মা.ঙ্কি প.ক্সের দৌ.রাত্ম্য বাড়ছে, কেরলে এক যুবকের মৃ.ত্যু

আশির দশকে মাঙ্কিপক্সের প্রথম দেখা পাওয়া গিয়েছিল

মাঙ্কি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা প্রকাশ্যে এল। কেরলের ত্রিশূরে মাঙ্কিপক্সে সংক্রমিত হয়ে ২২ বছর বয়সি এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। কেরলের পাশাপাশি দিল্লিতেও হদিশ মিলেছে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত ব্যক্তির। সংক্রমিত ব্যক্তির বিদেশ সফরের কোনও যোগ নেই। এর আগে কেরলে যে তিন জন মাঙ্কিপক্সে সংক্রমিত হয়েছিলেন, তাঁরা সকলেই বিদেশ থেকে ফিরেছিলেন। বিশ্ব জুড়ে ৭৫টি দেশে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এবার মাংকি পক্সে মৃত্যুর খবর এল সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। সেখান থেকে অন্তত ৫টি মাংকি পক্সে আক্রান্তের কথা জানা গিয়েছে।ইতিমধ্যেই ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র তরফে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ নিয়ে গোটা বিশ্বে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা করা হয়েছে।এই ভাইরাস নতুন না হলেও এর সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে যে ভাবে এই ভাইরাস তার প্রকোপ বাড়াচ্ছে, এই বিষয় খুঁটিনাটি জানা দরকার।

অনেকের ধারণা এই ভাইরাস নতুন। কোভিডের মতোই হঠাৎ হানা দিয়েছে। এমনটা নয়। আশির দশকে মাঙ্কিপক্সের প্রথম দেখা পাওয়া গিয়েছিল। তার পর থেকে মূলত পশ্চিম এবং মধ্য আফ্রিকার দেশগুলিতেই এই রোগ সীমাবদ্ধ ছিল। কারণ মাঙ্কিপক্স পশুবাহিত রোগ। আর যে ধরনের পশুর শরীর থেকে এই রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা তারা মূলত গ্রীষ্মপ্রধান এলাকার বৃষ্টি বনাঞ্চলের বাসিন্দা।

অনেকের ধারণা, মাঙ্কিপক্স চিকেন পক্সের সমতূল্য। এই রোগে মৃত্যু হয় না। এ ধারণা ভুল। চিকেন পক্সের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গায়ে র‌্যাশ কিংবা গোটা বেরোয়। মাঙ্কিপক্সের ক্ষেত্রে সারা গায়ের পাশাপাশি, লসিকাবাহেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসের কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।এই রোগের চিকিৎসা নেই: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাল থাকলে মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ২১ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে গুটিবসন্ত রোগের টিকাও এই রোগ সংক্রমণ রুখতে কার্যকর। ইউরোপ ও আমেরিকায় মাঙ্কিপক্সের টিকা দেওয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র যৌন সংক্রমণেই এই রোগ ছড়া, এই ধারণাও ভুল। যদিও বেশির ভাগ সমকামী ও উভকামী পুরুষের মধ্যেই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সন্ধান মিলেছে। চিকিৎসকের মতে, আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলে সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। শ্বাসনালি, ক্ষতস্থান, নাক, মুখ কিংবা চোখের মাধ্যমে এই ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে সুস্থ ব্যক্তির দেহে। আক্রান্তের ব্যবহার করা পোশাক-পরিচ্ছদ থেকেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

 

Previous articleদ্রুত স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি, বিবৃতি দিয়ে জানালো অভিজাত মল কর্তৃপক্ষ
Next articleখেজুরিতে বিজেপির লাগামহীন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলো তৃণমূল