Friday, April 24, 2026

মমতাকে বহিষ্কারের ‘প্রায়শ্চিত্ত’-স্বীকারোক্তি প্রদীপের, ‘ভুল’ নিয়ে তোপ তৃণমূলের

Date:

Share post:

লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে কংগ্রেসের ভরাডুবি। বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসাবে দেশে মাথা তুলে দাঁড়াতে গিয়েও আঞ্চলিক দলের কাছে রীতিমত হাত পাততে হচ্ছে বর্তমান কংগ্রেসকে (Congress)। সেখানে গোটা দেশকে পথ দেখাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee)। সেই পথই যে কংগ্রেসকে দেখানোর এই মুহূর্তে কেউ নেই, কার্যত তা-ই মেনে নিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য (Pradip Bhattacharya)। তাঁর দাবি, কংগ্রেস আজও দল থেকে তৃণমূল নেত্রীকে বহিষ্কারের প্রায়শ্চিত্ত করছে।

জোট তৈরি করেও কংগ্রেসের নেতৃত্বের কারণে একাধিক রাজ্যে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি বিরোধী শক্তি। কংগ্রেসের কোনও পন্থাই বিজেপিকে প্রতিহত করতে ফলপ্রসু হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে প্রদীপ ভট্টাচার্যের আক্ষেপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহিষ্কার (expel) নিয়ে। সেই দিনটি স্মরণ করে এক দলীয় সভায় প্রদীপ বলেন, “যেদিন বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে বহিষ্কার করা হয় তখন সোমেন মিত্রর (Somen MItra) ফোন এলো। সীতারাম কেশরীর ফোন এল, ওকে বহিষ্কার করতে হবে। কারণ আমরা বলেছি। আমি সোমেনকে বলেছিলাম তুমি কোরো না। কিন্তু সোমেনের উপর এমন চাপ তৈরি হয়েছিল যে করতে বাধ্য হয়েছে। তার প্রায়শ্চিত্তটা কংগ্রেস দলকে আজও করতে হচ্ছে। আমি জানি না এই খাদ থেকে আমরা কখন কীভাবে উঠে আসব।”

আদতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) স্বীকৃতি না দিয়ে কংগ্রেস সেদিন যে ভুল করেছিল তার জন্যই আজ বাংলায় সিপিএমের (CPIM) অপশাসনের অবসানে উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বলে দাবি রাজ্যের শাসকদলের। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) স্মরণ করিয়ে দেন, “মমতা সিপিএমের অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়তে যাচ্ছিলেন। আর কংগ্রেস (Congress) সিপিএমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ঘর করে চলছিল। বাংলার মানুষের উপর অত্যাচার অবিচারের প্রতিবাদে সিপিএম বিরোধী আন্দোলন করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেস থেকে বারবার তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছে। লাগাম টেনে ধরা হয়েছে।”

তবে ঠিক যেভাবে বর্তমানে গোটা দেশের রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা প্রশ্নের মুখে, সেভাবেই বাংলাতেও অস্তিত্ব সংকটে কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথকেই বাংলার মানুষ বেছে নিয়েছেন দাবি করে কুণাল কংগ্রেসকে মনে করিয়ে দেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে কংগ্রেস স্বীকৃতি দেয়নি মর্যাদা দেয়নি। কোণঠাসা করেছে, বহিষ্কার করেছে। তার কুফল কংগ্রেস ভুগছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন দল তৈরি করেছিলেন বলেই আজ সিপিএমের পতন হয়েছে। এবং বাংলার মানুষ উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন। কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মর্যাদা দিতে, লড়াইয়ের স্পিরিটটাকে স্বীকৃতি দিতে ভুল করেছিল। বাংলার মানুষ মমতার বহিষ্কারকে আদৌ সঠিকভাবে নেয়নি। তাই তাঁকে বাংলায় প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।”

Related articles

প্রথম দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি রাজ্যে, রাত পর্যন্ত মোট গ্রেফতার ৪১ 

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ও গোলমাল পাকানোর অভিযোগে মোট ৪১ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।...

কুণালের সমর্থনে মেগা রোড-শো দেবের, জনপ্লাবনে ভাসল বেলেঘাটা

বেলেঘাটায় ভোটের প্রচারে অন্য প্রার্থীদের আগেই কয়েক যোজন পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন কুণাল কুমার ঘোষ। প্রচারের শেষ লগ্নে এসে...

যত বেশি ভোট, তত বড় প্রত্যাবর্তন! প্রথম দফার শেষে আত্মবিশ্বাসের সুর তৃণমূল শিবিরে

যত বেশি হারে ভোট, তত জোরালো প্রত্যাবর্তন। বাংলার মানুষ বিজেপির কোমর ভেঙে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি জননেত্রী মমতা...

দুবরাজপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘আচরণে প্রশ্নের মুখে কমিশন

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বীরভূমের দুবরাজপুর। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের নামে সাধারণ মানুষের ওপর...