তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের(Jyotipriya Mallick)। শারীরিক অসুস্থার কারণ দেখিয়ে দল ছাড়লেন জ্যোতিপ্রিয়। কয়েকদিন আগেই দলের জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য করা হয়েছিল। সপ্তাহ পেরনোর আগেই ইস্তফা দিলেন তিনি।১৯৯৮ সালে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়।

তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম লগ্ন থেকেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick) ওরফে বালু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গী। তৃণমূলনেত্রীর বহু যুদ্ধের সেনাপতি ছিলেন, কিন্তু দল ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরই বিদায়ীদের তালিকাতে নাম লেখালেন বালুও।

যদিও তিনি নব্বো তৃণমূল গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন কিনা সেই বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। দলত্যাগের কারণ প্রসঙ্গে তিনি শারীরিক অসুস্থতা কথাই বলেছে

একটি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়ায় প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমি বর্তমানে খুবই অসুস্থ। আমার সুগার হাই, দুটো কিডনির অবস্থা ভালো নয়। এই পরিস্থিতিতে। দলের কোন কর্মসূচিতে আমার পক্ষে অংশ নেওয়া সম্ভব নয় তাই সমস্ত পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম। ইতিমধ্যেই আমি ই-মেইল করে আমার সিদ্ধান্তের কথা দলকে জানিয়ে দিয়েছি।

একইসঙ্গে বলেন, রাগ অভিমানের কোন বিষয় নয়র ১৯৭৮ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। কিন্তু বর্তমানে আমার শরীর অত্যন্ত খারাপ। আমাকে জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য করা হয়েছিল আর কোন পদে রাখা হয়নি। কিন্তু আমার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়।

ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের ভাঙ্গন অব্যাহত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতাই দল ছেড়েছেন অথবা বিদ্রোহী শিবিরের নাম লিখিয়েছেন। ববি হাকিমও বিদ্রোহী শিবিরের নাম লিখিয়েছেন এবার মমতা সঙ্গ ছাড়লেন বালুও।

২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন ভোটে লড়েন, কিন্তু জিততে পারেননি। কিন্তু জিতলে বিধায়ক হওয়ার পরও কি শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে পদ ছাড়তেন? জিতে গেলে কি শরীরের সঙ্গে মনও কিছুটা ভালো হয়ে যেত বালুর? কঠিন সময়েই মমতার সঙ্গে ছাড়লেন একদা অন্যতম সেনাপতিও।

