে। শুধু তাই নয় দলবদলুদের বিশাল মর্যাদা দিয়ে বিধায়ক, কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত প্রধান করা হয়েছে। তৃণমূল যেটা শুরু করেছিল, বিজেপি সেটার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। ক্ষমতা, অর্থ, প্রশাসন, পুলিশি ভয় দেখিয়ে দলটাকেই পুরো হাইজ্যাক করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অভিরূপ দাস বলছেন, শুধু সরকার দখল নয়, বিরোধী দলের অস্তিত্বই রাখা হচ্ছে না রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে। এ এক ভয়াবহ প্রবণতা। জনতা এক ভেবে ভোট দিচ্ছে, আর বিজেপি ক্ষমতা প্রয়োগ করে পালটে দিচ্ছে। এখন তো আবার বিজেপি আর কমিশন হাতে হাত মিলিয়ে এসআইআর করে কারা ভোটার হবেন, সেটাও ঠিক করছে।

তাহলে পথ কোনটা? রাজনৈতিক বিশ্লেষক অরূপ রায় বলছেন, আগামিদিনে হয়তো জেনজি বা ককরোচ পার্টি অথবা নতুন কোনও দল দেশে প্রবল প্রভাব বিস্তার করতেই পারে। অবাক হওয়ার কিছুই নেই।

আরও পড়ুন – হকার উচ্ছেদ-কাণ্ডে ৭ মামলার জালেও আটকে রাখা গেল না সৃজনদের

_

_
_
_
_
