Friday, April 24, 2026

নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনে “নিখোঁজ” ৩ জনের ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের!

Date:

Share post:

অভিশপ্ত সেই ঘটনার ১৪ বছর পার। গঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। তারই মধ্যে ঘটেছে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল। কিন্তু খুঁজে পাওয়া যায়নি ভূমি আন্দোলনের তিন যোদ্ধাকে! এবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে (Nandigram) ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির “নিখোঁজ” ৩ সদস্যের ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ বা মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টে। একমাসের মধ্যে এই শংসাপত্র দিতে হবে স্থানীয় প্রশাসন অর্থাৎ পঞ্চায়েতকে। আজ, বৃহস্পতিবার এমনই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

রাজ্যে তখন ক্ষমতায় বামেরা। ২০০৭ সালের নভেম্বর জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছিল পূর্ব মেদিবীপুরের নন্দীগ্রাম (Nandigram)। সিপিএম সরকারের বিরুদ্ধে গোকুলনগর থেকে মহেশপুর পর্যন্ত মিছিলে হেঁটেছিলেন সত্যেন কুমার গোল, আদিত্য বেরা এবং বলরাম সিংহ। তারপর নিখোঁজ হয়ে যান তাঁরা। ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনজনই।পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, তাঁদের খুন করা হয়েছে। কিন্তু দেহ পাওয়া যায়নি আজকে দিনেও।

এদিকে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, পূ্র্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের তরফে নন্দীগ্রাম ভূমিরক্ষা আন্দোলনে শহীদদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট। এরপর ২০২২ সালে মৃত্যুর শংসাপত্র চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান পরিবারের লোকেরা। কিন্তু শংসাপত্র মেলার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। মামলা দায়ের করা হয় গতবছর অর্থাত্‍ ২০২৩ সালে।

এদিন মামলাটি শুনানি হয় বিচারপতি শম্পা সরকারের এজলাসে। স্থানীয় পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের কাছে বিচারপতি জানতে চান, ‘কী কারণে মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে এত দেরি হচ্ছে’? জবাবে পঞ্চায়েতে আধিকারিকরা বলেন, ‘আমরা ভুল স্বীকার করছি। কিন্তু এখন শংসাপত্র পেতে হলে অনলাইনে আবেদন করতে হবে’।

এরপরই বিচারপতি বলেন, এক মাসের মধ্যে মৃত্যুর শংসাপত্র চেয়ে পঞ্চায়েতে কাছে অনলাইনে আবেদন করবেন ওই ৩ জনের পরিবারর লোকেরা। অনলাইনে আবেদন ক্ষেত্রে পরিবারের লোককে সবরকম সাহায্য করতে হবে পঞ্চায়েতকে। একমাসের মধ্যেই পরিবারের হাতে তুলে দিতে হবে মৃত্যুর শংসাপত্রও।

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, “এটা একটা সমস্যা হচ্ছিল। সিপিএম জমাতেই নন্দীগ্রাম গণহত্যা হয়। একের পর এক লাশ যে সিপিএম গায়েব করে দিয়েছিল এটাই তার প্রমাণ। মমতাদি বারবার বলেছিলেন গণহত্যা হয়েছে। পরিবারের কারোর নিখোঁজ হিসেবে নাম থাকায় হতেই পারে যে মৃতদের পরিবারের তরফে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। অনেকে আশায় ছিলেন যে তারা হয়তো ফিরে আসবেন অথচ সেই লাশ সিপিএম সরিয়ে দিয়েছে। এটা একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা। এই প্রেক্ষিতে আদালত যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আমাদের আইনজীবীরা খতিয়ে দেখবেন।”

আরও পড়ুন:অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, কোটা আন্দোলনের বিক্ষোভের মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা সুমনের

 

Related articles

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আজ জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে সিইও

নির্বিঘ্নে বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৯২ শতাংশের বেশি ভোট দানের হার রীতিমতো রেকর্ড গড়েছে। দ্বিতীয়...

সিরিয়াল ছেড়ে নজরে ভোটের খবর, নির্বাচনী আবহে টলিপাড়ার টিআরপিতে মন্দা !

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই জমে উঠেছে (Election Time)। প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট দান এখন খবরের শিরোনামে। তবে শুধু...

দ্বিতীয় দফার প্রচারে আজ কলকাতা-সহ শহরতলিতে নির্বাচনী কর্মসূচি মমতা-অভিষেকের

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটদান শেষে, এবার নজর দ্বিতীয় দফায় (second phase of West Bengal assembly...

দেড় বছর ধরে নাবালিকাকে লাগাতার যৌন নির্যাতন! গ্রেফতার অভিযুক্ত 

শহর কলকাতার বুকে ফের যৌন নিগ্রহের শিকার নাবালিকা। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেড় বছর ধরে লাগাতার শারীরিক সম্পর্কের নামে...