আমরা ডিএ দিচ্ছে না— এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বৃহস্পতিবার রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। তিনি আদালতে বলেন, বিষয়টি একান্তভাবেই সাংবিধানিক। সরকারি কর্মীদের চাকরির শর্ত নির্ধারণ করা রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত। তবে তাঁর এই মন্তব্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন বিচারপতি পিকে মিশ্র। তিনি বলেন, আমরা কোনও ধারণা তৈরি করিনি। আপনিই বলেছিলেন, রোপা অনুযায়ী ডিএ দেওয়া হবে, বকেয়াও মেটানো হবে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে নিজেই রুল মানতে হবে।

সরকারি কর্মীদের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী রউফ রহিম। তিনি অভিযোগ করেন, ‘রাজ্য সরকার কোনও নির্দিষ্ট নীতিনির্ধারণ ছাড়াই খেয়ালখুশি মতো ডিএ দিচ্ছে। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, এবং সরকার সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে।এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মিশ্র বলেন, রাজ্য সরকার নিজেরাই সমস্যা তৈরি করেছে, এবং সেই সমস্যার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। কর্মীদের আর্থিক অবস্থার দিকটা ভাবা জরুরি।’’ ডিভিশন বেঞ্চের অপর বিচারপতি সঞ্জয় করোলের মন্তব্য, এটা কোনও আর্থিক জরুরি অবস্থা নয়, মাথায় রাখতে হবে বিষয়টি মানবিকও।
বাম আমলে ডিএ বকেয়ার প্রসঙ্গও উঠে আসে শুনানিতে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আইনজীবী গোপাল সুব্রহ্মণ্যম জানান, ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ের ডিএ arrear এখনও দেওয়া হয়নি। যদিও ROPA Rules, ২০০৯ অনুযায়ী তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। তিনি আরও বলেন, দিল্লির বঙ্গভবন, নয়াদিল্লি এবং চেন্নাইয়ের ইউথ হোস্টেলে কর্মরত রাজ্য সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পাচ্ছেন। সেখানে All India Consumer Price Index অনুযায়ী হিসাব হচ্ছে। অথচ রাজ্যের ভিতরে কর্মরত কর্মীরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। এটা অসাম্য সৃষ্টি করছে। শুনানিতে শ্যাম দিওয়ান জানান, ২০০৯ সালে তৈরি রোপা-র নীতিতেই বলা হয়েছিল, দিল্লি ও চেন্নাইয়ের জীবনযাত্রার ব্যয় বিচার করে ডিএ নির্ধারণ হবে।

সব মিলিয়ে, ডিএ ইস্যুতে রাজ্য বনাম কর্মচারীদের টানাপোড়েন আরও চড়েছে। শীর্ষ আদালতের কড়া মন্তব্যের পর রাজ্য সরকার এবার কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। আগামী শুনানিতে রায় কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।

আরও পড়ুন- INDIA-র নৈশভোজে বিজেপি-কমিশনের কারচুপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কৌশল আলোচনা রাহুল-অভিষেকদের

_

_

_
_
_
_
_
_
_
_
