দিঘায় জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই একপ্রকার অশান্তি বিরোধী শিবিরগুলিতে। রাজ্যের মানুষ মন্দির দর্শনে প্রতিদিন ভিড় করছেন। তাতেই বারবার রাজনৈতিক কুৎসায় মত্ত রাজ্যের বিরোধী দলগুলি। এবার জগন্নাথ মহাপ্রভুর মহাপ্রসাদ বাংলার প্রতিটি মানুষের বাড়ি বাড়ি পাঠানো নিয়েও কুৎসা করতে মাঠে নেমেছে গদ্দার। তার পাল্টা জবাবও দিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। কেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বাংলার ঘরে ঘরে মহাপ্রসাদ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেই ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব সময়ই ইতিহাস তৈরি করেন। জগন্নাথধামও (Digha Jagannath temple) ইতিহাস। বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষ মন্দির যাচ্ছেন প্রভুর দর্শন পেতে ও প্রসাদ গ্রহণ করতে। কিন্তু অনেকেরই সাধ থাকলেও সাধ্য নেই। তাই মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাংলার প্রতিটি মানুষ, তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন, মহাপ্রসাদ (Mahaprasada) যাতে বাড়িতে বসেই পান সে-ব্যবস্থা করেছেন।
মহাপ্রসাদের নামে জেলার মিষ্টির দোকান থেকে প্যারা-মিষ্টি যাবে – শুক্রবার এমনই মিথ্যাচারের ঝুলি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে বসেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই মিথ্যাচারের জবাব দিয়েছেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শান্তনু বসু। তাঁরা স্পষ্ট জানান, যখন যেমন যতটা দরকার হবে সেই অনুযায়ী খোয়া ক্ষীর পাঠানো হবে জগন্নাথধামে। সেখানে পুজো ও জগন্নাথদেবকে সমর্পণের পর তা পৌঁছবে বিভিন্ন জেলার মিষ্টির দোকানে। সেখানে সেই খোয়া পরিমাণমতো মিশিয়ে মিষ্টি তৈরি করে সেই মিষ্টি রেশন ডিলারদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পাঠানো হবে।

প্রসাদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই ইন্দ্রনীল বলেন, ধাপে ধাপে খোয়া পাঠাচ্ছি। মহাপ্রসাদ (Mahaprasada) অল্পই হয়। মহাপ্রসাদ হাজার হাজার কুইন্টাল হয় না। পুজোতে যখন শান্তিজল দেওয়া হয় তখন দু ফোঁটাই দেওয়া হয়। হাজার হাজার মানুষের জন্য যখন মহাপ্রসাদ হয় তখন সবার মধ্যে সেটা সমানভাবে বিতরণ হয়।

সেই সঙ্গে শান্তনু বসু জানান, শুধু তাই নয়, বাড়িতে পাঠানোর আগে মহাপ্রসাদের গুণমান ঠিক আছে কি না সেটা দেখার জন্য ফুড ইন্সপেক্টর থাকবেন। ফলে কোনওদিকেই এতটুকু এদিক-ওদিক হওয়ার কোনও জায়গা নেই।

রাজ্যের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে যে উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিয়েছেন, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা এদিন করেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল (Indranil Sen)। তিনি জানান, আমাদের প্রায় ১১ কোটি জনসংখ্যা। গৃহস্থ বাড়ি ২ কোটি ৬ লক্ষ্য তালিকাভুক্ত। আপনার টাকাতেই আপনি মহাপ্রসাদ (Mahaprasada) পাচ্ছেন।

বিরোধী দলনেতার কুৎসার জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, বাংলার ঘরে-ঘরে জগন্নাথদেবের ছবি-প্রসাদ পৌঁছে দেওয়া নিয়ে সেই নোংরা কুৎসার রাজনীতি শুরু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সংযোজন, দিঘার জগন্নাথধাম নিয়ে কুকথা বলার আগে এবং তৃণমূল সরকারের নামে বদনাম রটানোর আগে যদি প্রকৃত হিন্দু হয়ে থাকেন, তাহলে একবার জগন্নাথ মন্দিরে গিয়ে দেখুন আসুন!

–

–
–
–
–
–
–
–

