Monday, March 23, 2026

যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, হাতেপায়ে ধরেও ভর্তি হচ্ছে না! ডাক্তারদের কর্মবিরতির বলি অসহায় মানুষ

Date:

Share post:

সুপ্রিম কোর্ট বলার পরেও কর্মবিরতির (Work S) কর্মসূচিতে অনড় এ রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের একাংশ। আর জি কর কাণ্ডের জেরে তাদের আন্দোলন, প্রতিবাদ, বিচারের দাবি একেবারেই ন্যায়সঙ্গত। সাধারণ মানুষও বিচারের দাবিতে পথে নামছেন, প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জন্য ভুগতে হচ্ছে অজস্র রোগী ও তাঁদের আত্মীয়-পরিজনকে। সরকারি হাসপতালগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। রোগীকে বাঁচাতে অনেক সাধারণ ও গরিব পরিবারকে সামর্থের বাইরে গিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল বা নাসিংহোমে নিয়ে যেতে হচ্ছে। যেখানে মোটা টাকার বিল পরিশোধ করতে কালঘাম ছুটছে।

আর জি কর কাণ্ডের পর থেকে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে ডাক্তারদের লাগাতার কর্মবিরতির (Work Seaze) জেরে রোগী ভোগান্তির একাধিক ঘটনা সামনে আসছে। কোথাও তীব্র শ্বাসকষ্টের রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো গেল না। কোথাও আবার ঘণ্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রেখেও ডাক্তারের অভাবে অপারেশন হল না কিশোরের। কেউ আবার দুর্ঘটনায় জখম হয়ে সময় মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।

এই যেমন, রাজ্যের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল এসএসকেএম অসুস্থ মা-কে নিয়ে এসেছিলেন বাগনানের এক বাসিন্দা।তাঁর মা প্রবল শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। পরিবারের কথায়, দ্রুত ভর্তি করানোর দরকার ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভর্তি নিল না। এভাবে চললে আমাদের গরিব মানুষ কোথায় যাবে! বিনা চিকিৎসায় কি মরতে হবে সকলকে? অন্য এক রোগীর আত্মীয়ের কথায়, ৬ ঘন্টা ধরে অনুরোধ করে, হাতেপায়ে ধরেও ভর্তি নিচ্ছে না। ইমার্জেন্সিতে ফেলে রেখেছে। অক্সিজেন চলছে। বলছে, ক’দিন পর নিয়ে আসুন। কিন্তু, অক্সিজেন খুলে ফেললে আবার সমস্যা তৈরি হবে। অপরাধের সাজা সাধারণ মানুষ পাবে কেন?

এক ভদ্রলোক টাইলসের কাজ করেন। আলিপুরে একটি বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে পড়ে যান। কোমর ভেঙে যায় তাঁর। তড়িঘড়ি তাঁকে পিজি হাসপাতালে আনা হলে সাফ না করে দিয়েছেন ডাক্তাররা। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তি বলেন, “একটা ইনজেকশন দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। বলছে, পরের সপ্তাহে নিয়ে আসুন। ডাক্তার নেই। ভর্তি হবে না। সকলেই খুনি, ধর্ষকের শাস্তি চান। কিন্তু যেভাবে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এর বিচার করবে কে!

একই ছবি দেখা গিয়েছে এনআরএস হাসপাতালে। আউটডোর থেকে রোগীকে ভর্তি করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কাগজপত্র রেডি হওয়ার পরেও ভর্তি করানো যায়নি রোগী। রোগীদের চিকিৎসা না করে বিচার চাইছে! এটা কোনও সঠিক আন্দোলন হতে পারে না। রোগী দেখেও তো আন্দোলন চালানো যায়।

ট্রলিতে শুয়ে কাতরাচ্ছেন বারাসাতের এক বাসিন্দা। নার্ভের সমস্যায় জেরবার তিনি। তাঁর পরিবারের কথায় “আমাদের বাড়িতেও মেয়ে আছে। আমরাও চাই, বিচার হোক। কিন্তু এভাবে রোগী পরিষেবা না দিয়ে মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কেন, এটা কি সঠিক বিচার?”

আরও পড়ুন: “খাবার চাই না, ঘুমোতে চাই”, জেলে ঢুকেই আর্জি সঞ্জয়ের!

 

Related articles

নির্বাচনের মুখে বড় ভাঙন কংগ্রেসে! ভোটের মুখে পদ্ম-শিবিরে নাম লেখালেন সন্তোষ পাঠক

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পর যখন সব দলই ময়দানে নেমে পড়েছে, ঠিক তখনই বড়সড় ধাক্কা খেল জাতীয় কংগ্রেস।...

বাংলাজুড়ে জনসংযোগ-পাড়া বৈঠকে ঝড় তুলছেন তৃণমূল প্রার্থীরা, মঙ্গলবার থেকে নির্বাচনী প্রচারে মমতা-অভিষেক

ক্যালেন্ডারের পাতায় ঠিক একমাস বাকি। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন। আর তার ঠিক ত্রিশ দিন আগে থেকে...

আরজি কর লিফট-মৃত্যু কাণ্ডে এবার জনস্বার্থ মামলা হাই কোর্টে

আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটে আটকে মৃত্যুর ঘটনায় এবার কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল। হাসপাতালের...

ক্যানিং পূর্বে আরাবুল, ভাঙড়েই নওশাদ: বাম-আইএসএফ সমঝোতার প্রথম তালিকায় চমক

ঈদের পর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। সেই মতো সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ২৩...