Monday, March 16, 2026

বঙ্গ বিজেপিতে সঙ্ঘের চাপ, রাজ্য সভাপতির দৌড়ে এগিয়ে জগন্নাথ!

Date:

Share post:

পার্টি লাইন অনুসারে “এক ব্যক্তি এক পদ” রীতি বাংলার ক্ষেত্রেও অনুসরণ করতে চলেছে বিজেপি। বর্তমান রাজ্য সভাপতি পদে সুকান্ত মজুমদারের বিদায় কার্যত আসন্ন। কেন্দ্রের প্রতিমন্ত্রী সুকান্তর আসনে নতুন মুখ শুধু সময়ের অপেক্ষা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসেই নতুন রাজ্য সভাপতির নাম ঘোষণা করতে পারে বিজেপি। এই পদে কে বসবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। লোকসভা ভোটে বাংলায় চরম বিপর্যয়ের পর পার্টির সর্বস্তরে এটি সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। আলোচনায় বেশ কয়েকটি নাম উঠে এলেও রাজ্য সভাপতির দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন জগন্নাথ সরকার (Jagannath Sarkar)!

সাধারণত গেরুয়া শিবিরে এই ধরনের শীর্ষ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। তাদের অনুমোদন ক্রমে চূড়ান্ত হয় বিজেপির জাতীয় কিংবা রাজ্য সভাপতির নাম। সেই সূত্র ধরেই এবার পশ্চিমবঙ্গে দলের পরবর্তী সভাপতির দৌড়ে সামনের সারিতে উঠে এসেছেন আরএসএসের আশীর্বাদধন্য রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার (Jagannath Sarkar) এই মুহূর্তে রাজ্য সভাপতির দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে তিনি।

জগন্নাথ সরকার দুই দশকের বেশি সময় সঙ্ঘের মহকুমা, জেলা, বিভাগ সহ একাধিক ক্ষেত্রে নানাবিধ দায়িত্বে পালন করেছেন। এমনকী আরএসএসের নির্দেশেই ২০১৩ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৬ থেকে ২০১৯— তিন বছর দলের রানাঘাট দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন জগন্নাথ সরকার। ২০১৯ ও ২০২৪ পরপর দু’বার লোকসভা ভোটে পদ্ম প্রতীকে জিতে সাংসদও হয়েছেন। মাঝে ২০২১ সালে শান্তিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অজয় দে’র মতো দুঁদে রাজনীতিককে পরাজিত করেছিলেন। যদিও বিজেপির ২০০ আসন জয়ের স্বপ্ন মাত্র ৭৭-এ ভেঙে যাওয়ায় শেষপর্যন্ত বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সাংসদ থেকে যান।

সঙ্ঘ সূত্রে খবর, গত ৭-৮ জুলাই আরএসএসের সদর দফতর নাগপুরে ছিলেন জগন্নাথবাবুর স্ত্রী। তারপরই জগন্নাথবাবুর শান্তিপুরের বাড়িতে এসে দেখা করে যান বাংলার সদ্যপ্রাক্তন এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দু’দিন আগের সেই ঘটনার পর থেকেই রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ বঙ্গ সভাপতি হওয়ায় জল্পনা চড়তে শুরু করেছে। যদিও দিল্লি বিজেপির এক সূত্রের দাবি, এব্যাপারে আপত্তি রয়েছে বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। যদিও সঙ্ঘের যাঁকে যোগ্য মনে হবে, পরবর্তী রাজ্য সভাপতি হিসেবে তাঁকেই সমর্থন করবে। যেমনটা হয়েছিল সুকান্ত মজুমদারের ক্ষেত্রে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যখন তাঁকে বঙ্গ সভাপতি করা হয়, সেই সময় তাঁর দলীয় কিংবা প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিশেষ ছিল না। এক্ষেত্রে তো জগন্নাথবাবু যথেষ্ট অভিজ্ঞ। তাই কারও ‘কান ভাঙানিতে’ এই ধরনের সিদ্ধান্তে বিশেষ পরিবর্তন হবে না।

বঙ্গ বিজেপি পরবর্তী সভাপতি হিসেবে চর্চায় রয়েছে আরও দু’টি নাম। তাঁরাও লোকসভার সদস্য—আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা এবং পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত। মনোজ আদি বিজেপি নেতা। সাংগঠনিক ও পরিষদীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে সামলেছেন। সঙ্ঘের ‘গুড বুকে’ও রয়েছেন। অন্যদিকে, জ্যোতির্ময় পরপর দু’বার পুরুলিয়া থেকে জিতেছেন। দু’দফায় দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকও। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে জেতার আগে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তেমন সাফল্য নেই। তিনজনের মধ্যে সঙ্ঘ শেষপর্যন্ত কাকে বেছে নেবে? সেটাই এখন দেখার!

আরও পড়ুন: সাতসকালে ফের কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! ঘটনাস্থলে দমকলের ২০ ইঞ্জিন

 

spot_img

Related articles

বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত, মঙ্গলেই ঘোষণার পথে তৃণমূল

২৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে যে কোনও সময়ে রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণা হতে পারে, এমনটা প্রস্তুতি নিচ্ছিল...

জ্বালানি গ্যাস নিয়ে কেন্দ্রের হঠকারিতা: সোমে পথে মমতা-অভিষেক

মোদি সরকারের ভ্রান্ত বিদেশ নীতির জেরে গোটা দেশে সংকটে সাধারণ মানুষ। লকডাউন থেকে এসআইআর, এবার গ্যাসের সংকটেও যেখানে...

নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হতেই বদল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব

নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হতেই রাজ্যে একের পর এক মনের মত আধিকারিক পদে বদল করতে শুরু করে দিল নির্বাচন...

আচরণবিধি লাগু হতেই কমিশনের কড়া নজর, বদলি ও উন্নয়ন তহবিলে নিয়ন্ত্রণ

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে কার্যকর হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক কাজকর্ম, আধিকারিকদের বদলি এবং উন্নয়নমূলক...