Thursday, April 23, 2026

একশো দিনের কাজে ১০১ কোটির দুর্নীতি! ডবল ইঞ্জিন রাজ্য তবু প্রাপকের তালিকায়

Date:

Share post:

বাংলার মুখে সত্যি কথা একেবারেই সহ্য করতে পারে না কেন্দ্রের মোদি সরকার। তাই কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বাংলার নাম বাদ দিয়ে বাংলাকে শায়েস্তা করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে মোদি সরকার। বারবার বেনিয়মের অজুহাতে আটকে দেওয়া হয়েছে বাংলার টাকা। অথচ বিজেপি শাসিত রাজ্যে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি (scam) প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন্দ্রীয় প্রকল্প বরাদ্দ করা হচ্ছে সেই সব রাজ্যের জন্য। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের রিপোর্ট সত্ত্বেও প্রকল্পের টাকা আরও বেশি করেই নয়ছয় করার জন্য ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে (double engine states) টাকা বরাদ্দ বন্ধ হচ্ছে না, দাবি বিরোধীদের।

বিজেপির ডবল ইঞ্জিন ১৫টি রাজ্যে ১০১ কোটির টাকারও বেশি আর্থিক তছরুপ (fraud) হয়েছে। সম্প্রতি গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের (Ministry of Rural Development) রিপোর্টেই প্রকাশ্যে এসেছে এই দুর্নীতি (scam)। কেন্দ্রের ‘সোশ্যাল অডিট অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ মোতাবেক বিজেপিশাসিত ১২ রাজ্য ছাড়াও এনডিএ-শাসিত অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার ও সিকিমেও আর্থিক তছরুপ হয়েছে। এই আর্থিক তছরুপের তালিকায় রয়েছে মোদি-রাজ্য গুজরাতও। খোদ কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের রাজ্য মধ্যপ্রদেশও রয়েছে তালিকায়।

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সারাদেশে ১০০ দিনের কাজের (MGNREGS) বরাদ্দে ১৯৮ কোটি ৪৬ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৫৬ টাকা তছরুপ হয়েছে। যার মধ্যে থেকে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ১০ কোটি ৩৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৬৬৫ টাকা। এর মধ্যে স্রেফ ডাবল ইঞ্জিন (double engine) ১৫ রাজ্যে মোট তছরুপের (fraud) পরিমাণ ১০১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ১৩৪ টাকা। যার মাত্র ২ কোটি ৮২ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৫৭ টাকা আদায় হয়েছে এই ১৫ রাজ্য থেকে। অথচ গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, অসম, উত্তরাখণ্ড, ত্রিপুরা, রাজস্থান, ওড়িশা, মণিপুর, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, সিকিম, বিহার—১৫টি ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যের কোথাও টাকা আটকে নেই।

এখানেই উঠেছে প্রশ্ন, শুধু বাংলাকে কেন বঞ্চনা? ২০২২ সালের ৯ মার্চ বাংলার ১০০ দিনের কাজের (MGNREGS) শ্রমিকদের প্রাপ্য বকেয়া আটকে রাখা হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত বাংলাকে ১০০ দিনের কাজের বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

রাজ্যসভায় তৃণমূল দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, বাংলায় মমতা বন্দ্যোধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে রাজনৈতিক যুদ্ধে এঁটে উঠতে না পেরে সরকারি বঞ্চনা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালাচ্ছে কেন্দ্র। ১০০ দিনের কাজের সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে মোদি সরকার। রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের সাংসদরাও বারবার দিল্লিতে গিয়ে সরব হয়েছেন প্রাপ্য বকেয়া মেটানোর দাবিতে। কিন্তু কেন্দ্র প্রাপ্য দেয়নি, বরাদ্দও করেননি। তাহলে প্রশ্ন, তছরুপের পরও ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ করছে কী করে?

Related articles

আজ রাজ্যে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন, সকাল ৭টা থেকে শুরু ভোটগ্রহণ

বাংলার সিংহাসনে বসবে কে, আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম দফা নির্বাচনে (first phase of West Bengal assembly election 2026)...

বিজেপির ফর্ম-কেলেঙ্কারি ফাঁস: রায়গঞ্জে জঙ্গলে পড়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম!

বাংলার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সঙ্গে পাল্লা দিতে ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে তত ফর্ম পূরণ করতে তৎপর হচ্ছে বিজেপির...

‘তৃণমূলের জয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা’, নোয়াপাড়ার জনজোয়ারে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ময়দানে নেমে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া বিধানসভা...

আরও কিছু পাওয়ার আশায়! ভোটের আগের রাতে দলবদল প্রাক্তন বিধায়কের

তৃণমূল তাঁকে টিকিট দিয়ে বিধায়ক করেছিল। কাজের ভিত্তিতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পদ এবার দেওয়া হয়েছে অজিত মাহাতোকে। তাতেই...