Wednesday, April 22, 2026

ওয়ার্ল্ড এমএসএমই ডে: বাংলার উদীয়মান শিল্পের টেকসই বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা

Date:

Share post:

বিশ্ব এমএসএমই দিবসই (World MSME Day) ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের উদযাপনের উপযুক্ত দিন। কর্মসংস্থান তৈরি থেকে আয় ও মহিলা-যুবদের সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি এই এমএসএমই। তাই এমএসএমই দিবস উপলক্ষে শুক্রবার কলকাতার একটি হোটেলে বেঙ্গল মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল এমএসএমই কনফারেন্স ২০২৫ (MSME Conclave 2025)। আলোচনায় উঠে এল রাজ্যে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ছোট শিল্পের (এমএসএমই) সম্ভাবনার পাশাপাশি গ্লোবাল ভ্যালু চেইন্সের আবশ্যিকতা ও সক্ষমতা, উদ্ভাবনী, আত্মবিশ্বাসের রফতানির পক্ষে।

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এনডিআইটিএ (NDITA) চেয়ারম্যান ও মার্লিন গ্রুপের চেয়ারম্যান সুশীল মোহতা আলোচনায় উল্লেখ করেন, বাংলায় এমএসএমই-র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (BCC&I) বাংলার সরকারের ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রকের সহযোগিতায় এমএসএমই কনক্লেভের আয়োজন করা প্রসঙ্গে  ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

কনক্লেভে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সরকারের ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র, কেন্দ্র সরকারের এমএসএমই বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সুদীপ পাল। এছাড়াও ইডিসিআই প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জয় নাথ, ন্যাশানাল এমএসএমই কমিটির চেয়ারপার্সন সুপ্রিয় ঘোষ ও বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের ডিরেক্টর জেনারেল শুভদীপ ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

এদিন আলোচনায় উঠে আসে, বাংলা অন্তত ৯০ লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের আঁতুড়ঘর। ভারতের ২১ শতাংশের বেশি এমএসএমই এখানে রয়েছে। এই কর্মক্ষেত্রগুলিতে ১.৩৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করে। এর মধ্যে ৩২.৭ শতাংশ কর্মী মহিলা। এই ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ১,২২৯ কোটি অর্থ বরাদ্দ করেছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংগঠন এনডিআইটিএ-র (NDITA) পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বাংলার পাশে থাকার। বিশ্বের বাজারে প্রবেশ, বাণিজ্যে মেধা ও লগ্নির সুবিধার বিষয়গুলিতে সহযোগিতা করার বার্তা দেওয়া হয়। এই দুই ক্ষেত্রে কীভাবে সহযোগিতা করা হবে তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয় কনফারেন্সে।

ছোট শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রফতানি সম্ভাবনা, এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকগুলো নিয়ে একটি টেকনিক্যাল সেশনও অনুষ্ঠিত হয়। সব মিলিয়ে, এদিনের আলোচনায় স্পষ্ট — রাজ্যে ও দেশে এমএসএমই (MSME) শিল্পে সম্ভাবনা বিপুল, কিন্তু নীতি ও পরিকাঠামোগত সমর্থন ছাড়া সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন কঠিন।

Related articles

ফায়ার স্টেশন থেকে পোর্টের জমি পুনরুদ্ধার! বড়বাজারের ভোলবদলের কথা মনে করিয়ে দিলেন নেত্রী

বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা বড়বাজারের জমি পুনরুদ্ধার থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য কমিটি— তৃণমূল জমানায় বড়বাজার এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার। মঙ্গলবার...

ড্রাই ডে করল কে? কমিশনের প্রশাসন আর সিইও-র দায় ঠেলাঠেলি!

রাজ্যের প্রশাসনের সব ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে। অথচ কমিশনের নির্দেশ ছাড়া না কি কাজ করছে আবগারি দফতর! রাজ্যে...

ডিএ বৃদ্ধি-প্রকল্প ঘোষণা জুমলা সরকারের ‘নির্বাচনী টোপ’! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন নেত্রী

বাজেটে কোনও ঘোষণা করেনি কেন্দ্র। ভোটের মুখে বিধি ভেঙে মাতৃশক্তি কার্ড বিলি, আবার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ২ শতাংশ...

তৃণমূল নেত্রীকে কমিশনের নিষেধাজ্ঞা! পতাকা-প্রতীক ছাড়াই আড্ডা মমতার

কখনও হেলিকপ্টার উড়তে বাধা। কখনও সভা করতেই অনুমতি নেই। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর জন্য হরেক নিয়ম লাগু করার জন্যই নির্বাচন...