Tuesday, March 24, 2026

বাংলা এখন শিল্পের জন্য আদর্শ: Infosys-এর নয়া ক্যাম্পাসের উদ্বোধনে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ

Date:

Share post:

নতুন বছরের আগেই বাংলার তরুণ-তরুণীদের জন্য সুখবর। নিউটাউনের হাতিশালায় ইনফোসিসের (Infosys) নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কয়েক হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ। বুধবার, ইনফোসিসের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু ইনফোসিসের জন্য নয়, বাংলার জন্যও আজকের দিনটি ঐতিহাসিক।

তৃতীয় দফায় রাজ্যের শাসনভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই বাংলায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের উপর জোর দিয়েছেন মমতা। বাংলায় বিনিয়োগ টানতে বিশাল মাপে হচ্ছে বাণিজ্য সম্মেলন- BGBS। এবার রাজ্যে Infosys-এর দ্বিতীয় ক্যাম্পাস হল নিউটাউনে। ১৭ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে ৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হতে চলেছে। রাজ্যে নতুন শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে। উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী জানান “বাংলা এখন শিল্পের জন্য আদর্শ জায়গা। একাধিক সংস্থা বাংলায় শিল্প গড়েছে এবং আগামী দিনেও তৈরির জন্য ইচ্ছে প্রকাশ করেছে। একাধিক তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাও এই তালিকায় রয়েছে। আমরা ইউএসএ-র মত এখানে ২ হাজার একর জমির ওপর সিলিকন ভ্যালি তৈরি করেছি। ৭ হাজার কোটি টাকার লগ্নি হয়েছে সেখানে। ২৫ হাজার আইটি জব তৈরি হয়েছে। ২৮ টি কোম্পানি ইতিমধ্যে সেখানে কাজ শুরু করেছে। আরও ৪০টি কোম্পানি কাজ শুরু করেছে। ১১টি কোম্পানি কাজ তৈরির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যাধুনিক ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাংলায় শিল্পের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে অনুকুল পরিকাঠামো রয়েছে। দক্ষ এবং অভিজ্ঞ কর্মীও আছে। শিল্পের জন্য সরকার ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি করেছে। যখন রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছিলাম তখন কোনও সুযোগ ছিল না। কিন্তু এখন সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটা আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের।“

বাম আমলের লোর্ডশেডিং-এর প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে বাংলায় গড়ে ২৩ ঘণ্টা লোডশেডিং হত। এখন আর লোডশেডিং হয় না। এটাও বাংলায় শিল্পের অনুকুল পরিবেশ তৈরির অন্যতম কারণ। দেওচা পচামিতে কাজ শুরু হলে আগামী ১০০ বছর রাজ্যে বিদ্যুৎ ঘাটতির কোনও সম্ভাবনা নেই।

আগের কর্মনাশা ধর্মঘটের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন “ধর্মঘটের ফলে ৩৬৫ দিনের মধ্যে অন্তত ৩০০ দিন নষ্ট হত। কিন্তু শেষ ১৩ বছরে ১ দিনও কর্মদিবসও নষ্ট হয়নি। এর কৃতিত্ব জনগণের। রাজ্যে এই মুহূর্তে ২ হাজার২০০টি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা কাজ করছে। আগামী দিনে আরও একাধিক সংস্থা বাংলায় শিল্প তৈরির ইচ্ছে প্রকাশ করেছে। রাজ্যের জিডিপির গ্রোথও বৃদ্ধি পেয়েছে।“

ইনফোসিসের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা বাংলার জন্য নতুন ইতিহাস তৈরি করল। ওদের দেখে বাকিরাও বাংলায় আসার জন্য উৎসাহ পাবে। ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলন রয়েছে। সব দেশের শিল্পপতি ও প্রতিনিধিদের বলব, আসুন দেখে যান, বাংলার শিল্পের পরিবেশ।“

Related articles

প্রকাশিত হল প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট! কীভাবে দেখবেন? জানুন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার রাত বারোটার ঠিক কয়েক মিনিট আগে প্রথম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা (সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট) প্রকাশ...

হিংসা ও ভয়মুক্ত ভোট সুনিশ্চিত করতে কড়া নবান্ন, জেলাশাসকদের বিশেষ নির্দেশিকা মুখ্যসচিবের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণভাবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এবার কোমর বেঁধে নামল...

ভোটের মুখে মহকুমাশাসক স্তরেও কোপ, রাজ্যে একযোগে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরাল কমিশন

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলে বেনজির সক্রিয়তা দেখাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং জেলাশাসকদের...

ভোট মিটলেই ফের তদন্তের মুখে শুভেন্দু, স্থগিতাদেশ দিলেও ছাড়ল না আদালত

স্বস্তি মিলল, তবে তা নেহাতই সাময়িক। খড়দহ থানার দায়ের করা বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি...