Monday, May 18, 2026

শতরূপকে খোলা চিঠি ‘বিশ্ববাংলা সংবাদ’-এর সম্পাদকের

Date:

Share post:

প্রিয় শতরূপ,
তুমি আমার থেকে অনেকটাই ছোট। তাই তুমি দিয়ে শুরু করলাম। লেখাটা লিখছি বিশ্ববাংলা সংবাদের সম্পাদক হিসাবে। আমার পোর্টাল নিয়ে তোমার উষ্মা এবং কিছু দুর্বিনীত শব্দ আমাকে এই লেখা লিখতে বাধ্য করল।

শুরুতেই বলি, আমার পোর্টালের কোনও চিত্র সাংবাদিক ওই ছবি দুটি তোলেননি। তোমার কোনও শুভানুধ্যায়ী তুলেছেন। এবং নানা পথে ঘুরতে ঘুরতে আমাদের হাতে আসে। আমরা ছবিটির সত্যাসত্য যাচাই করার পর খবরটি করার সিদ্ধান্ত নিই। ছবিটি যে যথার্থ তা তোমার পোস্টেই স্পষ্ট। ধরা পড়ে যাওয়ার পর অক্ষমের আস্ফালনের ভঙ্গিতে যা-যা বলেছ, যে-যে ভাষা ব্যবহার করেছ, তাতে নিজের চরিত্র, রুচি, শিক্ষার যথার্থ পরিচয় দিয়েছ। কমিউনিস্ট পার্টি কেন এখন শূন্য থেকে মহাশূন্যে বিচরণ করছে, তা তুমি নিজেই প্রমাণ করে দিয়েছ। আর একটা কথা বলি, হু ইজ শতরূপ? যার জন্য এত কষ্ট করতে বলব আমার চিত্র সাংবাদিককে!তবু কেন এই খবর? তুমি এবং তোমার দলের সকলের স্লোগান ছিল, উৎসবে নেই বিচারে আছি। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব ঘিরে উন্মাদনা থাকে। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিরাট এক অর্থনীতি। হিসাব বলছে, ৫০ হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি। খেটে খাওয়া বহু মানুষ তাকিয়ে থাকেন এই উৎসবের দিকে। কিছু রোজগার, কিছু অতিরিক্ত রোজগারের আশায়। তোমার দল সেই অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে আরজি করের তাস খেলছে। ছেঁদো রাজনীতি। কিন্তু রাস্তায় নেমে স্লোগান দেব আর উৎসবের শরিক হয়ে শপিং মলে বাজার করব নিজেই, এ কেমন দ্বিচারিতা? সেটা নিয়ে প্রশ্ন করলেই কুণাল ঘোষকে টেনে আনতে হবে? নোংরা আক্রমণ করতে হবে? উৎসবে নেই, বিচারে আছি… বলে দলের মুখপত্রে ব্যানার হেডিং হবে, আর সেই মুখপত্রেরই প্রথম পাতায় “দুর্গাপুজো উদযাপন করুন গৌরবের সঙ্গে” বিজ্ঞাপন ছাপা হবে, ব্যাপারটা গুলিয়ে দেওয়ার। আর সে নিয়ে প্রশ্ন করলেই গালাগালি দেওয়া হবে! অন্তর্বাস কেনার মতো নিম্নমানের উদাহরণ দেওয়া হবে? এটা কেমন সংস্কৃতি? সিপিএমের এমন দৈন্যদশা হয়েছে ভাবলেও অবাক হতে হয়।

দ্বিতীয়ত, বিচারের নামে রোজ মিছিল, রাস্তা জোড়া, ট্রাফিক জ্যাম, মানুষের হয়রানি। রাস্তায় বসা ছোট ছোট ব্যবসায়ীর মাথায় হাত। তাদের কথা ভেবেছ? তাদের বাড়ির ছোট ছোট ছেলে-মেয়ের কথা একবারও ভেবেছ যারা বছরের এই সময়টা বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে! একবারও তাদের সঙ্গে কথা বলেছ? তোমার দলের আসল উদ্দেশ্য তো বিচার নয়, ইস্যুটাকে কাজে লাগিয়ে অরাজনীতির ছদ্মবেশে কিছু ডিভিডেন্ড জোগাড় করা। দলের কিছু মার্কামারা ডাক্তারদের নিরপেক্ষ তকমায় বাজারে নামিয়েছে তোমার দল। কারণে অকারণে মিছিল। কিন্তু মানুষ এখন বুঝছেন, আসলে তোমরা ভেকধারী। বিনা চিকিৎসায় ২৯ জনের, বন্যায় ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেদিকে কে খেয়াল রাখে। ওসব থাক। কেন না আরজি কর এখন ডিভিডেন্ড দিচ্ছে, তাই না? যদি দলটাকে এই সুযোগে কিছু পাইয়ে দেওয়া যায়! তুমি সেই প্রতিবাদের উচ্চকিত স্বর। যে প্রায় রোজ নিয়ম করে এ কথাগুলো চ্যানেলে-চ্যানেলে বলে বেড়াচ্ছ। আর এই দ্বিচারিতা ধরিয়ে দিতেই এমন নিকৃষ্টমানের উষ্মা কেন? ধরা পড়ে যাওয়ার পর এছাড়া আর কীই বা বলার থাকে ভাই শতরূপ? আমরা বুঝি!তৃতীয়ত, তুমি লিখেছ, ধর্ষণের প্রতিবাদ হলে কুণাল ঘোষ ও তাঁর নেত্রীর কেন এত চুলকানি!! প্রথমেই বলি ভাই শতরূপ, কার সম্বন্ধে চুলকানি শব্দ ব্যবহার করছ? একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তাকে একথা বলা যায়? তোমার সিনিয়র সুজনদাদের একথা একবার জিজ্ঞাসা করে দেখো তো ওরা তোমাকে সমর্থন করেন কিনা! আর অন্যজন কুণাল, তার প্রতিভার ধার কাছ দিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা তোমার আদৌ আছে কি? তোমার তথ্যের জন্য জানিয়ে রাখি, আরজি করের নৃশংস ঘটনা ঘটার ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রথম কুণাল ঘোষই বলেছিলেন, দোষীর শাস্তি হোক, ফাঁসি হোক। প্রয়োজনে ভিডিও পাঠিয়ে দেব। কিন্তু ভাই, তখন তো তোমার দল ইস্যুটাতেই ঢুকতে পারেনি। বলা উচিত, বুঝতেই পারেনি যে এর থেকে কিছু ডিভিডেন্ড পাওয়া যেতে পারে। তাহলে? চুলকানি শব্দ প্রয়োগ করে নিজেকে কেন লুম্পেনদের আসনে বসাচ্ছ? সমালোচনা করলে নিতেও তো শিখতে হবে! ওই যে বললাম, কমিউনিস্ট পার্টির যে রাজনৈতিক শিক্ষা তলানিতে আসিয়া ঠেকিয়াছে, তা স্পষ্ট মালুম হইতেছে।

চতুর্থত, শপিং মলে জামা কিনতে গিয়েছ। লিখেছ, সৎ পথে আয়ের অর্থে কেনা। যতদূর জানি তুমি পার্টির হোলটাইমার। তোমরা যে অর্থ পাও, তাতে আর যাই হোক, শপিং মলে কেনাকাটা কী করা যায়? ধরে নিলাম পরিবারের কারওর উপার্জনের অর্থে কিনেছ। তাহলে সেটা বলে দিলেই তো ল্যাটা চুকে যেত। তাতে তথ্যগত বিভ্রান্তিও দূর হতো। বাড়ির লোকজনেও শান্তি পেতেন। একসময় পার্টির হোলটাইমার শতরূপের ২২ লাখ টাকার গাড়ি কেনার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। তুমিই দিয়েছিলে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল। বাবার কষ্টার্জিত অর্থে তোমার আয়েশের বাহন কেনার কথা জানার পরে আর তো কেউ প্রশ্ন করেননি!

শেষত, কটাক্ষ করতে গিয়ে লিখেছ, কার যেন অন্তর্বাস (পড়ুন আন্ডারপ্যান্ট) সারদার পয়সায় কেনা বলে সিবিআই নাকি বাজেয়াপ্ত করেছিল। কার উদ্দেশে এ কথা? হয়েছে নাকি? থাকলে জানাও। এ তো দারুন খবর। সংবাদ মাধ্যমে থেকেও তো জানতে পারলাম না! নাকি মনগড়া? মনগড়া কথা লিখলেও সেখানে রুচিবোধ থাকে। আমি নিশ্চিত, তোমার অভিভাবকও তোমার এই নিচ সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করেন না! পারলে তাদের কাছ থেকে এই পোস্টটা আড়াল করে রেখ। ওঁরাও লজ্জা পাবেন।

শতরূপ, বিশ্ববাংলা সংবাদকে জড়িয়ে দ্বিতীয়বার এ ধরনের কথা আশা করি বলবে না। কোথায় থামতে হয়, সেটা তোমার জানা দরকার। প্রয়োজনে আমরাও অনেক কিছু লিখি না, বলি না, কারণ, সেখানেও থাকে রুচি ও সংস্কৃতির গণ্ডি। আগামী দিনে সেই কথাগুলো বলতে আশা করি বাধ্য করবে না।









Related articles

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলেই মুক্তহস্ত কেন্দ্র: জলজীবন মিশনের ৩৯ হাজার কোটি অনুমোদন

বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হলে কেন্দ্র থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রথমেই রেল...

বাংলায় পাথরবাজি চলবে না, পুলিশের গায়ে হাত দিলে যতদূর যেতে হয় যাব: কড়া বার্তা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দুর

বাংলায় পাথরবাজি চলবে না, পুলিশের গায়ে হাত দিলে পুলিশমন্ত্রী হিসেবে যতদূর যেতে হয় যাব। রবিবার পার্কসার্কাসে অশান্তির পরে...

অভিষেকের চিঠি নাকচ, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নিয়ে জট

বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে বিধানসভায় বেনজির জট। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shovandeb Chattopadhyay) বিরোধী নেতা বলে তৃণমূলের তরফে সর্বভারতীয় সাধারণ...

ISL: এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল, আশা আছে বাগানেরও, জানুন খেতাব জয়ের সমীকরণ

ডার্বিতেও আইএসএল(ISL) খেতাবের ফয়সালা হয়নি, ইস্টবেঙ্গল(East Bengal) জয়ের দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও আশা শেষ হয়ে যায়নি মোহনবাগানেরও (Mohun bagan)...