Tuesday, May 26, 2026

মিলছে না সদস্য, টার্গেট পূরণে এবার পদ-কেরিয়ারের অফার! বঙ্গ বিজেপির ভূমিকায় ক্ষুব্ধ দিল্লি

Date:

Share post:

আর জি কর-কাণ্ডের প্রেক্ষিতে ঘোলাজলে মাছ ধরতে নেমে পড়ে বিজেপি। বাংলায় ১ কোটি সদস্য পদ টার্গেট বেঁধে দেয় দিল্লি। কিন্তু ময়দানে নেমে বঙ্গ-বিজেপি বুঝতে পেরেছে টার্গেটের ধারেকাছে পৌঁছনো সম্ভব নয়। টেনে টুনে ৫০ লক্ষ সদস্য নিয়েই কি এবার সন্তুষ্ট থাকতে হবে- মনে করছে গেরুয়া শিবির। টার্গেট পূরণে এবার দলীয় পদ দেওয়ার ‘অফার’ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের কেরিয়ারের অফার দেওয়া হচ্ছে। মুখ বাঁচাতে নানা কৌশল করছে বাংলার বিজেপি নেতারা। ক্ষোভ বাড়ছে দিল্লিতে।

১ কোটি সদস্যে সংখ্যা়র লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না ধরে নিয়েই এগোচ্ছেন পদ্ম শিবিরের নেতারা। লক্ষ্যসমাত্রা পূরণে নানা কৌশল নিচ্ছে তাঁরা।
প্রথমত- একশো সদস্যা করলেই দলীয় পদ দেওয়ার ‘অফার’ দেওয়া হয়েছে। শর্ত পূরণে সক্রিয় সদস্য- করতে পারলে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে।
দ্বিতীয়ত- পড়ুয়াদের মধ্যে থেকে সদস্যূ তুলে আনতে রাজনীতিতে ‘কেরিয়ার মেলা’ করছে বঙ্গ বিজেপি। রাজনীতিও হতে পারে খুব ভালো কেরিয়ার অপশন। উন্নতির পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজের প্রচুর সুযোগ। বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে যে শুধু বিজেপিই পড়ুয়াদের এই সুযোগ দিতে পারে। রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ, সরকারি চাকরির কোচিং সেন্টারগুলির বাইরে ক্যাম্প করে এভাবেই সদস্য বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে পদ্ম শিবির। উদাহরণ হিসেবে ২০১৪ এবং ২০১৯-এ পার্টির সদস্য হওয়া ছাত্রছাত্রীদের উন্নতির গ্রাফ দেখানো হচ্ছে। এই প্রচার ক্যাম্পগুলির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপির যুব মোর্চাকে।

তবে, চেষ্টা যতই হোক, বঙ্গ বিজেপি ব্যির্থতা নিয়ে রাজ্যেরর নেতৃত্বকে ভর্ৎসনা করেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। বিজেপি সূত্রে খবর, ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি জানান, যে জেলায় সদস্যে সংগ্রহ ভাল হবে না, ধরে নেওযা হবে সেই জেলা সভাপতিরা কাজ করছে না। তাদের পদে না রেখে অবিলম্বে সরিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে নিজে কথা বলবেন সুনীল বনসল।

রাজ্যা বিজেপির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সুনীল বলেন, বঙ্গ বিজেপিতে ব্য ক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে পদ দেওয়া হচ্ছে। ফলে অযোগ্যেরা বিভিন্ন গুরুতত্বপূর্ণ পদ থেকে শুরু করে জেলা সভাপতি পদে বসে রয়েছেন। দলের একাংশ বলছে, ২০১৮ সালে বাংলায় বিজেপির সাংগঠনিক চেহারাটাই আলাদা ছিল। তখন বাংলায় দলের সাংসদ ও বিধায়কের সংখ্যা কম থাকলেও সাংগঠন শক্তিশালী থাকায় বুথস্তর থেকেই সদস্য সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপকভাবে সাড়া মিলেছিল। কিন্তু বিধানসভা ও লোকসভার ভোটের পর থেকে দলের সংগঠন তলানিতে চলে গিয়েছে।

আরও পড়ুন- মানব-সেবায় উজ্জ্বল নজির জনদরদী অভিষেকের, দাঁড়ালেন মুর্শিদাবাদের ক্যান্সার আক্রান্তের পাশে

বিজেপি সদস্যো সংগ্রহে ছাত্রদের টার্গেট করা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষের কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘আসলে বিজেপি সিপিএমের উপর জোর দিয়েছে। কখনও বলে মিসড কল, কখনও বলে ছাত্র। আসলে সিপিএমকে টার্গেট করে ওরা। ওদের ভোট বাড়লে সিপিএমের ভোট কমে। এর থেকে সুকান্তবাবু বরং সেলিম বাবুদের সঙ্গে বসে কথা বলে কিছু সদস্য নিয়েনিলেই তো পারে। একটা ফর্ম দিক বিজেপি, সেটা পুরণ রে প্রকাশে‌্য বিলি করে দিলেই তো পারে সিপিএম।’’

 

Related articles

লালবাজারে মুখ্যমন্ত্রী: সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারের ঈদের নামাজ নিয়ে

রেড রোডে যে ঈদের নামাজ হবে না, আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। এবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডেই যে...

চাকরি সংরক্ষণে নতুন ১০০ পয়েন্ট রোস্টার, ওবিসি কোটা ৭ শতাংশ রেখে নয়া নির্দেশিকা জারি রাজ্যের

রাজ্য সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ নীতিতে বড়সড় রদবদল ঘটাল নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার শ্রম দফতরের তরফে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি...

উলটা লটকাকর… শাহর নির্বাচনী ভাষণে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ, ফিরিয়ে দিল থানা!

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে যে ভাষার সন্ত্রাস বিজেপির নেতারা করেছিলেন, তার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর...

ধর্মাচরণে আঘাত! মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণায় অনিশ্চয়তা গঙ্গাসাগর সেতু নিয়ে

পূর্ববর্তী সরকারের সব প্রকল্প ও সিদ্ধান্ত বাতিল করতে তৎপর বর্তমান বিজেপি সরকার। তা করতে গিয়ে কখনও তৃণমূলের চালু...