Monday, June 8, 2026

উচ্ছেদ নয়, হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে বিকল্প পথের সন্ধান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

Date:

Share post:

হকার উচ্ছেদ তাঁর লক্ষ্য নয়। তবে, রাজ্যের শহর ও শহরতলীকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলতে বেআইনি দখলদারি হটাতে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে, সেক্ষেত্রে বুলডোজার চালানোর বিপক্ষে তিনি। রাস্তা, ফুটপাত, সরকারি জমি, বেআইনি দখলদারি হটানোর পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনেরও পথ দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, বহিরাগতদের জায়গা দেওয়া হবে না। ভোটার কার্ড অনুযায়ী, একজন হকারকে ডালা বসাতে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে, সেটাও নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ম মেনে। হকারদের (Hawker) নামে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। হকারদের পরিচয়পত্র তৈরি করতে হবে।নবান্নে বৃহস্পতিবার রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভার মেয়র, জেলাশাসক ও পুলিশ কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কারও রুটি রুজি কেড়ে নেওয়ার অধিকার সরকারের নেই। কিন্তু পুরো বিষয়টায় একটা সৌন্দর্য্য বজায় রাখতে হবে। পুর এলাকায় ফুটপাতে হকার বসার সুনির্দিষ্ট নিয়ম করে দেওয়ার তিনি নির্দেশ দিয়েছেন
• হকারদের নির্দিষ্ট জোন করে দিতে হবে
• আগুন লাগবে না এমন জিনিস দিয়ে স্টল বানাতে হবে
• প্রতিটি স্টলের নম্বর থাকবে
• এক জন হকার এক একটি করেই স্টল পাবেন
• বৈধ হকারদের চিহ্নিত করতে পরিচয় পত্র দিতে হবে

মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রত্যেক জেলায় হকার (Hawker) জন্য জায়গা চিহ্নিত করতে পুরো সচিব জেলায় জেলায় গিয়ে সমীক্ষা চালাবেন। কলকাতার নিউমার্কেট, গ্র্যান্ড হোটেল, হাতিবাগান চত্বরে হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে কলকাতা পুরসভা ও বিভিন্ন হকার কমিটির সদস্যদের দিয়ে তিন মাসের মধ্যে সমীক্ষা করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

মমতার সংযোজন, “ওয়ান আমব্রেলা সিস্টেমে করতে হবে। তিন মাস সময় দিলাম। হকার জোনের জন্য বাড়ি না পেলে ছোট্ট একটি জমি নিয়ে সেখানে করে দিন। কলকাতার আইডেন্টিটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সল্টলেকের আইডেন্টিটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ভালো কাজে পুরস্কার খারাপ কাজে তিরস্কার। সরিয়ে দেবো। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে ৪৬ জনকে তাড়িয়ে দিচ্ছে আমি সেই পথে যেতে চাই না।”

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “হকারদের জীবিকা কেড়ে নেওয়ার অধিকার নেই আমার। কিন্তু হকারদেরও নিয়ম মানতে হবে।” তাঁর কথায়,
1. হকার জোন চিহ্নিত হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে একটি ভবন তৈরি করা হবে। যেখানে হকাররা মালপত্র রাখবে।
2. তার বীমা করে দেবে সরকার।
3. সেখানে দু-চারটে কাঠের ভ্যান রাখা হবে।
4. যাতে করে স্টলে মালপত্র আনা নেওয়া করবেন হকাররা।
5. তবে ফুটপাথে মাল রাখা যাবে না।

একইসঙ্গে বেশ কিছু এলাকায় মা ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকী, কয়েকটি এলাকায় বহুতল বানিয়ে সেখানে হকারদের জন্য ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী।





Related articles

মাস পেরোতেই আবার কাঁপল শিলিগুড়ি, ভূকম্পে কাঁপল কলকাতাও 

বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুষলধারে বৃষ্টি আর মেঘের গর্জনে এমনিতেই থমথমে ছিল উত্তরবঙ্গের রাতের পরিবেশ। তার মধ্যেই প্রায় দীর্ঘ ৪০ সেকেন্ড...

লক্ষ্য ‘৮০ শতাংশ হিন্দু’: বাছবিচার নয়, যে কেউ আসতে পারেন! বনশলের বার্তায় কাদের ইঙ্গিত? 

‘ভালো তৃণমূল’ বলতে ঠিক কী বোঝায়, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা চলছে। বিজেপির রাজ্য...

ব্লকে জনকল্যাণ শিবিরের দিন ঘোষণা: একমাসের কাজের খতিয়ান পেশ মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই উন্নয়নমূলক কাজে নজর শাসকদল বিজেপি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এক মাসের মধ্যেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া...

কলকাতা টার্মিনাল থেকে সোজা সল্টলেক! নতুন মেট্রো রুটের প্রাথমিক সমীক্ষায় সবুজ সংকেত রেলের 

কলকাতার মেট্রো যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের পথে বড় পদক্ষেপ করল রেল মন্ত্রক। কলকাতা টার্মিনাল থেকে সল্টলেকের করুণাময়ী পর্যন্ত নতুন...