কলকাতার অন্যতম নামী স্কুল হেয়ার। তাদের বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ উঠল, ওয়ার্কশপের নামে অপবিজ্ঞানের প্রচার করা হচ্ছে!এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে হেয়ার স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অধিকাংশই।আরও এক ধাপ এগিয়ে, এবার হেয়ার স্কুলকে ইমেল পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ।এই সংগঠনের কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক শেখ সোলেমান স্কুল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে যেন এই ধরনের প্রচার আর না হয়।

খোদ শহরের বুকে, কলেজ স্ট্রিটের অন্যতম নামী এবং প্রাচীন হেয়ার স্কুল।অভিযোগ, সেখানে দিনকয়েক আগে পড়ুয়াদের টেনশন কমানোর একটি ওয়ার্কশপ হয়। আর এর শিরোনাম দেওয়া হয়েছিল, ‘কুণ্ডলী জাগলে পরমাত্মার সঙ্গে যোগ’। শতাব্দী প্রাচীন স্কুলের মাঠে সন্ন্যাসী পরিবেষ্টিত হয়ে বসেছিল পড়ুয়া থেকে অভিভাবক সবাই। তাদের শেখানো হয় সূক্ষ্ম দেহ এবং নশ্বর দেহের পার্থক্য। বলা হয় যে যোগ, ধ্যানের মাধ্যমে মেরুদণ্ডের নিচে ‘কুণ্ডলী’কে জাগিয়ে তুলতে পারলেই শরীর, মনের সমস্ত ক্লান্তি, চিন্তা দূর হয়ে যাবে।বিষয়টি প্রকাস্যে আসতেই নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের কলকাতা জেলা কমিটির সম্পাদক একটি চিঠিও দিয়েছেন হেয়ার স্কুল কর্তৃপক্ষকে।
ইমেলে বিজ্ঞান মঞ্চের স্পষ্ট বক্তব্য, আজকের বিজ্ঞানের যুগে এভাবে অভিভাবক, পড়ুয়াদের মধ্যে ‘অপবিজ্ঞান’ ছড়ানো উচিত নয়।হেয়ার স্কুলের মতো নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন অবস্থান াশা করা যায় না। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, কর্তৃপক্ষ চাইলে বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিনিধিরা স্কুলে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে টেনশনমুক্তির বিষয়ে সুশিক্ষা দেবেন। কোনও আধ্যাত্মিক শিক্ষা নয়, বরং ছোটদের বোধগম্য হবে, এমন বাস্তবসম্মত উপায়েই তা করা সম্ভব বলে দাবি বিজ্ঞান মঞ্চে সদস্যদের। এই প্রস্তাব হেয়ার স্কুল কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে দেখোর অনুরোধ করা হয়েছে। এখন হেয়ার স্কুল কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞান মঞ্চের আবেদনে আদৌ সাড়া দেবে কিনা. সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। যদিও বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ মুখে কুলুপ এঁটেছে।

–

–

–

–

–
–
–
–
–
