“এবার রাস্তায় নামব। রাস্তাই আমাদের পথ দেখাবে। জোট বাঁধুন, তৈরি হোন। আড়াই মাসে বাংলার অবস্থা যা করেছে, তাতে মানুষ হাঁসফাঁস করছেন। রাজ্যে এখনও প্রণামীর বাক্সও লুঠ হচ্ছে। এ লজ্জা আমরা রাখব কোথায়!” উত্তাল জনতার গর্জনের মাঝে মঙ্গলবার, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঘোষণা তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। 
বেইমানদের নিশানা করে তৃণমূল সভানেত্রীর কটাক্ষ, ”এতো খেয়েছ যে এজেন্সির একটা ফোনে ভয় পেয়ে গেলে! তোমরা তো এতো কিছু পেয়েছ! আর আমার গ্রাম-বাংলার কর্মীরা, যারা শুধু লড়াই করে গিয়েছে ভালবাসায়, তাদের কথা ভাবলে না! এরপরই নেত্রী সভায় আসা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, লড়াইয়ে নেমেছি। মাথা নত নয়। অভিষেকের বিরুদ্ধে ৪০০ মামলা করেছে। তারপরেও লড়াই চালাচ্ছে। আপনাদের বলি, মামলা করে জেলে ঢোকাবে! ৭ দিন জেল থেকে ঘুরে এসে আবার নামুন। ওদের শিরদাঁড়াটা ভেঙে নুইয়ে দিন।” 
পুলিশের (Police) আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, ”এই পুলিশ আমার চেনা নয়। আর সিআইডি? কী তৎপর। ভাবা যায় না। এই আড়াই মাসে মানুষ বুঝতে পারছেন, পুলিশ নিজের কাজটা ছেড়ে বিজেপির জেলা প্রেসিডেন্টের কাজ করছে। এখানে সভা করতে দেয়নি পুলিশ। কোর্টের নির্দেশে সভা করছি। তাতেও রাতে এসে ভাঙচুর চালাল। পুলিশ কোথায় ছিল? কী করছিল? যে গুণ্ডারা করেছে, সব কটাকে চিনি। যে করেছে তাকেও চিনি। ভেবেছ ভয় পাওয়াবে! মূর্খ। রাত জেগে আমার সহকর্মীরা এই মঞ্চ আবার তৈরি করেছে। মনে রাখবে একুশের মঞ্চ, শহিদের মঞ্চ। কোর্টে গিয়েছিলাম। কোর্টও কড়া ভাষায় সব জানতে চেয়েছে। কোর্টের সিদ্ধান্তকেও এরা কীভাবে উপেক্ষা করে! আজ, একুশের ভোরে ওরা আবার এসেছিল। মেয়েরা দুটো বাইকসহ গুণ্ডাকে ধরেছে। পুলিশকে দিয়েছে। কিছু করবে? মোটেই না। মালদহ থেকে কর্মীরা এসেছে। বলল, কীভাবে মেরে মহিলা কর্মীর মুখ ফাটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ভয় পাইনি। লড়াই হবে। খেলা হবে। দেখি কারা জেতে! গদ্দার-গুণ্ডারা, নাকি মানুষের জোট! নেত্রী এদিন নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেনের (Chandan Sen) বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, উনি বলছিলেন, এখন একজোট হয়ে লড়াইয়ের সময়। আমিও সেটাই বিশ্বাস করি। বিজেপিকে হারাতে জোট বাঁধতে হবে। কলকাতা থেকে লড়াই পৌঁছাতে হবে দিল্লি পর্যন্ত। ওখানে তো সিজেপির (CJP) লড়াইয়ে ভয় পেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংসদ ভবনের পিছনের দরজা দিয়ে পালাতে হয়েছে।”
সভা থেকে আওয়াজ উঠেছে, ”গদ্দারদের আর নয়।” দলনেত্রী তাঁদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলেছেন, ”ঠিক ওদের আর ফেরাব না।” নেত্রীর কথায়, ”চোরগুলোকে আর ফেরাব না”।

আড়াই মাসের বিজেপি (BJP)সরকারের আমলে ২২টি ধর্ষণের ঘটনা। এটা বাংলা? ভোট লুঠের সরকার। ওরা কীভাবে ভোট লুঠ করেছে একদিন সে সত্য বেরবেই। একজন সকাল বিকেল খুব ডায়ালগ দিচ্ছে। তাকে শুধু বলে রাখি, বেশি কথা বোলো না। ১০ বছর কী করেছ, সব বলে দেব। 
প্রতি ২১ জুলাই বৃষ্টি হয়। এবার সকাল থেকে বৃষ্টি আর সভার সময়ে খটখটে রোদ। তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, দেখুন আমাদের ঈশ্বরও আশীর্বাদ ঢেলে দিলেন। বিজেপি স্পনসর্ডদের মাথা ঢাকা। আর আমাদের খোলা আকাশ। উনিই রক্ষা কবচ। সভা থেকে আওয়াজ উঠেছে বিজেপি হঠাও, দেশ বাঁচাও।
















