Saturday, May 23, 2026

যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, হাতেপায়ে ধরেও ভর্তি হচ্ছে না! ডাক্তারদের কর্মবিরতির বলি অসহায় মানুষ

Date:

Share post:

সুপ্রিম কোর্ট বলার পরেও কর্মবিরতির (Work S) কর্মসূচিতে অনড় এ রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের একাংশ। আর জি কর কাণ্ডের জেরে তাদের আন্দোলন, প্রতিবাদ, বিচারের দাবি একেবারেই ন্যায়সঙ্গত। সাধারণ মানুষও বিচারের দাবিতে পথে নামছেন, প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জন্য ভুগতে হচ্ছে অজস্র রোগী ও তাঁদের আত্মীয়-পরিজনকে। সরকারি হাসপতালগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে মৃত্যুর ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। রোগীকে বাঁচাতে অনেক সাধারণ ও গরিব পরিবারকে সামর্থের বাইরে গিয়ে বেসরকারি হাসপাতাল বা নাসিংহোমে নিয়ে যেতে হচ্ছে। যেখানে মোটা টাকার বিল পরিশোধ করতে কালঘাম ছুটছে।

আর জি কর কাণ্ডের পর থেকে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে ডাক্তারদের লাগাতার কর্মবিরতির (Work Seaze) জেরে রোগী ভোগান্তির একাধিক ঘটনা সামনে আসছে। কোথাও তীব্র শ্বাসকষ্টের রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো গেল না। কোথাও আবার ঘণ্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রেখেও ডাক্তারের অভাবে অপারেশন হল না কিশোরের। কেউ আবার দুর্ঘটনায় জখম হয়ে সময় মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন।

এই যেমন, রাজ্যের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল এসএসকেএম অসুস্থ মা-কে নিয়ে এসেছিলেন বাগনানের এক বাসিন্দা।তাঁর মা প্রবল শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। পরিবারের কথায়, দ্রুত ভর্তি করানোর দরকার ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভর্তি নিল না। এভাবে চললে আমাদের গরিব মানুষ কোথায় যাবে! বিনা চিকিৎসায় কি মরতে হবে সকলকে? অন্য এক রোগীর আত্মীয়ের কথায়, ৬ ঘন্টা ধরে অনুরোধ করে, হাতেপায়ে ধরেও ভর্তি নিচ্ছে না। ইমার্জেন্সিতে ফেলে রেখেছে। অক্সিজেন চলছে। বলছে, ক’দিন পর নিয়ে আসুন। কিন্তু, অক্সিজেন খুলে ফেললে আবার সমস্যা তৈরি হবে। অপরাধের সাজা সাধারণ মানুষ পাবে কেন?

এক ভদ্রলোক টাইলসের কাজ করেন। আলিপুরে একটি বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে পড়ে যান। কোমর ভেঙে যায় তাঁর। তড়িঘড়ি তাঁকে পিজি হাসপাতালে আনা হলে সাফ না করে দিয়েছেন ডাক্তাররা। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তি বলেন, “একটা ইনজেকশন দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। বলছে, পরের সপ্তাহে নিয়ে আসুন। ডাক্তার নেই। ভর্তি হবে না। সকলেই খুনি, ধর্ষকের শাস্তি চান। কিন্তু যেভাবে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এর বিচার করবে কে!

একই ছবি দেখা গিয়েছে এনআরএস হাসপাতালে। আউটডোর থেকে রোগীকে ভর্তি করার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কাগজপত্র রেডি হওয়ার পরেও ভর্তি করানো যায়নি রোগী। রোগীদের চিকিৎসা না করে বিচার চাইছে! এটা কোনও সঠিক আন্দোলন হতে পারে না। রোগী দেখেও তো আন্দোলন চালানো যায়।

ট্রলিতে শুয়ে কাতরাচ্ছেন বারাসাতের এক বাসিন্দা। নার্ভের সমস্যায় জেরবার তিনি। তাঁর পরিবারের কথায় “আমাদের বাড়িতেও মেয়ে আছে। আমরাও চাই, বিচার হোক। কিন্তু এভাবে রোগী পরিষেবা না দিয়ে মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কেন, এটা কি সঠিক বিচার?”

আরও পড়ুন: “খাবার চাই না, ঘুমোতে চাই”, জেলে ঢুকেই আর্জি সঞ্জয়ের!

 

Related articles

গ্রেফতার সুজিত ‘ঘনিষ্ঠ’ দক্ষিণ দমদমের কাউন্সিলর টিঙ্কু

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose), এবার তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলেও...

দেশজুড়ে ফের বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম 

মধ্যবিত্তের পকেটের চাপ বাড়িয়ে ফের বাড়ল জ্বালানির দাম (Petrol Diesel Price hike)। এই নিয়ে গত ১০ দিনে তৃতীয়বার...

ইমপার বৈঠকে চূড়ান্ত অসভ্যতা! পিয়াকে হেনস্থা, আস্থা ভোটে সভাপতি বদলের ইঙ্গিত

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার রদবদলের পরই টালিগঞ্জ পাড়ায় রদবদলের ইঙ্গিত মিলেছে। এবার কার্যত সেই ইঙ্গিতেই শিলমোহর। ইমপার (EIMPA)...

কীভাবে পুরসভার অধিবেশন বেআইনি বাতিল: পুলিশি তদন্তের দাবিতে থানায় চেয়ারম্যানের

কলকাতা পুরসভা শুক্রবার নজিরবিহীন অধিবেশন বাতিলের সাক্ষী থেকেছে। তার পরে বিজেপির কাউন্সিলররা বিধায়কদের নেতৃত্বে কলকাতা পুরসভাতেও (Kolkata Municipal...