ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতার মামলা এবার শুনবে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি বি আর গভাইয়ের (B R Gavai) বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার (CJI Sanjeev Khanna) অবসর আসন্ন। অন্যদিকে, ওই মামলার দীর্ঘায়িত শুনানি প্রয়োজন। তাই তিনি মামলা হস্তান্তরের প্রস্তাব রাখেন। যে প্রস্তাবে মামলাকারী ও সরকারপক্ষের উভয় আইনজীবী সম্মতি জানান। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ মে।

সোমবার দুপুরে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে ওয়াকফ মামলার (WAQF amendment act case) শুনানি নির্ধারিত ছিল৷ সেই মামলা পিছিয়ে গেল এদিন। শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না জানান, এই মামলার বিস্তারিত শুনানি করা প্রয়োজন৷ এদিকে এগিয়ে আসছে তাঁর অবসরের পালা৷ ১৩ মে তিনি অবসর (retirement) নেবেন৷ এই অবস্থায় আইনজীবীদের কোনও আপত্তি না থাকলে তিনি ওয়াকফ আইনকে চ্যালেঞ্জ জানানো মামলার শুনানি স্থানান্তরিত করতে চান পরবর্তী প্রধান বিচারপতি বি আর গভাইয়ের বেঞ্চে৷

কেন্দ্রের তরফে সলিলিটর জেনারেল তুষার মেহতা, বর্ষীয়ান দুই আইনজীবী কপিল সিব্বল ও অভিষেক মনু সিংভিসহ অন্যান্য সব আইনজীবী জানান, তাঁদের কোনও আপত্তি নেই৷ এর পরেই প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না নির্দেশ দেন, ১৫ মে হবে এই মামলার পরবর্তী শুনানি৷ ঘটনাচক্রে সেই সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (CJI) পদে থাকবেন বিচারপতি বি আর গভাই (B R Gavai)৷ তিনিই স্থির করবেন, কার বেঞ্চে হবে এই মামলার শুনানি৷

ওয়াকফ মামলা পিছিয়ে গিয়ে বিচারপতি বি আর গভাইয়ের বেঞ্চে চলে যাওয়ায় শীর্ষ আদালতের আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনার ফলে সব থেকে বেশি লাভবান হবে সরকারপক্ষ৷ কারণ বর্তমান প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চে ওয়াকফ আইনের বৈধতা প্রমাণ করতে গিয়ে কার্যত ল্যাজেগোবরে হয়েছে মোদি সরকার৷ প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না (CJI Sanjeev Khanna) নিজেই অন্তবর্তী আদেশে জানিয়েছেন, আইনের দুটি ধারার উপরে স্থগিতাদেশ জারি করা হচ্ছে৷ ইতিমধ্যেই ওয়াকফ হিসেবে ঘোষিত সম্পত্তির প্রকৃতি পরিবর্তন করতে পারবে না সরকার৷ পাশাপাশি সেন্ট্রাল বা রাজ্য স্তরের কোনও ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম কোনও ব্যক্তিকে নিয়োগও করতে পারবে না কেন্দ্রীয় সরকার৷ এই দুটি ক্ষেত্রে সুপ্রিম স্থগিতাদেশ থাকার ফলে মুখ পুড়েছে মোদি সরকারের৷ বিচারপতি বি আর গভাইয়ের বেঞ্চে ওয়াকফ মামলা স্থানান্তরিত করার ফলে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার সিদ্ধান্ত প্রকারান্তরে মোদি সরকারকে স্বস্তি দিল বলেই মনে করছে আইনজীবী মহলের একাংশ৷

–

–

–

–

–

–
–
–
–
–
–

