মেয়ো রোডে ফ্লপ শো ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা মেয়ো রোডে শহিদ দিবসের আয়োজন করে নব্য তৃণমূল।  সভায় উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়(Ritabrata Banerjee), মদন মিত্র, অরূপ বিশ্বাস, ববি হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য থেকে অনুব্রত মণ্ডল, অরূপ রায়রা। ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গীদের দেখা গেল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের মঞ্চে। 

এই সভা থেকে শহিদ পরিবারের সদস্যদের মাসিক ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন ঋতব্রত(Ritabrata Banerjee)। কিন্তু দলের অ্যাকাউন্ট যেখানে ফ্রিজ  করেছে ইডি, সেখানে ঋতব্রত-র এই ঘোষণা যে ভাওতা তা সহজেই বুঝতে পারলেন সভায় উপস্থিত হওয়া শহিদ  পরিবারের সদস্যরাও।

দলের তহবিলের প্রসঙ্গ টেনে শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে  ঋতব্রত বলেন, "বিপুল পরিমাণ অর্থ দলের তহবিলে রয়েছে এবং সেই অর্থের সুদ থেকেই কর্মীদের সাহায্য করা সম্ভব।  প্রায় এক হাজার কোটির বেশি টাকার সুদের হিসাব প্রকাশ করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। এর পরই বিরোধী দলনেতা বলেন,  দলের তহবিলে থাকা অর্থ হাতে এলে ২১ জুলাইয়ের প্রত্যেক শহিদ পরিবারগুলিকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।" ঋতব্রতর কথাতেই স্পষ্ট এবার তাদের নজরে দলের তহবিল।

 এরপাাশাপাশি ঋতব্রত হাতিয়ার করেন ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্টও। এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত বলেন,  “ কেন ২১ জুলাইয়ের কমিশনের রিপোর্ট সামনে আসেনি?” ঋতব্রত বলেন, “শহিদ দিবস কোনও রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চ নয়, এটা কোনও ক্যাটওয়াকের মঞ্চ নয়। বাস থেকে নামিয়ে সেলিব্রিটিদের নিয়ে মঞ্চ আলোকিত করার জায়গা নয়। যারা প্রতিদিন লড়াই করেন, তাঁরা প্রাপ্য মর্যাদা পাননি।”

কয়েকদিন আগেও মমতা শিবিরে ছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের ইডি ডাকতেই রাতারাতি পাল্টি খেয়েছেন মদন। শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে মদন বলেন,  "জয় বাংলা, শহীদ স্মরণে আপন মরনে রক্ত ঋণ শোধ করো। আপনারা আমাকে গ্যারান্টি দিন কেউ ইট পাথর মারবেন না। আজ কবিগুরু , গান্ধীর ছবি এই ব্যানারে আছে।  আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই মমতাকে আপনি না থাকলে এই দিনটা আসত না। ক্ষমতা থাকলে এই মঞ্চে এসে মমতা ক্ষমতা চান। একটাও ডিম মাথায় পড়বে না। আপনি এগিয়ে আসুন, আমরা উত্তরীয় পেতে দেব। এই জায়গায় মমতা থাকলে শহীদ পরিবাররা পিছনে থাকত। টলিউডের তারকারা উপরে থাকত, শহিদ পরিবারের সদস্যরা নীচে থাকতেন। আপনাকে মুখ্যমন্ত্রী অভিষেক টলিগঞ্জ বানাইনি। এই বাংলার মানুষ বানিয়েছে।"  

মমতাকে সময়সীমা দিয়ে মদন বলেন, "আমি মমতাকে খোলাখুলি বলছি অভিষেক ১ ঘণ্টা দিয়েছে আমি আপনাকে ১ মাস দিচ্ছি অভিষেককে ছেড়ে এই নেতা নেত্রীদের হাত ধরুন।  একবার স্বীকার করুন পুত্রস্নেহে অন্ধ হয়ে ছিলেন।অভিষেকের হাত ছেড়ে তৃণমূলে আসুন।"


বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন,  "শহিদ পরিবার না থাকলে তৃণমূলের বাড়বাড়ন্ত হত না। মানুষের জন্য তৃণমূল, কৃষকের জন্য তৃণমূল, শ্রমিকের জন্য তৃণমূল। আগামী বছর আরও বড় হবে তৃণমূল।"