প্রবল ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মায়ানমার (Mayanmar)। দেশের সামরিক প্রশাসন বাধ্য হয়েছে জরুরি অবস্থা (emergency) ঘোষণা করতে। পাঁচটি বড় শহর প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বিচ্ছিন্ন একাধিক জায়গার যোগাযোগ ব্যবস্থা। যুদ্ধবিধ্বস্ত, সামরিক শাসনের অধীনে থাকা মায়ানমারে ভূমিকম্পের পরে কিভাবে উদ্ধারকাজ ও পুণর্গঠন, তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে ভারত থেকে যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রতিবেশী দেশকে।

ইতিমধ্যেই মায়ানমারে ভূমিকম্পে (earthquake) পাঁচজনের মৃত্যুর দাবি করেছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। টাংগু শহরে একটি মসজিদ ভেঙে পড়ে তিনজনের মৃত্যু ও আনবান এলাকায় একটি হোটেল ভেঙে দুজনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে। একাধিক এলাকায় ধ্বংসস্তুপের তলায় অনেকে আটকে রয়েছেন বলেও জানাচ্ছে স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলি। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক এলাকার রেলব্রিজ, সড়ক ব্রিজ বিপর্যস্ত। ইয়াঙ্গন-মন্দালয় এক্সপ্রেসওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভূমিকম্পে।

সম্প্রতি বড় সিভিল ওয়ার (civil war) থেকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল মায়ানমার। ক্ষমতাসীন সামরিক প্রশাসন সাধারণ অস্থিরতা কাটিয়ে নতুন প্রশাসন তৈরির পথে হাটছিল। এই পরিস্থিতিতে ভূমিকম্প হওয়ায় যে ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা সামরিক শাসনে কতটা দেওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছানোর সমস্যার কথা জানিয়েছে রেড ক্রস (Red Cross)। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিস্থিতি আরো কঠিন, জানাচ্ছে রেড ক্রস।

প্রাচীন মায়ানমার বা বর্মার বিভিন্ন অংশেই বৌদ্ধ স্থাপত্যের নিদর্শন ছিল। ভূমিকম্পের মূল কেন্দ্র মন্দালয়ে (Mandalaya) ভূমিকম্পের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক প্যাগোডা। রাজধানী মেপে নেইপিদয়ে (Naypyitaw) একাধিক প্যাগোডা (pagoda) এবং মনাস্ট্রি ভেঙে পড়ার ছবি প্রকাশিত হয়েছে।


মায়ানমারের পাশাপাশি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশী থাইল্যান্ড (Thailand)। ব্যাংকক (Bangkok) শহরের চাঁদচার্ট এলাকায় গগনচুম্বি বহুতল ভেঙে তিনজনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এছাড়াও অন্যান্য আবাসন ভাঙার ঘটনায় আরও এক মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি নিরীক্ষণ করা এখনও সম্ভব হয়নি থাইল্যান্ড প্রশাসনের পক্ষে। মায়ানমার-থাইল্যান্ডের ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে সীমান্তবর্তী চিনের ইউনান প্রদেশেও।


থাইল্যান্ড-মায়ানমার ভূমিকম্পে (earthquake) উদ্বেগ প্রকাশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)। সব ধরনের সাহায্যের জন্য ভারত প্রস্তুত, জানিয়েছেন তিনি। প্রস্তুত রাখা হয়েছে সব ধরনের জরুরী ব্যবস্থাপনা। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক মায়ানমার ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান নরেন্দ্র মোদি।

–

–

–
–
