পুজোর ছুটিতে ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়তে ভালবাসেন অনেকেই। আর নেপাল (Nepal) তো সব সময়ই বাঙালির প্রিয় ডেস্টিনেশন। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ভূমি ধসে বিধ্বস্ত, কাশ্মীরে বানভাসী, সঙ্গে জঙ্গি হামলার ক্ষত- ফলে পাহাড়প্রেমী ভ্রমণ পিপাসুরা চেয়েছিলেন নেপাল যেতে। কিন্তু সেখানে যা পরিস্থিতিতে সেই আশায় ঠান্ডা জল। আর তাতে মাথায় হাত পর্যটন (Tourism) ব্যবসায়ীদের।
নেপাল (Nepal) হিমালয়ের কন্যা। ছোট্ট হলেও বিশ্বের কয়েকটি উচ্চতম পর্বতের দেশ ঘেরা চারদিকে পর্যটকের টানে। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে বহু বাঙালি ভেবেছিলেন ভ্রমণের গন্তব্য করবেন এই পাহাড়ি রাষ্ট্রকে। ইতিমধ্যেই টিকিট কাটা থেকে হোটেল বুকিং-সবই এগিয়েছিল। কিন্তু এভারেস্টের দেশ এখন বিদ্রোহে জ্বলছে। গণবিক্ষোভে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, পালাচ্ছেন একাধিক মন্ত্রী।

কলকাতার নামী ট্রাভেল (Travel) সংস্থাগুলির দাবি, সেপ্টেম্বরে-অক্টোবরে বিশেষ ট্যুর প্যাকেজ সাজানো হয়েছিল। এখন বুকিং বাতিলের আশঙ্কায় দিশেহারা ব্যবসায়ীরা। উত্তরবঙ্গের ট্রাভেল অপারেটরদের কথায়, গত ২ বছরে নেপালে ভারতীয়, বিশেষ করে বাঙালি পর্যটকের ভিড় বেড়েছিল। গত বছর তো রেকর্ড সংখ্যক বাঙালি ঘুরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিদ্রোহের আগুনে মুহূর্তে বদলে গিয়েছে ছবি।

অনেকে ভাবছেন এই পরিস্থিতিতে নেপাল ভ্রমণ কতটা নিরাপদ হবে। নিরাপত্তার কারণে অনেকেই বুকিং বাতিল করতে চাইবেন বলে আঁচ ট্রাভেল এজেন্টদের। আশঙ্কা, এতে পর্যটন সংস্থাগুলি বিরাট আর্থিক ক্ষতির মুখে পুড়বে। সীমান্তে ইতিমধ্যেই জারি হয়েছে হাই অ্যালার্ট। রাজ্যের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, “নেপালের পরিস্থিতি অস্থির থাকলে পর্যটনের উপরে খারাপ প্রভাব পড়বেই।“ তিনি জানান, নেপালের অর্থনীতির বড় ভরসা পর্বতারোহণ। বিশ্বের দশটি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে ৮টি রয়েছে নেপালে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় ট্যুর বাতিল হলে ক্ষতি হবে ভারতীয় সংস্থাগুলিরই নয়, নেপালের অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা লাগবে।

