বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মুষলধারে বৃষ্টি আর মেঘের গর্জনে এমনিতেই থমথমে ছিল উত্তরবঙ্গের রাতের পরিবেশ। তার মধ্যেই প্রায় দীর্ঘ ৪০ সেকেন্ড ধরে তীব্র কম্পনে দুলল শিলিগুড়ি শহর ও তার সংলগ্ন এলাকা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর এবং ভূকম্পন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১১টা বেজে ৬ মিনিট। আচমকাই জোরালো ঝাঁকুনি অনুভূত হয় খাস কলকাতা থেকে শুরু করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তর এলাকায়। জানা গিয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটান এবং রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৭।

উৎসস্থল সিকিম ও উত্তরবঙ্গ সংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় এ রাজ্যে ভূকম্পের তীব্রতা ছিল বেশ জোরালো, যার ভরকেন্দ্র হয়ে ওঠে শিলিগুড়ি। ঘড়ির কাঁটায় ১১টা ৭ থেকে ১১টা ৮ মিনিটের মধ্যে চলা এই কয়েক সেকেন্ডের স্থায়ী কম্পনে শিলিগুড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করেই বাড়িঘর, আলমারি, আসবাবপত্র থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক সামগ্রী তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং শিলিগুড়িতে তখন তুমুল ঝড়-বৃষ্টি চলছিল। কিন্তু প্রাণের ভয়ে সেই দুর্যোগের তোয়াক্কা না করেই আতঙ্কিত মানুষজন ছাতা মাথায় দিয়ে তড়িঘড়ি ঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন।

মাসখানেক আগেই মৃদু কম্পন টের পেয়েছিল রাজ্যবাসী। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবারের এই রাতের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই পাহাড়ি ও ডুয়ার্স সংলগ্ন এলাকায় তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছে। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা ও তার সংলগ্ন জেলাগুলিতেও বেশ কিছুক্ষণ ধরে এই কম্পন স্থায়ী হয়েছিল। কলকাতার বহুতল আবাসনগুলির বাসিন্দারা অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসেন। গভীর রাতে আচমকা এই কম্পনের জেরে শিলিগুড়ি ও কলকাতার বহু এলাকাতেই দীর্ঘক্ষণ সাধারণ মানুষকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে গভীর রাত পর্যন্ত এই কম্পনের জেরে রাজ্যের কোথাও কোনও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি। আবহাওয়া দফতর ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

আরও পড়ুন – লক্ষ্য ‘৮০ শতাংশ হিন্দু’: বাছবিচার নয়, যে কেউ আসতে পারেন! বনশলের বার্তায় কাদের ইঙ্গিত?

_

_

_

_
_
_
_
