Wednesday, May 13, 2026

জীবন সোজা নয়, উৎপল সিনহার কলম 

Date:

Share post:

কাছে থাকো । ভয় করছে ।

মনে হচ্ছে এ মুহূর্ত বুঝি সত্য নয় । ছুঁয়ে থাকো । শ্মশানে যেমন থাকে দেহ ছুঁয়ে একান্ত স্বজন । এই হাত , এই নাও , হাত ।

এই হাত ছুঁয়ে থাকো , যতক্ষণ কাছাকাছি আছো , অস্পষ্ট রেখো না । ভয় করে , মনে হয় , এ মুহূর্ত বুঝি সত্য নয় ।যেমন অসত্য ছিল দীর্ঘ গতকাল । যেমন অসত্য হবে অনন্ত আগামী ।

এ লেখা কি লিখতে পারেন যে কোনো কবি ? এমন লিখতে হলে নারী হতে হয় । নারী শরীর । নারী হৃদয় । নারী অস্তিত্ব । দেশকাল নির্বিশেষে এ লেখা কি সমস্ত নারীর মনের কথা নয় ?

নারীর তীক্ষ্ম আতস চোখে কিভাবে যেন ধরা পড়ে যায় সত্যের অপলাপ ।

ছোটো ছোটো মিথ্যা

জুড়ে জুড়ে

মস্ত এক সত্য গড়ে ওঠে

সেই সত্য আর সব সত্যকে

গুঁড়িয়ে মিথ্যা করে দেয় ।

সেই মিথ্যা এখন জীবন ।

কবি-দম্পতির কন্যা নবনীতা কবি হবেন উত্তরাধিকার সূত্রে , সে আর আশ্চর্য কি ?

অধ্যাপিকা , তুলনামূলক সাহিত্যে তাঁর প্রশ্নাতীত বৈদগ্ধ , তুমুল জনপ্রিয়তা ।

তবু আমৃত্যু সহজ সরল মাটির মানুষ । এই আমাদের ভালোবাসার কবি নবনীতা দেবসেন । ‘ প্রথম প্রত্যয় ‘ কাব্যগ্রন্থ দিয়ে শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ কবিতা সফর । গদ্যেও তিনি চমৎকার ।

এত ঢাকঢাক-গুড়গুড়ের

আছেটা কি মশাই

ভণ্ডামি ছেড়ে যা বলার

সোজাসুজি বলুন ।

দেখুন , জীবন সোজা নয়

জীবনে কিছুই সোজা যায় না

এমনকি হাত থেকে ঢিলটা ছুঁড়লেও সেটা প্যারাবোলা হয়ে বেঁকে পড়ে । তবে প্যারাবোলার কঠোর বাস্তব থেকে মাঝেমধ্যেই ছিটকে বেরোয় আশাবরী ছড়া ।

সোনার হরিণ হারালে হারাবো

কী আর করা ।

বৃষ্টি ঝরে না কতকাল শুধু

শুকনো খরা ।

সুতনুকা নদী শুকিয়ে হলো কি বালির চড়া ।

সোনার হরিণ সোনার হরিণ

হীরের চোখ ।

ঝরাক বৃষ্টি সোনালি ধানের

ফসল হোক ।

মূর্ত হয়ে ওঠে গোপন ব্যক্তিগত স্বপ্ন । মায়াময় ।

ভালোবাসা মাখা ।

কেউ বলুক না বলুক

তুমি সব জানো ‌।

তবু কোথাও পাহাড় আছে

ছোটো কথা , বড়ো কথা ,

ছোটো দুঃখ , বড়ো বেদনা

সব ছাড়িয়ে মস্ত এক

হাসির পাহাড় ।

একদিন সেই পাহাড়ে

ঘর বাঁধবো তোমার সঙ্গেই ।

এই কবির প্রেমিক কলকাতা।

প্রেমিকের কাছে পেশ করেন সর্বস্ব সমর্পনের আর্জি । প্রেমিকের বিরহদশা সহ্য হয় না তাঁর ।

আবার সময়-সমাজ-দেশকাল নিয়ে কবির উদ্বেগ বড়ো কম নয় ।

লিখে চলেন অস্থির , চুড়ান্ত বিপথগামী সময়ের ভাষ্য । শেষে কার জয় ? আলোর ? নাকি অন্ধকারের ? লিখে ফেলেন মনের কথা ।

কী পাইনি সেটা দেখতে গেলেই দুঃখ । কী দিইনি সেটা দেখতে হয় , সেখানেই সুখ । যে-কোনো মানবিক সম্পর্কের গোড়ার কথা এবং শেষের কথা এইটে ।

পাওয়াটা তোমার নিজের হাতের মধ্যে নয় , দেওয়াটা নিজের ক্ষমতার মধ্যে ।

সূর্যদেবকে কবি মনে করান

কুন্তির কথা ।

কামনা করেন সমকালের মানবসভ্যতার সুস্থতা ।

শুধু তুমি সুস্থ হবে ।

আমি দিয়ে দেবো আমার

কোজাগরীর চাঁদ ,

শাদা দেওয়ালের

ময়ূরকণ্ঠী আলো ,

দিয়ে দেবো বিগত বছরের

মরা পাখির মমতা ,

আর আগামী বছরের

কলাগাছটির স্বপ্ন ।

Related articles

জীবন যুদ্ধে হার মানলেন, টুটুহীন মোহনবাগান

লড়াই শেষ, জীবনযুদ্ধে হার মানলেন স্বপন সাধন বোস। ভারতীয় ফুটবলে যিনি পরিচিত টুটু(Tutu Bose) নামে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস...

বিরাট ধাক্কা আসতে চলেছে: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাসের পরই সতর্ক করলেন শিল্পপতি

একদিকে দেশের প্রধানমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতির মতো কাজে ফেরার বার্তা দিচ্ছেন। অন্যদিকে তাঁরই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী কেন্দ্রের সরকারের জ্বালানি (fuel)...

স্কুলবেলা থেকে মুখ্যমন্ত্রী! আজও ‘রবিদা’র সেলাইয়েই ভরসা শুভেন্দু অধিকারীর

রাজনীতিতে অনেক বদল এসেছে, সময়ের নিয়মে পদেরও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু রুচি এবং ভরসায় বিন্দুমাত্র বদল আনেননি রাজ্যের নতুন...

পরবর্তী পরিকল্পনা নির্ধারণ: বুধে ৪১ দফতরের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরে দ্রুততার সঙ্গে দফতরগুলিকে সক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu...