Friday, April 3, 2026

কেন্দ্রের নির্লজ্জ প্রতিহিংসা, আঞ্চলিক উৎসবের ক্যালেন্ডারেও বাংলাকে বঞ্চনা

Date:

Share post:

বাংলাবিদ্বেষী কেন্দ্রের নির্লজ্জ প্রতিহিংসা। বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা চলছেই। বঞ্চনা ও প্রতিহংসার লজ্জার ইতিহাস তৈরি করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার( modi government)। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প তো আছেই, এবার আঞ্চলিক উৎসবের ক্যালেন্ডারেও বাংলাকে বঞ্চনা। বাংলার কোনও উৎসবকেই স্থান দেওয়া হল না মোদি সরকারের তৈরি আঞ্চলিক উৎসবের ক্যালেন্ডারে(calender)। এমনকি ব্রাত্য রাখা হল ইউনেস্কো স্বীকৃত দুর্গাপুজো এবং গঙ্গাসাগর মেলাকেও। আরও এক বেনজির নির্লজ্জ নিদর্শন স্থাপন করল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।

দেশের প্রতিটি রাজ্যে নানা আঞ্চলিক উৎসব(festival) ও পার্বণ অনুষ্ঠিত হয়। সেইসব উৎসবকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে একটি পোর্টাল খুলেছে পর্যটন মন্ত্রক। সেই পোর্টালে দেশের বিভিন্ন উৎসব ও মেলাকে তুলে ধরা হয়েছে সাল ও তারিখ অনুযায়ী। মূলত উদ্দেশ্য পর্যটন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সেই তালিকাতে পর্যন্ত বাংলাকে ব্রাত্য রাখা হয়েছে। বাংলার কোনও উৎসবকেই ঠাঁই দেওয়া হয়নি তালিকায়। বাংলার দুর্গাপুজো থেকে গঙ্গাসাগর মেলা—পর্যটকদের জন্য বাংলার কোনও উৎসবকেই কেন্দ্রের মনপসন্দ হয়নি। বাংলাকে আর্থিক ক্ষেত্রে ধারাবাহিক বঞ্চনার পর বাংলার সঙ্গে তারা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করল সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও! বাংলার উৎসবকেও ব্রাত্য রাখা হল।

এতদিন কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রক বিভিন্ন রাজ্যের পাশাপাশি বাংলার নানা উৎসব, মেলা ও পার্বণকে তালিকায় রেখেছিল, বাংলার বহু জায়গাকে পর্যটন মানচিত্রে স্থান দিত। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে বাংলা থেকে তারা ফের মুখ ফেরাল। আবার প্রতিহিংসার রাজনীতিতে তারা পরিচয় রাখল বাংলা বিদ্বেষের। ‘উৎসব’ নামে পোর্টালে আঞ্চলিক স্তরের পার্বণগুলির যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে তুলনামূলক ক্ষুদ্র পরিসরের উৎসবগুলিকে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। ভিনরাজ্যের গোলাপ উৎসবকে জায়গা দেওয়া হলেও বাংলার গঙ্গাসাগর মেলাকে স্থান দেওয়া হয় নি।

গুজরাটের সোমনাথ উৎসব কিংবা উত্তর-পূর্বের ব্রহ্মপুত্র কার্নিভাল, কামাখ্যা হেরিটেজ ওয়াক থাকলেও বাংলার ইউনেস্কো স্বীকৃত দুর্গাপুজো ব্রাত্য থাকে। এই তালিকায় দেওয়ালি, নবরাত্রি, হোলির মতো উৎসব অবশ্য রাখা হয়েছে। শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসবের উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ সেই উৎসবকে জায়গা দেওয়া হয়নি ক্যালেন্ডারে। অথচ দিল্লি, গুজরাটের কোথায় কোথায় বসন্তোৎসব হয়, সেই পরিসখ্যান দেওয়া হয়েছে ক্যালেন্ডারে। দুর্গার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে, বিজয়া দশমীর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, দেশের কোথায় কোথায় নবরাত্রি উৎসব উদযাপিত হয়, তার তথ্যও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইউনেস্কো স্বীকৃত বাংলার শারদোৎসবের ঠাঁই নেই। এই না হলে বাংলাবিদ্বেষী বিজেপি।

Related articles

ভবানীপুরে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ RO, নিয়ম ভেঙে দায়িত্বে আধিকারিকরা: CEO-কে প্রশ্ন তৃণমূলের

নির্বাচনের আগে নির্বাচনী আচরণবিধির দোহাই দিয়ে যেভাবে রাজ্যের প্রশাসন ও পুলিশ পদে বদল করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election...

লক্ষ্ণণের চিঠিতে বড় দায়িত্বের খবর সৌরিশসকে, বঙ্গ ক্রিকেটে খুশির হাওয়া

বাংলা ক্রিকেটের জন্য সুখবর। বিসিসিআইয়ের কোচিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন সৌরাশিস লাহিড়ী (Sourashish lahiri)। ‘ইমার্জিং ইন্ডিয়া’র কোচ হিসাবে নির্বাচিত...

ভোটার কারচুপিতেই ক্ষমতায় চন্দ্রবাবু! মধ্যরাতে ১৭ লক্ষ ভোট, প্রশ্ন প্রভাকর-প্রশান্ত-কুরেশির

বাংলায় নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার দলীয় কর্মী, এজেন্টদের সতর্ক করছেন, যাতে তাঁরা ভোট শেষ হওয়ার...

কুড়মি স্বীকৃতির দাবিতে নীরব বিজেপি! জয়পুরের সভা থেকে তোপ অভিষেকের, নিশানা বিরোধী প্রার্থীকেও

জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রের সভা থেকে কুড়মি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিকে সামনে রেখে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয়...