Tuesday, February 3, 2026

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দাবি মেনেই নয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ নির্বাচন কমিশনের

Date:

Share post:

কিছুদিন আগেই বিহারে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশনের উদাহরণ দিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রক্রিয়ার নানা নিয়ম কানুন নিয়েও দিঘা থেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার কয়েক দিনের মধ্যেই বিশেষ বা নিবিড় সমীক্ষা নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সামনেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন আর তার আগে জাল ভোটার রুখতে ভোটার তালিকা সাফাইয়ের কাজে হাত দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। জানা যায় ওই রাজ্যে ২০০৩ সালে ভোট তালিকার বিশেষ সংশোধন হওয়ার সময় ভোটার সংখ্যা ছিল ৪.৯৬ কোটি। তবে বিহারে এই মুহূর্তে ৭,৮৯,৬৯,৮৪৪ জন ভোটার রয়েছেন। এঁদের সকলের বাড়ি গিয়ে একটি এনুমেরেশন ফর্ম (ইএফ) দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের নাম পুরনো তালিকায় রয়েছে তাঁদের শুধু ইএফ ফর্মটি পূরণ করে জমা দিলেই হবে। আলাদা নথি দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু যাঁরা নতুন, তাঁদের ‘ডিক্লারেশন ফর্ম’-এর সঙ্গে নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ বাড়তি নথি জমা দিতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির পরেই নড়েচড়ে বসে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের তরফে এবার জানানো হয়, যে সকল ভোটার ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেছেন তাঁদের জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের সপক্ষে তালিকায় উল্লেখিত ১১টি নথির মধ্যে যে কোনও একটি জমা দিতে হবে। ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে যাঁদের জন্ম, তাঁদের জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণ হিসেবে একটি নথি এবং তাঁদের বাবা বা মায়ের জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণ রয়েছে এমন একটি নথি জমা দিতে হবে। ২ ডিসেম্বর ২০০৪ তারিখের পরে যারা জন্মগ্রহণ করেছেন, তারা নিজের জন্মতারিখ ও জন্মস্থানের প্রমাণ হিসাবে যে কোনও একটি নথি এবং বাবা-মায়ের জন্মতারিখ ও জন্মস্থান প্রমাণের নথি জমা দেবে। যদি কারও বাবা কিংবা মা ভারতীয় না হন, সে ক্ষেত্রে তাঁর পাসপোর্ট ও সন্তান জন্মের সময়কার ভিসার কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

সোমবার ফের নতুন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আগের নিয়ম বদল করল কমিশন। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিহারের ২০০৩ সালের ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। সেখানে নথিভুক্ত ৪.৯৬ কোটি ভোটারকে নতুন করে কোনও নথি জমা দিতে হবে না। এই ৪.৯৬ কোটি ভোটারের স্বীকৃতির জন্য বাবা কিংবা মায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও নথিও জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কারোর যদি ২০০৩ সালের বিহারের ভোটার তালিকায় নাম না থাকে, সে ক্ষেত্রে তিনি নিজের বাবা কিংবা মায়ের অন্য কোনও নথির পরিবর্তে ২০০৩ সালের ভোটার তালিকাটি ব্যবহার করতে পারবেন। তাহলে এখন মোট ভোটারদের প্রায় ৬০ শতাংশকে কোনও নথি জমা দিতে হবে না। শুধু ২০০৩ সালের ভোটার তালিকা থেকে নিজেদের সব তথ্য যাচাই করে আবেদন বা গণনা ফর্ম জমা দিতে হবে।

spot_img

Related articles

উল্টো চাল দিতে গিয়ে বিপাকে পাকিস্তান! বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিতে ফিরছে ‘গম্ভীর’ বার্তার প্রসঙ্গ

বাংলাদেশকে (Bangladesh cricket team) বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ‘অজুহাত’ দেখিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের...

আমেরিকার শুল্ক কমতেই চাঙ্গা শেয়ার বাজার! বিনিয়োগকারীদের মুখে চওড়া হাসি

ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক কমতেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠল দালাল স্ট্রিট (Dalal Street)। মঙ্গলবার একধাক্কায় প্রায় ২...

বিধায়ক হতে চান সেলিম, জোটে মরিয়া হয়ে ‘হুমকি’ দিচ্ছেন: বিস্ফোরক অভিযোগ কংগ্রেস মুখপাত্র অশোকের

মহম্মদ সেলিম (Md Selim) বিধায়ক হতে চান বলে জোটে মরিয়া। আর তার জন্য নিজেদের দলের কমরেডদের দিয়ে কংগ্রেস...

সন্দেশখালি থানার পুলিশের বড় সাফল্য: লুঠের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বমাল ধৃত ডাকাতদল

সন্দেশখালি থানার (Sandeshkhali PS) পুলিশের বড় সাফল্য। ডাকাতি (Robbery ) হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লুঠ হওয়া গয়না, নগদ-সহ...