Thursday, May 14, 2026

হাতজোড় করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকলেন ওমপ্রকাশ, ক্যাম্পাসে সাদা পোশাকে কলকাতা পুলিশ!

Date:

Share post:

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভা ঘিরে অশান্তির পরে সোমবার নিজের বিভাগে ঢুকলেন ওমপ্রকাশ মিশ্র (Om Prakash Mishra)। তাঁকে ঢুকতে বাধা দিয়ে প্ল্যাকার্ট হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন একদল ছাত্র-ছাত্রী। হাতজোড় করে সেই বাধা পেরিয়ে ঢোকেন তিনি। এদিক, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের মধ্যে রয়েছেন সাদা পোশাকের পুলিশ আধিকারিক-সহ পুলিশ কর্মীরা। ওমপ্রকাশের ঘরের বাইরেও সাদা পোশাকের মহিলা পুলিশকর্মীরা উপস্থিত।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) ছিল ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভা। এই কর্মসূচিতে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর (Bratya Basu) বক্তব্য রাখতে শুরু করলেই অভব্য আচরণ শুরু করে বাম-অতিবাম সংগঠনগুলি। চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। আক্রমণ করা হয় অধ্যাপকদের। বহু অধ্যাপক আক্রান্ত হন। আহত হন দুই পড়ুয়াও। কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High court) নির্দেশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত পড়ুয়া ইন্দ্রানুজ রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে  বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) ও অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্রের (Om Prakash Mishra) বিরুদ্ধে FIR দায়ের করা হয়।

সেই ঘটনার পরে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা। সেই বৈঠকের যোগ দিতে গেলে ওমপ্রকাশকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। ঢোকার চেষ্টা করতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেন পড়ুয়াদের একাংশ। প্ল্যাকার্ড হাতে চলে স্লোগান। ওমপ্রকাশ হাতজোড় করে বলেন, “কাইন্ডলি আমাকে যেতে দিন। আমার যাওয়াটা দরকার।“ হাতজোড় করেই নিজের ঘরে ঢোকেন তিনি। ওমপ্রকাশ ঘরে ঢোকার পরে বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে বসে পড়েন পড়ুয়ারা। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে ওমপ্রকাশ বলেন, তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। ঘটনার দিন তাঁকেই শারীরিকভাবে হেনস্থা করে পড়ুয়ারা।
আরও খবর: ফের সমবায় সমিতির নির্বাচনে তৃণমূলের জয়জয়কার, ব্যাকফুটে বিরোধীরা

এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের বাইরে ও ভিতরে রয়েছে পুলিশ বাহিনী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে রয়েছেন সাদা পোশাকের পুলিশ। ওমপ্রকাশ মিশ্রের ঘরেও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে, এই বিষয়ে ওমপ্রকাশ জানান, এই পুলিশ মোতায়েনের বিষেয় তাঁর কিছু জানা নেই। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ তিনি ডাকেননি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলমাল নিয়ে মামলায় হাইকোর্টে বিচারপতি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এদিকে এদিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পুলিশ ঢোকা নিয়ে ক্ষুব্ধ এসএফআই। ক্যাম্পাসে পুলিশের আসা নিয়ে সহ-উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানাতে যান পড়ুয়ারা। সহ উপাচার্য জানান, পুলিশ কে ডেকছে- তাঁর জানা নেই। ওমপ্রকাশ মিশ্রও বলেন, “পুলিশ কেন এল, সে সম্পর্কে আমার কোনও ধারণা নেই।”

Related articles

জ্বালানি বাঁচাতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’! সোমবার আমলাদের মেট্রো সফরের নির্দেশ রেখা গুপ্তার 

মধ্য এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নামল দিল্লি সরকার। বৃহস্পতিবার জ্বালানি...

মনোবল শক্ত রাখুন, লড়াই চলবে: কালীঘাটের বৈঠক থেকে সতীর্থদের বার্তা নেত্রীর 

মনোবল ভাঙলে চলবে না, বরং হারানো জমি পুনরুদ্ধারে দ্বিগুণ শক্তিতে রাস্তায় নামতে হবে— বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বাসভবনে দলীয় সাংসদদের...

“১ টাকায় মনোরঞ্জনকে সই করান”, প্রয়াত টুটুকে নিয়ে অজানা কথা শোনালেন দেবাশিস

সদ্য প্রয়াত হয়েছেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোস(Tutu Bose)। সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় ধরে মোহনবাগান ক্লাবকে...

২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ফল প্রকাশের পরেও রাজ্যে একটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ২১ মে ফলতা (Falta) বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট।...