মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে অশান্তির আবহে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে গিয়ে প্রভাবিত করা ঠিক নয়, এমনটাই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বর্তমানে সেখানে পরিস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক। এই সময়ে সেখানে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও মৃতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাহায্য তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ বিজেপির রাজনীতির শিকার হয়ে মৃতদের পরিবারের সদস্যরা চলে এসেছেন কলকাতায়। তাঁদের অপহরণ করে কলকাতা নিয়ে আসারও অভিযোগ উঠেছে। সোমবার মুর্শিদাবাদ রওনা হওয়ার আগে সেই পরিবারের হাতে সাহায্য তুলে না দিতে পারার আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

বর্তমানে সামশেরগঞ্জে শান্তির পরিবেশ। অশান্তির পরিস্থিতিতে সেখানে না যাওয়ার জন্য সকলকেই অনুরোধ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কথা স্মরণ করিয়ে সোমবার মুর্শিদাবাদ রওনা দেওয়ার আগে তিনি জানান, আমরা সাম্প্রদায়িক অশান্তি বরদাস্ত করি না। আমরা কখনও ভেদাভেদ করি না। মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) আগেই যেতে পারতাম। কিন্তু যতক্ষণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, শান্তি প্রতিষ্ঠা না হয়, ততক্ষণ আমাদের সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি খারাপ করা উচিত নয়। এটা আমরা বরাবর মানি। পরিস্থিতি অনেকদিন স্বাভাবিক হয়েছে। আমাদের জগন্নাথধামের উদ্বোধন ছিল। সেটা আগে থেকেই ঘোষণা করা ছিল। সেখানে দায়িত্ব পালন করে আজ যাচ্ছি।

সামশেরগঞ্জে অশান্তির পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সব রকম পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্যের সরকার। এলাকায় টহল, অশান্তির তদন্ত থেকে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আস্থা অর্জন। তারপরেও রাজনীতি করে সেখানে অশান্তি জারি রাখার প্রচেষ্টায় বিজেপি। যার সাম্প্রতিক উদাহরণ, ধূলিয়ানের (Dhulian) নিহতদের পরিবারকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে আসা। তাঁদের হাতে সাহায্য তুলে দিতেই ধূলিয়ান যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। অথচ তাঁরা সেখানে নেই।

মুর্শিদাবাদ রওনা হওয়ার আগে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কাল ধূলিয়ান (Dhulian) যাব। আমি শুনেছি ধূলিয়ান থেকে সবাইকে নিয়ে চলে এসেছে। সবাই অবশ্য আসেনি। দুটি পরিবার এসেছে। ঠিক আছে যাঁরা এসেছেন সেটা তাঁদের ইচ্ছার ব্যাপার। এদের আগে ওদের গিয়ে টাকাও দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও অর্থ সাহায্য প্রয়োজন। তার জন্যই ওদের বাড়ি যাচ্ছিলাম অর্থ সাহায্য করতে। যদি কেউ না নেন, না থাকেন বাড়িতে সেটা আমাদের হাতে নেই।

সামশেরগঞ্জের উপদ্রুত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত জাফরাবাদ ও বেতবোনা গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, যারা আসবেন তাঁদের সঙ্গে কথা বলব। তাঁদের কথা শুনব। আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম বাংলার বাড়ি করে দেব। যাঁদের দোকান ভেঙেছে তাঁদেরও সাহায্য করব।

–

–

–

–

–
–
–
–
–


