Thursday, June 18, 2026

বামপন্থী আইনজীবী-নেতাদের বিতর্কিত ছবি বিচারপতিদের হাতে দিয়ে দ্বিচারিতার মুখোশ খুলে দিলেন কল্যাণ

Date:

Share post:

আদালত অবমাননা মামলায় সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চের সামনে সিপিএম ও বিরোধীদের কিছু আইনজীবী ও নেতার দ্বিচারিতার মুখোশ খুলে দিলেন তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) তরফের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। এদিন কুণালের হলফনামার ব্যাখ্যা করেন তিনি।

বিচারপতিদের হাতে এখন সব ছবি আছে। যাঁর বা যাঁদের হয়ে চাকরি চাইছিলেন CPIM নেতারা, এখন তাঁদের চাকরির বিরোধিতা করছেন, তাঁদের নামেই মামলা করছেন। সিপিএমের নোংরা দ্বিচারিতা কুণালের হলফনামায় সবিস্তারে ছবি-সহ রয়েছে। যাঁকে পাশে নিয়ে ছবি, আজ সেই নাকি ওদের এক নম্বর অভিযুক্ত। এসব মুখোশ এদিন আদালতে খুলে দিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

SLST শারীরশিক্ষা, কর্মশিক্ষা প্রার্থীদের আদালত চত্বরে এক বিতর্কিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এই আদালত অবমাননার মামলা। প্রধান বিচারপতি এই মামলার জন্য তিন বিচারপতির একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনের সঙ্গে একদম শেষে কুণাল ঘোষের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বিক্ষোভ চলাকালীন চত্বরেই উপস্থিত ছিলেন না। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে রাম-বাম মৃত এই ষড়যন্ত্র করে। ঘটনার দিনে কুণাল বিতর্কিত ঘটনাস্থলে ছিলেন না- তার প্রমাণ এদিন আদালতে পেশ করা হয়। বিকাশ ভট্টাচার্য, ফিরদৌস শামিমরা যে কর্মপ্রার্থীদের আন্দোলনে মঞ্চে গিয়েছেন, তাঁদের হয়ে মামলা লড়েছেন, তাঁরা চাকরি পাওয়ার পরে তাঁরাই সেই চাকরির বিরোধিতা করে মামলা করেছেন। এই দ্বিচারিতা নীতিগতগতভাবে ঠিক নয়। কল্যাণ আদালত জানান, কর্মপ্রার্থীদের এই ক্ষোভই সাংবাদিক বৈঠকে বারবার তুলে ধরেন কুণাল ঘোষ।

কল্যাণের কথায়, শুধু পেশাদার আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ আইনজীবীর তফাৎ আছে। যাঁরা মঞ্চে যান, একের পর এক টিভি চ্যানেলে গিয়ে রাজনৈতিক বিবৃতি দেন, মুখ্যমন্ত্রী-সহ সরকার ও দলের সমালোচনা করেন। তৃণমূলের মুখপাত্র হিসেবে এই সবের জবাব দেওয়ার অধিকার আছে কুণাল ঘোষের আছে।

কুণালের আইনজীবী হাই কোর্টে (Calcutta High Court) জানান, বিচারব্যবস্থা, আদালত, বিচারপতিদের পূর্ণ সম্মান করেন। কিন্তু অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের চেয়ারে বসে রাজনৈতিক সংলাপ, চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যাওয়ার ঘটনায় সামগ্রিকভাবে বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তিতে কিছুটা ধাক্কা লেগেছে।

এর পরেই কল্যাণ জানান, এটা আদালতের ‘সুয়ো মোটো’ মামলা হতে পারে না। কারণ কেস রেকর্ডে একপক্ষের পিটিশনের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। সেই পিটিশন এবং আইনি পদ্ধতি কেন যথাযথ হয়নি, ব্যাখ্যা করেন আইনজীবী।

এই আদালত অবমাননার মামলার দ্বিতীয় দিনেও কুণালের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল শেষ হয়নি। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি। কল্যাণের সঙ্গে এদিন কুণালের তরফের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অয়ন চক্রবর্তী, রাহুল মিশ্র। এই মামলাতেই কোর্টে ছিলেন আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যও।

Related articles

লড়াই এবার প্রকাশ্যে, ক্রীড়ামন্ত্রীকে অভিষেকের পাল্টা চিঠি সৌরভের

  বুধবার ইন্দ্রনীল খাঁ-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়(Sourav Ganguly)। বুধবার নব মহাকরণে ক্রীড়া দফতরে যান সৌরভ,...

কালীঘাটে মমতার বাড়ির পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহার! তৃণমূলনেত্রীর সুরক্ষা নিয়ে অভিযোগ ডেরেকের

হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের চেনা ছবিটা বদলে গিয়েছিল আগেই। গলি থেকে সরে গিয়েছিল পুলিশের ব্যারিকেড ও গার্ডরেল। তবে প্রাক্তন...

যোগ দিবসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক কেন? রেড রোড বন্ধ নিয়েও মামলা হাই কোর্টে

২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহল। ওই দিন কলকাতার রেড রোডে...

বিরোধী দলনেতা নিযুক্তি মামলা, ফের বিচারপতির প্রশ্নবাণে নাজেহাল স্পিকার

বুধবার শেষ হল তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করা নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে...