Saturday, May 23, 2026

পথ দেখাচ্ছে বাংলা, বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্যে ভারতের ২৭ কোটি চরম দারিদ্রের বাইরে

Date:

Share post:

দশ বছরের পরিসংখ্যানে ভারতের ২৬.৯ কোটি মানুষ চরম দারিদ্রসীমা (extreme poverty level) থেকে উন্নত হয়েছে। তথ্য পেশ বিশ্বব্য়াঙ্কের (World Bank)। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বাংলা। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি মানুষের হাতে টাকা তুলে দিয়ে যে উদাহরণ তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে বাংলার তৃণমূল পরিচালিত প্রশাসন, তাতে গোটা দেশ অনুপ্রাণিত। ফলে বিশ্বের মানচিত্রে দারিদ্র দূরীকরণে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে গোটা দেশের পক্ষে উঠে আসা সম্ভব হয়েছে বলে প্রমাণিত বিশ্ব ব্যাঙ্কের তথ্যে।

বিশ্ব ব্যাঙ্কের সদ্য প্রকাশিত তথ্য জানাচ্ছে ২০১১-১২ সালে ভারতের ৩৪.৪৪ কোটি মানুষ ছিলেন চরম দারিদ্রসীমার নিচে। ২০২২-২৩ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭.৫২ কোটিতে। ২০১১ সালে দেশের জনসংখ্যার ১৬.২ শতাংশ, অর্থাৎ ২০.৫৯ কোটি মানুষ ছিলেন দারিদ্র সীমার নিচে। ২০২২ সালে সেই জনসংখ্যা কমে ৩.৩৬ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। গ্রামীণ ও শহর এলাকাতে এই উন্নয়ন প্রায় সমানভাবেই হয়েছে, তথ্যে দাবি।

এই পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ২০১১ সালে চরম দারিদ্রসীমার নিচে যে জনসংখ্যা ছিল ভারতের তার ৬৫ শতাংশ ছিল মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার ও বাংলায়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠার পরে বিজেপি বা এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলিতে দেদার কেন্দ্রীয় সাহায্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফলে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহারের মতো রাজ্য যে দারিদ্র দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে তা বলাই বাহুল্য। এই পাঁচ রাজ্যে হিসাবের অধীনে থাকা ১০ বছরে যে পরিমাণ দারিদ্র দূরীকরণ হয়েছে তাতে ২৬.৯ কোটি মানুষের চরম দারিদ্র থেকে উঠে আসতে দুই তৃতীয়াংশ ভূমিকা নিয়েছে এই রাজ্যগুলিই।

সেখানেই আলাদা বাংলা। ২০১১ সালে এই রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রতিষ্ঠার পরে গ্রহণ করা হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী থেকে স্বাস্থ্য সাথীর মতো একাধিক প্রকল্প (scheme)। যা প্রত্যক্ষভাবে সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ তুলে দেওয়ার কাজ করেছে। এমনকি কেন্দ্রের মোদি সরকার এই দশ বছর সময়ের মধ্যেই একে একে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে (central scheme) বাংলাকে টাকা দেওয়া বন্ধ করেছে। সেই সব প্রকল্প চালু রেখেছে রাজ্যের সরকার। কেন্দ্রের সাহায্য়ের অপেক্ষা না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের পরিষেবা অব্যাহত রেখেছেন।

দেশের যে রাজ্যগুলি দেশকে চরম দারিদ্রের হার কমাতে সাহায্য করেছে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বাংলার। বাকি সব রাজ্যই বিজেপি বা এনডিএ শাসিত। সেখানে কেন্দ্রীয় খয়রাতি বিপুল। অথচ সেই সাহায্য ছাড়াই বাংলার দারিদ্রের হার কমিয়ে দেশের সামগ্রিক হারে উন্নতির মুখ দেখাতে পথ দেখিয়েছে বাংলাই।

Related articles

ভালো আছেন দর্শনা, আজই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতে পারেন অভিনেত্রী!

একটানা শ্যুটিং করতে গিয়ে শারীরিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী দর্শনা বণিক (Darshana Banik)। বৃহস্পতিবার রাতেই হাসপাতালে ভর্তি...

গ্রেফতার সুজিত ‘ঘনিষ্ঠ’ দক্ষিণ দমদমের কাউন্সিলর টিঙ্কু

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose), এবার তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলেও...

দেশজুড়ে ফের বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম 

মধ্যবিত্তের পকেটের চাপ বাড়িয়ে ফের বাড়ল জ্বালানির দাম (Petrol Diesel Price hike)। এই নিয়ে গত ১০ দিনে তৃতীয়বার...

ইমপার বৈঠকে চূড়ান্ত অসভ্যতা! পিয়াকে হেনস্থা, আস্থা ভোটে সভাপতি বদলের ইঙ্গিত

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার রদবদলের পরই টালিগঞ্জ পাড়ায় রদবদলের ইঙ্গিত মিলেছে। এবার কার্যত সেই ইঙ্গিতেই শিলমোহর। ইমপার (EIMPA)...