বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই বারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তের দিকে আঙুল উঠতে শুরু করেছিল, এবার বিভিন্ন জেলা ও সাংগঠনিক স্তরে একাধিক রদবদল করে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বুঝিয়ে দিলেন দলের রাশ রয়েছে তাঁর হাতেই। পাশাপাশি ঘাসফুল শিবির যে অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রেখে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চাইছে তাও যেন একপ্রকার স্পষ্ট করে দিলেন নেত্রী।


নতুন কমিটি অনুযায়ী, দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি করা হয়েছে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে। তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। শ্রীরামপুর-হুগলি সাংগঠনিক জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা অসিত মজুমদারকে (Asit Majumdar)। বারাকপুর সাংগঠনিক জেলায় ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ পার্থ ভৌমিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই বেসুরো হয়েছিলেন। এবার তো সরাসরি NDA-কে সমর্থন করার জন্য স্পিকারকে দেওয়ার চিঠিতে তিনি সই করেছেন। তাই দলের তরফ থেকে তাকে সরিয়ে বারাকপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অমিত গুপ্তকে (Amit Gupta)। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের অন্দরে যে অসন্তোষ সামাল দিতেই প্রবীণ এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্বের উপরই আস্থা রেখেছেন নেত্রী।


তৃণমূলের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী হাওড়া সদর জেলা তৃণমূলের সভাপতি পদে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্তমান বিধায়ক অরূপ রায়কে (এখন তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের শিবিরে) সরিয়ে তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় (Rajib Bandyopadhyay)। পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে। দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে গৌতম দেবকে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ক্ষেত্রে জেলা সভাপতি অফিশিয়াল ঘোষণা না হলেও অভিষেকের ক্ষমতা যে খর্ব করা হয়েছে তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল কর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে সংগঠনকে অটুট রাখা। আগামী লোকসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক ময়দানের লড়াইকে শক্ত করতেই মমতা (Mamata Banerjee) প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

–

–

–

–

–
–
