Wednesday, April 1, 2026

‘গ্রেট গ্রেস’, উৎপল সিনহার কলম

Date:

Share post:

উৎপল সিনহা

প্রথম বলেই ক্লিন বোল্ড । বোলার অখ্যাত । ব্যাটসম্যান কিন্তু নির্বিকার । প্যাভিলিয়নে ফেরার কোনো নামগন্ধ নেই । তিনি কী করলেন ? স্ট্যাম্পের বেল আবার জায়গামতো বসিয়ে বোলারকে বললেন , ‘ ট্রায়াল বল হিসেবে প্রথম বলটা ভালোই করেছো বাছা । বেশ , তবে এবার শুরু হোক আসল খেলা । ‘ বোলার তো হতভম্ব ! কোনভাবেই ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরাতে রাজি করানো গেল না । আরেকবার অন্য একটা ম্যাচে আম্পায়ার তাঁকে এল বি ডব্লিউ আউট ঘোষণা করার পর তিনি সরাসরি আম্পায়ারকে বলেন ,
‘ এই যে এত মানুষ টিকিট কেটে মাঠে এসেছে , এরা কেউ তোমার আম্পায়ারিং দেখতে আসে নি , এসেছে আমার ব্যাটিং দেখার জন্য ‘ ।
কে এই আশ্চর্য ক্রিকেটার ?
ইনি বিখ্যাত ডব্লিউ জি গ্রেস । পেশায় ডাক্তার । ক্রিকেট পাগল । আরও পরিস্কার করে বললে ব্যাটিং পাগল । সবসময় ব্যাট করতে চাইতেন , কিন্তু কখনও আউট হতে চাইতেন না । আম্পায়ার আউট দিলেও মাঠ ছাড়তে চাইতেন না ।

একবার একটা ম্যাচে বোল্ড হবার পর তিনি আম্পায়ারকে বলেন , ‘ আপনি জানেন কিনা জানিনা , আসলে ঝোড়ো বাতাসেই স্টাম্পের বেলটা পড়ে গেছে ‘ । এর উত্তরে ওই আম্পায়ার মুচকি হেসে বলেন , ‘ আশা করি বাতাসটি আরেকটু ঝোড়ো গতি পেয়ে ডাক্তার সাহেবকে প্যাভিলিয়নে উড়িয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে’ । আউট হতে ইচ্ছে করতো না তাঁর ।‌ কিছুতেই মাঠ ছাড়তে চাইতেন না । আম্পায়াররাও বোধহয় তাঁর এই ইচ্ছেটাকে সম্মান করতেন অথবা কিছুটা বাধ্য হয়েই মেনে নিতেন ।

১৮৯৮ সালে অনুষ্ঠিত এক ম্যাচে একাধিকবার আউটের আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হয়ে ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন ফাস্ট বোলার চার্লস কোর্টনাইট । শেষে একেবারে দুটো উইকেট উপড়ে দিয়ে বোল্ড করে দিলেন গ্রেসকে । এরপর গ্রেসের দিকে এগিয়ে এসে বললেন , ‘ ডাক্তার সাহেব , তুমি এবার নিশ্চয়ই মাঠ ছাড়বে ? ‘ তখন গ্রেস বলেন , ‘ দেখতেই তো পাচ্ছো একটা স্টাম্প এখনও মাটিতে দাঁড়িয়ে আছে , তাছাড়া লোকে গাঁটের পয়সা খরচ করে আমার ব্যাটিং দেখতে এসেছে , তোমার বোলিং দেখতে আসে নি ‘ । গ্রেসের একটা মজার অভ্যাস ছিল । স্লিপে বা আউটফিল্ডে ক্যাচ উঠলে তিনি বিকট চিৎকার করে উঠতেন , ‘ মিস ইট ‘ ব’লে ।‌ সেই ভয়াবহ চিৎকারে ফিল্ডার হকচকিয়ে গিয়ে ক্যাচ ফেলে দিতো । আসলে ক্রিকেট ব্যাপারটাই তিনি দারুণ উপভোগ করতে চাইতেন । ব্যাটিং ছিল তাঁর প্রাণের আরাম ।

তাঁর সমকালে দলের সঙ্গে কোনো ফিজিও থাকতেন না। তাই গ্রেস সাহেব তাঁর ডাক্তারি ব্যাগটা সবসময় সঙ্গে নিয়ে খেলতে যেতেন । নিজের দলের অথবা প্রতিপক্ষ দলের কোনো খেলোয়াড় আহত বা অসুস্থ হলেই তিনি তাঁর চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে লেগে পড়তেন তাঁকে সুস্থ করে তুলতে । তাঁর এই মানবিক দিকটি তাঁকে আরোও বেশি জনপ্রিয় করে তোলে । উইলিয়াম গিলবার্ট গ্রেস । সংক্ষেপে ডব্লিউ জি গ্রেস । তাঁকে বলা হয় আধুনিক ক্রিকেটের জনক । ১৮৪৮ সালের ১৮ জুলাই তিনি জন্মগ্রহণ করেন ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে এবং ২৩ অক্টোবর ( ১৯১৫ ) লন্ডনে তাঁর মৃত্যু হয় ৬৭ বছর বয়সে । প্রথমে তিনি ছিলেন অপেশাদার ক্রিকেটার । তিনিই প্রথম ক্রিকেটার যিনি একইসাথে ব্যাকফুট ও ফ্রন্টফুটে অতি সার্থকভাবে শটস খেলা শুরু করেন । সেইসময় ব্যাকফুটে খেলার প্রচলন ছিল না । গ্রেসের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ছিল দেখার মতো । তাঁর নিখুঁত পেশাদারী মানসিকতা তাঁকে পরবর্তীতে পেশাদার ক্রিকেটের দিকে ঠেলে দেয় ।

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৯ টি দলের হয়ে খেলে ৮৭০ ম্যাচে তিনি রান করেন ৫৪,২১১ । সেঞ্চুরি করেন ১২৪ টি , ফিফটি ২৫১ টি । বল হাতে পেস বোলিং করে উইকেট পান ২৮০৯ টি । ৫ উইকেট পান মোট ২৪০ বার এবং ১০ উইকেট পান ৬৪ বার । ক্যাচ নিয়েছেন মোট ৮৮৭ টি । এমন খাঁটি অলরাউন্ডার বিশ্ব ক্রিকেটে খুব কমই দেখা গেছে । ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অভিষেক হয় ৩২ বছর বয়সে । মোট ২২ ম্যাচে ২ টি সেঞ্চুরি-সহ ১০৯৮ রান করেন । খেলেছেন প্রায় ৫১ বছর বয়স পর্যন্ত । এই নিষ্ঠা ভাবা যায় না । এমন বর্ণময় ক্রিকেট-জীবন বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরল ।

আরও পড়ুন- শুধুমাত্র ফাটানো যাবে সবুজ বাজি! সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা পুলিশ

Related articles

‘অপারেশন আরাহামা’য় খতম জঙ্গি! জম্মু-কাশ্মীরে উদ্ধার দেহ

রাতভর চলল জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) গান্দেরবাল জেলায় জঙ্গি দমন অভিযান 'অপারেশন আরাহামা'। মঙ্গলবার রাতেই সেনা, পুলিশ এবং...

একটা কাজও যদি করত: ফরাক্কার ড্রেজিং নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা মমতার

মুর্শিদাবাদ জেলায় সবচেয়ে বড় সমস্যা গঙ্গার ভাঙ্গন। বড়েঞায় দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে নিয়ে ফরাক্কার ড্রেজিং নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা...

বিশ্বকাপে নেই ইতালি, ভেন্যু নিয়ে ইরানকে কড়া বার্তা ফিফার

বিশ্বকাপ(FIFA World Cup) শুরুর আগেই অঘটন। চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি(Italy) এবারও বিশ্বকাপের টিকিট পেল না। বসনিয়া-‌হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে...

সকাল থেকে ভ্যাপসা গরম, এপ্রিলের শুরুতেই হাঁসফাঁস অবস্থা দক্ষিণবঙ্গের 

পয়লা এপ্রিলের সকাল থেকেই তীব্র গরমে নাজেহাল অবস্থা কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গবাসীর। চৈত্রের দহনে চাঁদিফাটা রোদ জেলায় জেলায়। আলিপুর হাওয়া...