‘ভালো তৃণমূল’ বলতে ঠিক কী বোঝায়, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা চলছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সেই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দলে যোগদানের প্রশ্নে আরও একধাপ এগিয়ে বার্তা দিলেন বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনশল। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, বিজেপিতে যোগদানের ক্ষেত্রে কোনওরকম বাছবিচার করা চলবে না। দলে যে কেউ আসতে পারেন, এমনকি নিজের স্বার্থে এলেও আপত্তি নেই। তবে আসার পর তাঁকে বিজেপির আদর্শে গড়ে তোলার দায়িত্ব সংগঠনের। একই সঙ্গে দলের মূল লক্ষ্যের কথা মনে করিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, তাঁরা ৮০ শতাংশ হিন্দুর সংগঠন করতে এসেছেন। তৃণমূলের নাম না করলেও দলীয় নেতাদের সামনে দলের অভিমুখ দেখিয়েছেন তাতে রাজনৈতিক মহলের মতে তিনি যে তৃণমূলের জন্য দরজা খুলে রাখলেন।

রবিবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত হয়েছিল বিজেপির পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান। সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ প্রথম সারির নেতৃত্ব। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুনীল বনশল দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা দেন।

দলের কর্মী ও কার্যকর্তাদের মনে করিয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক বলেন, কাজ করতে করতে অনেক সময় প্রশ্ন জাগে যে আমরা বিজেপিতে কেন আছি বা কী কাজ করছি? এরপরই যোগদানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের কাছে সব ধরনের মানুষ আসবেন এবং আসাটাই স্বাভাবিক। একে নেওয়া উচিত, আর ওকে নেওয়া উচিত নয়— এই ধরনের কোনও বার্তা কর্মীদের মধ্যে যাওয়া ঠিক নয়। দলের সংগঠনকে এতটাই মজবুত হতে হবে যাতে যে কেউ দলে এলে তিনি যেন বিজেপির ভাবধারায় মিশে গিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে পারেন।

অনেকেই যে ব্যক্তিগত আখের গোছাতে বা কোনও স্বার্থ নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিতে আসেন, সে কথা কার্যত মেনে নিয়েছেন বনশল। তবে তাতে আপত্তির কিছু দেখছেন না তিনি। তাঁর কথায়, কেউ নিজের স্বার্থে বা কিছু পাওয়ার আশায় আসতেই পারেন। তাঁর চিন্তাভাবনা যেমনই হোক না কেন, দলে আসার পর কাজ করতে করতে তিনি যেন আমাদের দলের বিচারধারা মেনে সারাজীবন কাজ করেন, তেমনভাবে তাঁকে তৈরি করাই সংগঠনের আসল দায়িত্ব।

এর পরেই দলের আসল উদ্দেশ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন সুনীল বনশল। তিনি বলেন, আমরা এখানে কিছু সংখ্যক মানুষের সংগঠন করতে আসিনি, আমরা এসেছি ৮০ শতাংশ হিন্দুদের সংগঠন করতে। যতক্ষণ পর্যন্ত একজন হিন্দুও আমাদের সংগঠনের বাইরে থাকবেন, ততক্ষণ তাঁকে দলের সঙ্গে যুক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ফলে কে আসবে আর কে আসবে না, তা নিয়ে বাছবিচার করার কোনও প্রয়োজন নেই। সবাইকে সংগঠনে যুক্ত করার এই নীতির ফলেই আজ দেশজুড়ে বিজেপির ১৮ কোটি সদস্য হয়েছে। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর শেষ বার্তা, যে কেউ দলে আসুক, তাঁকে যোগ্য কার্যকর্তা বা কর্মীতে রূপান্তরিত করাই আমাদের আসল কাজ।

আরও পড়ুন – ব্লকে জনকল্যাণ শিবিরের দিন ঘোষণা: একমাসের কাজের খতিয়ান পেশ মুখ্যমন্ত্রীর

_

_
_
_
_
