Tuesday, June 16, 2026

নিজভূমে পরবাসী! ঘরে ফিরছে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা, বাকিরা আতঙ্কের প্রহর গুণছে

Date:

Share post:

শুধুমাত্র কান ফিসফিস ক্যাম্পেন। আর তাতেই নিজভূমে পরবাসী বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। যেন তারা এই দেশেরই বাসিন্দা নন। এই বিশ্বাসটাই এমনভাবে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে গেঁথে দেওয়া হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষই আর মানুষকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। হরিয়ানার (Haryana) গুরুগ্রামে সেই আতঙ্কে হরিয়ানা ছেড়ে বাংলায় ফিরে এসেছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা (migrant labour)। যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাও ভয়ে কাঁটা। যদিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে গুরুগ্রামের অধিবাসী পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারগুলিকে সব রকম সাহায্যে আশ্বাস দেওয়া হয় মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের (MWWB) তরফে।

ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে বাঙালিদের দেখলেই বাংলাদেশি (Bangladeshi) বলে দাগিয়ে দিচ্ছে খোদ প্রশাসন। তার মধ্যে অন্যতম হরিয়ানার গুরুগ্রাম। যেখানে একাধিক শ্রমকিকে নৃশংস মারধর পর্যন্ত করা হয়েছে। হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেই পরিযায়ী পরিবারগুলি কেমন আছে, দেখতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলামের (Samirul Islam)। তিনি জানান, প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে গুরুগ্রামের ওই সব এলাকায় বসবাসকারী পরিযায়ী শ্রমিকদের বড় অংশ ফিরে গিয়েছে বাংলায়। যারা রয়ে গিয়েছে কাজ ও পরিবারের তাগিদে, তাদের চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে। তার কারণ শুধুমাত্র তারা বাংলায় (Bengali) কথা বলে।

কেন এই পরিবেশ, তার বর্ণনা দিতে গিয়ে তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ দাবি করেন, বিজেপি এমন অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে যাতে সামান্য বাংলা ভাষায় (Bengali) কথা বললে স্থানীয় বাসিন্দারা সেই বাঙালিদের বাংলাদেশি (Bangladeshi) বলে দাগিয়ে দিচ্ছে। সেখানে বিজেপির বাংলাবিরোধী অবস্থান স্থানীয় মানুষের মধ্য়ে এমন এক অদ্ভুত ভেদাভেদ তৈরি করে দিয়েছে। যে দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একজন নাগরিক হিসাবে যেমন অধিকার, ততটাই অধিকার এই পরিযায়ী শ্রমিকদের। সেখানে বিজেপির বিভেদ নীতির জন্য এরা নিজভূমেই পরবাসী।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে হামলার মুখে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি: ২২শে শ্রাবণ ভারতের সদর্থক উত্তর দাবি অভিষেকের

যদিও স্থানীয় যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমকিরা গুরুগ্রামে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন, তাঁদের যে কোনও সমস্যায় দ্রুত যোগাযোগ করার বার্তা দিয়ে আসেন মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা সাংসদ সামিরুল ইসলাম। সেই সঙ্গে যে কোনও সমস্যায় রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দেওয়া হয়।

Related articles

ত্রাণের আড়ালে আপত্তিকর সামগ্রী? অনন্যার কার্যালয় ভাঙচুর করে চক্রান্তের অভিযোগ বিজেপির

১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যালয় ঘিরে বিতর্ক। কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়টি আদৌ সাধারণ মানুষের কাজের জন্য নাকি অন্য কোনও...

পশ্চিমবঙ্গ দিবসে স্কুলগুলোকে ছবি পাঠানোর ফতোয়া, নজরদারির অভিযোগে সরব শিক্ষক মহল

শিক্ষাঙ্গনে এবার নয়া নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে শুরু হলো জোর বিতর্ক। রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকার পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে...

নিয়োগ মামলা: ইডি দফতরে টানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, তদন্তে সহযোগিতার বার্তা অভিষেকের

প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সল্টলেকের সিজিও...

নারী-বিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ! কল্যাণের বরখাস্ত চেয়ে স্পিকারকে চিঠি কাকলির

লোকসভার অন্দরেই এবার সরাসরি সংঘাতে জড়ালেন দুই বর্ষীয়ান সাংসদ। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নারী-বিরোধী মন্তব্য ও...