Tuesday, February 3, 2026

দ্রুত রাফা খালির নির্দেশ! যুদ্ধবিরতির জন্য ইজরায়েলকে ‘চুক্তি সংশোধনের’ প্রস্তাব হামাসের

Date:

Share post:

সময় গড়ালেও হামাস-ইজরায়েলের  (Hamas Israel) যুদ্ধ যেন একেবারেই থামার লক্ষণ নেই। মাঝে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও অশান্তি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। এর মধ্যেই এবার গাজায় (Gaza) যুদ্ধবিরতির (Ceasefire) জন্য ইজরায়েলের চুক্তি সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে হামাস। সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে আমেরিকা। এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই যুদ্ধবিরতির বিষয়ে এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, তাদের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি এবং মিশরের গোয়েন্দা মন্ত্রী আব্বাস কামেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তাঁদের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মতির ব্যাপারে অবহিত করেছেন। তবুও নিজেদের অবস্থানে অনড় হামাস। তাদের অভিযোগ, ইজরায়েলের সব গাজোয়ারি কিছুতেই মানা হবে না। তাই নতুন করে তাদের কথা মাথায় রেখেই চুক্তি সংশোধন করা হোক। তবে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কিরবির মতে, এই চুক্তি যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও নতুন করে ধোঁয়া দিতে পারে। আর সেকারণে যুদ্ধ থামা তো দূর তা আরও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে ইতিমধ্যে গাজা সীমান্তে ইজরায়েলি ট্যাঙ্কের উপস্থিতির কারণে গাজার প্রধান লাইফলাইন রাফা ক্রসিংয়ের প্যালেস্টাইনের অংশটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। মূলত রাফা ক্রসিং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল এমন তথ্য ফাঁস হওয়ার পর তা দখল করা হয়েছে। রাফা ক্রসিং এর ‘অপারেশনাল কন্ট্রোল’ অর্জন করেছে হামাস। তবে ইতিমধ্যে গাজার দক্ষিণাংশের রাফা এলাকার বাসিন্দাদের নতুন করে বাড়ি-ঘর খালি করার বার্তা দিতে শুরু করেছে আইডিএফ। ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর স্পষ্ট ঘোষণা, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ শানাবে তারা। এদিকে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্ট জানান, গাজায় সংঘর্ষবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস। ফলে পণবন্দিদের মুক্ত করতে রাফায় সামরিক অভিযান জরুরি বলে মনে করতেই নড়েচড়ে বসে ইজরায়েল।

আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদসংস্থার মতে, এই মুহূর্তে গাজার বাসিন্দাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ অন্তত ১৪ লক্ষ মানুষ রাফায় রয়েছেন। সামরিক অভিযানের জন্য ওই এলাকা ছেড়ে তাঁদের গাজার আরও দক্ষিণাংশে চলে যেতে বার্তা পাঠাচ্ছে আইডিএফ। কিন্তু সবচেয়ে বড় ঘটনা হল, এই বাসিন্দাদের বড় অংশই গত কয়েক মাস যাবৎ তাড়া খেয়ে বেড়াচ্ছেন। সংঘর্ষবিধ্বস্ত গাজার অন্য অংশ থেকে পালাতে পালাতেই রাফা ও সংলগ্ন এলাকায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছিলেন তাঁরা। তবে এই মুহূর্তে তাঁদের ভরসা বলতে রাষ্ট্রপুঞ্জের দেওয়া ত্রাণশিবির এবং আন্তর্জাতিক সংগঠনের পাঠানো খাবার।

spot_img

Related articles

শহরতলির যানজট রুখতে উদ্যোগী নবান্ন, শুরু হচ্ছে বিশেষ সমীক্ষা

কলকাতা লাগোয়া শহরতলি এবং জেলা শহরগুলিতে ক্রমবর্ধমাণ যানজটের জাঁতাকল থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য...

টাকার অঙ্ক অনেক কম, কারা সম্প্রচার করবে ISL? জানিয়ে দিল AIFF

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে আইএসএল(ISL)। সোমবার সকালেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন(AIFF) লিগের মিডিয়া রাইটস সংক্রান্ত টেকনিক্যাল...

শবেবরাতে বাজি নিয়ন্ত্রণে কড়া হাইকোর্ট: রাত ১০টার পর বাজি ফাটালেই আইনি পদক্ষেপ

উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে ফের কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট।...

গণতন্ত্র বিপন্ন! ওপার বাংলার ‘প্রহসন’ নিয়ে সরব হাসিনা-পুত্র সজীব

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রতিবাদের সুর চড়ালেন শেখ হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার বিকেলে...