Sunday, April 12, 2026

মনমোহন মৃত্যুতেও নীরব! দেশের সেলিব্রেটি আইকনদের অগ্রাধিকার কী? প্রশ্ন অভিষেকের

Date:

Share post:

দেশের ক্রীড়াবিদ ও চলচ্চিত্র শিল্পীদের নৈতিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মনমোহন সিংয়ের মৃত্যুতে তাঁদের নীরবতা সাংসদকে শুধুমাত্র অবাক করেনি, তিনি প্রশ্ন তুলেছেন আদতে এইসব আইকনরা কাদের প্রতি দায়বদ্ধ তা নিয়েও। সে সঙ্গে সাধারণ মানুষকে নতুন বছরে কাদের আইকন হিসেবে বেছে নেবেন তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে অভিষেক লেখেন, দেশের একজন মহান নাগরিক মনমোহন সিংকে(Manmohan Singh) হারিয়েছে ভারত, যার গভীর জ্ঞান এবং দার্শনিক নেতৃত্ব দেশের অর্থনীতিকে নতুন রূপ দিয়েছিল। ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক বিবর্তনের রূপকার, যাঁর অবদান ভারতের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতিতে অসামান্য আলোড়ন এনেছিল। রাজনীতি নির্বিশেষে যে বিপুল সম্মান তিনি অর্জন করেছিলেন, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

অথচ এত সম্মাননার মাঝে দেশের একাংশের মানুষের নীরবতা অবাক করেছে অভিষেককে। সেইসব তথাকথিত আইকনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এটা একদিকে অবাক করা অন্যদিকে হৃদয় বিদারক যে দেশের প্রতিষ্ঠিত ক্রীড়াবিদ ও চলচ্চিত্র জগতের ব্যক্তি, যাদের অনেক সময়ই রোল মডেল (role model) হিসাবে তুলে ধরা হয়, তাঁদের এই বিষয়ে নীরবতা। মনমোহন সিংয়ের চলে যাওয়াকে গুরুত্ব দিতেও তাদের অনীহা তাঁদের নিজেদের অগ্রাধিকার, দায়িত্ববোধ এবং সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। মনে হচ্ছে যেন তাঁদের এই নীরবতা সরকারের বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার ভয়েই, ঠিক যেমন জাতীয় ইস্যুগুলিতে এরকম তথাকথিত আইকনদের (icon) নীরব থাকাই নতুন প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ধরনের উদাসীন্য নতুন নয়। এই একই ব্যক্তিরা নীরব থেকেছেন কৃষক আন্দোলনে, সিএএ-এনআরসি (CAA NRC) আন্দোলনে এবং মনিপুরের (Manipur) বর্তমান কঠিন পরিস্থিতির সময়েও। এই ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে এই মুখ গুলির নীরবতা সাধারণ মানুষের জীবনের সংগ্রামের থেকে তাদের অস্বস্তিকর দূরত্বকেই স্পষ্ট করে দেয়। এরা এদের সম্পত্তি ও খ্যাতির ইমারত তৈরি করে জনগণের প্রশংসাও শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করে। তারপরেও জাতির যখন তাদেরকে সব থেকে বেশি প্রয়োজন হয় তখনই কোনও নৈতিক অবস্থান নিতে তাঁরা লজ্জা অনুভব করেন।

এখন যেই একটি নতুন বছরে আমরা প্রবেশ করতে চলেছি তখন সময় এসেছে আবার ভেবে দেখার কাদের আমরা রোল মডেল বানাবো। এবার সেইসব ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করুন যারা পেশা ও আরামের জীবনকেই সাহসিকতা এবং দায়িত্ববোধের থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তার বদলে আসুন আমরা তাঁদের সম্মান ও সমর্থন জানাই যারা আমাদের জাতি ও সমাজের জন্য বাস্তবে কিছু করেন – আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামী, সেনাবাহিনী এবং নাগরিক যারা বৃহত্তর স্বার্থে আত্মবলিদান দেন। আমাদের উদ্যম এবং ক্ষমতাকে কিছু অর্থবহ কাজের দিকে নিয়ে যাই যাতে একটি শিশুর শিক্ষা, খাওয়া-দাওয়া, তার পরিবারের প্রয়োজন অথবা কোন এক ব্যক্তির সংগ্রামকে সমর্থন করা যায়।

১৫০ কোটি ভারতীয়ের ক্ষমতা অপরিসীম। এখন সময় এসেছে সেই সব আইকনদের সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন করার, যাদের আমরা তুলে ধরি। ২০২৫ আমাদের সকলের বিবেককে জাগিয়ে তোলার নতুন বছর হোক যেখানে তাঁদেরকে সম্মান করতে শুরু করব যারা ন্যায়, গণতন্ত্র এবং জাতির ভালো করার জন্য মাথা উঁচু করে দাঁড়ান।

Related articles

‘মহাকাব্যিক স্ট্রিট ফুড’, উৎপল সিনহার কলম

" নিন, টপ করে খেয়ে নিন..." টপ করে মুখের মধ্যে চলে তো গেল ছোট্ট গোলাকার বলটি। কিন্তু তারপর...

বাংলার জন্য ফের মমতাই প্রয়োজন! তৃণমূল নেত্রীর হয়ে সওয়াল কংগ্রেস নেত্রী রেণুকার

রাজ্যে ভোটের আবহ যত বাড়ছে, ততই বিরোধী শিবিরের সমীকরণ ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন জল্পনা। এবার খোদ কংগ্রেসের শীর্ষ...

‘গণতন্ত্রের শত্রু’ বিজেপি! গেরুয়া শিবিরের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠল গণমঞ্চ

বিজেপির সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং বাংলা ভাগের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব হলো ‘দেশবাঁচাও গণমঞ্চ’। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার বাগবাজারে আয়োজিত...

বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর নবান্ন, ১৩ এপ্রিলের মধ্যে এসওপি জমার নির্দেশ অর্থ দফতরের

শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে কড়া পদক্ষেপ করল...